বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
দিবাকর বিশ্বাস
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বাবাকে নিয়ে চার শিল্পীর আবেগঘন গল্প

আঁখি আলমগীর, মিম, সম্রাট ও টয়া। ছবি- সংগৃহীত
আঁখি আলমগীর, মিম, সম্রাট ও টয়া। ছবি- সংগৃহীত

বাবা ছোট একটি শব্দ, কিন্তু এর গভীরতা অনেক বড়। সব সন্তানের কাছেই পরম ভালোবাসা, আর নির্ভরতার অপর নাম বাবা। আজ বাবা দিবস। বিশেষ এই দিনে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন শোবিজের চার শিল্পী। লিখেছেন—দিবাকর বিশ্বাস

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। এই অভিনেত্রীর জন্মের সময় তার বাবা বীরেন্দ্র নাথ সাহা ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। ছোট সময় থেকেই বাবার সঙ্গে মিমের সম্পর্ক বন্ধুর মতো। বাবা দিবসে মিম বলেন, ‘বাবাকে বলা হয় নাই এমন কোনো লাইন নাই। আমি খুবই সোজাসাপটা টাইপের ছোটবেলা থেকে। আমি যদি ভালোবাসি তাহলে সোজা বলে দেই ভালোবাসি। বাবাকে সব সময় বলি, বাবা আই লাভ ইউ ।’ বাবা দিবসে পৃথিবীর সব বাবার প্রতিই ভালোবাসা জানিয়ে মিম বলেন, ‘বাবা দিবসে সব বাবাকে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।’

নায়করাজ রাজ্জাকের ছোট ছেলে খালিদ হোসেন সম্রাট। ১৫টির মতো সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন। মাঝে মাঝে তাকে নাটকেও অভিনয় করতে দেখা গেছে। বর্তমানে পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত তিনি। বিখ্যাত বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সম্রাট বলেন, ‘আমার আব্বা আমার সব। উনি জীবিত থাকতে যা কিছুই করেছি সবকিছুতে ওনার অনুমতি নিতাম।’

রাজ্জাক মারা যান ২০১৭ সালে। বাবার শেষ দিনগুলোর কথা স্মৃতিচারণ করে সম্রাট বলেন, “২০১৫ সালে হাসপাতালে আব্বা কোমায় ছিলেন। একবার জ্ঞান ফিরলে আমাকে ডেকে বললেন, ‘আমাকে এখানে রেখেছ কেন? চলো বাসায় যাই। আব্বাকে বললাম, আপনি সেন্সলেস ছিলেন। আব্বা বিষয়টি মেনে নিতেই পারেননি। পরে স্বাভাবিক হলেন। শেষের দিকে ওনার মনোবল ভেঙে গিয়েছিল, আর বোধহয় কাজ করতে পারবেন না, চলাচল করতে পারবেন না। আমাকে বললেন, ‘আমি কি কাজ করতে পারব?’ বললাম কেন পারবেন না? আপনি সুস্থ আছেন। ওনাকে নিয়ে দুটো টেলিফিল্ম নির্মাণ করি। ওনার আত্মবিশ্বাস বাড়ল।”

সন্তানদের প্রতি বাবার ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে সম্রাট আরও বলেন, ‘২০০০ সালের পরে বাংলা চলচ্চিত্রে যখন অশ্লীলতা শুরু হলো, ভালো সিনেমার কাজ কমে গেল, ওনার কষ্টগুলো দেখতাম। আব্বা কখনো চাইতেন না ওনার সন্তানদের কোনো কষ্ট হোক। উনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন আমাদের ভালো রাখার। এ জন্য কলকাতায় গিয়েও সিনেমা করেছেন। ওনার কষ্টগুলো বুঝতে দেননি। উনি সব সময় একটা ব্যাপার নিশ্চিত করে গেছেন, উনি না থাকলেও আমরা যেন ভালো থাকতে পারি।’

ব্যক্তিগত জীবনে এখনো বাবার পরামর্শ মেনে চলেন সম্রাট। এ প্রসঙ্গে এই অভিনেতা বলেন, ‘উনি প্রায়ই বলতেন কখনো অহংকারী হবে না, মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবে না। সিনেমা নিয়ে বলতেন, এখানে দর্শকের হাততালি আর টাকার গরম হঠাৎ করে হবে। তবে যে হজম করতে পারবে, তার ক্যারিয়ার ভালো হবে আর যে পারবে না সে হারিয়ে যাবে। ওনার উপদেশগুলো এখনো মেনে চলি।’

সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেতা আলমগীরের মেয়ে। বিখ্যাত বাবার সন্তান তিনি। বাবা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে যেন অনেকটাই আবেগাপ্লুত আঁখি। কালবেলাকে এই কণ্ঠশিল্পী বলেন, ‘আমার কাছে প্রতিটি দিনই বাবা-মা দিবস। আমার বাবা আমার কাছে নিরাপত্তা আর আস্থার জায়গা। জীবনে ঝড়ঝাপটা যতই আসুক, মনে হয় বাবা সব ঠিক করে দিতে পারবে।’

নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আঁখি বলেন, ‘ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বাবা কর্মসংস্থান করে না দিলেও গান গাওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন। উনি ভীষণ আত্মমর্যাদাশীল মানুষ, আমাকেও সেভাবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছেন। শিল্পী আঁখি আলমগীর থেকেও ব্যক্তি আঁখি আলমগীর যে মাথা উঁচু করে চলতে জানে, তার পেছনে নব্বই ভাগ বাবার অবদান।’

নিজের ব্যক্তিত্ব গঠনে বাবার অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে এই কণ্ঠশিল্পী আরও বলেন, ‘আমার ব্যক্তিত্ব গঠন, আমি যেভাবে চলি সেখানে বাবার অবদান অনেক বেশি। আর শিল্পী আঁখি আলমগীরের ক্ষেত্রে গান শেখানো, উৎসাহ দেওয়া—সব তিনি দিয়েছেন।’

মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া বাংলাদেশের জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা, বিজ্ঞাপন—সব জায়গাতেই তার সরব উপস্থিতি। বাবা দিবসে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী। রক্ষণশীল পরিবার থেকে মিডিয়ায় এসেছি আমি। যখন এখানে কাজ করতে এলাম তখন ওনার উদ্বেগ কাজ করত; কিন্তু যখন আমার কাজ দেখলেন আমার ভীষণ ভক্ত হয়ে গেলেন। আমার কাজ কেউ দেখুক বা না দেখুক উনি দেখেন। টিভিতে আমাকে দেখলে যে মানুষটা সবচেয়ে খুশি হন, তিনি আমার বাবা।’

ক্যারিয়ারে টয়ার যতটুকু অর্জন, সেটা বাবার সাপোর্ট ছাড়া সম্ভব হতো না বলেও মনে করেন এই অভিনেত্রী। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে টয়া আরও বলেন, ‘আমাদের বাড়ি রাঙামাটি। বাবার কাঁধে উঠে বসে থাকতাম। কোলে কোলে ঘুরে বেড়াতাম। আমার শৈশবের পুরোটাজুড়েই বাবা-মা।’

এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘বাবার সাপোর্ট থাকলে একজন মেয়ে তার জীবনে অনেক সফল হতে পারে। বাবার হাত মেয়ের মাথার ওপর থাকলে প্রতিটি মেয়ের চলার পথ সহজ হয়। সব বাবা সুস্থ থাকুক, নিরাপদ থাকুক, ভালো থাকুক।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

টেকসই ব্যাংকিং নিশ্চিতে ট্রেড ফাইন্যান্সের আধুনিকায়ন অপরিহার্য: বিআইবিএম

মানহীন-ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যপণ্য / ডিএসসিসির মামলায় ৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ক‌্যানসার আক্রান্ত শিক্ষক সাজু বাঁচতে চান

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

৯৬ বছরের ইতিহাসে যা কোন দল পারেনি এবার কি তাই করে দেখাবে স্পেন?

শান্তিরক্ষা মিশনে জ্ঞান ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির ওপর বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মেসিরা উঠলেই বদলে যাবে ফাইনালের রেফারি!

বান্দরবানে বন্যার্তদের পাশে বিজিবি

ফিফা থেকে রেকর্ড ‘পুরস্কার’ পাচ্ছে মিশর

১০

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত সেনা সার্জেন্ট সেলিমের লাশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

১১

শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, সন্দেহের তীর মা ও সৎ বাবার দিকে

১২

নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে মামলা, আসামি শতাধিক

১৩

এইচএসসিতে নকলের দায়ে ৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি

১৪

হলে ছাত্রদল নেতার সিট দখল ও মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

১৫

টানা বর্ষণে পেকুয়ায় জনজীবন স্থবির, প্লাবিত অন্তত ২০ গ্রাম

১৬

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

১৭

চবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা

১৮

সালমান খানের নতুন লুক ভাইরাল, ভক্তদের উচ্ছ্বাস

১৯

আবারও শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার ঘোষণা

২০
X