

বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্স ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং এবং মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও পেনাংসহ নতুন কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় কক্সবাজারে একটি হোটেলে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্সের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে ইউএস–বাংলার যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এগুলো দিয়ে দেশের ছয়টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক রুট মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।’
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নিরাপত্তা, সেবার মান, পরিচালন দক্ষতা ও যাত্রীসন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে ইউএস–বাংলা বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইনস হিসেবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এবং আইওএসএর স্বীকৃতি অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বেসরকারি বিমান সংস্থা হিসেবে চীনের কোনো গন্তব্য, ভারতের চেন্নাই এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস–বাংলা।’
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৭ সালের মধ্যে সংস্থাটির বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এর মধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭–৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭–৮০০ এনজি। নতুন উড়োজাহাজগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হবে।’
বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটও বাড়ানো হবে জানিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নতুন গন্তব্য হিসেবে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং, জোহর বাহরু ও পেনাংয়ে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী এয়ারলাইনস ইউএস–বাংলা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে ইউএস–বাংলা ও রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার সম্মিলিত বাজার হিস্যা প্রায় ২৫ শতাংশ। বাকি প্রায় ৭৫ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইনসের দখলে। বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন ইউএস–বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
ইউ-এস বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মানের সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালনার মাধ্যমে ইউএস–বাংলাকে বৈশ্বিক আকাশপথে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।