সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

খোলায় নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার মণ ধান

কেটে রাখা ধান। ছবি : কালবেলা
কেটে রাখা ধান। ছবি : কালবেলা

বৈশাখের শুরু থেকেই থেমে থেমে ঝড়, বজ্রসহ টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে চরম কৃষি সংকট। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনি ও মাটিয়ান হাওরসহ উপজেলার অন্তত ২৩টি হাওরের কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

কাটা ধান শুকাতে না পেরে খলায় নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার মণ ধান। একইসঙ্গে বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক পাকা ধান কাটতে না পারায় জমিতেই নষ্ট হচ্ছে শত শত বিঘা জমির ফসল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টি ও আকাশ মেঘলা থাকায় কাটা ধান শুকানোর কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না কৃষকরা। খলায় স্তূপ করে রাখা ধান ভিজে গিয়ে অনেক স্থানে অঙ্কুরোদগম শুরু হয়েছে। এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তাহিরপুর উপজেলার ২৩টি হাওরে প্রায় ১৭ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে।

মাটিয়ান হাওরের কৃষক আলী হোসেন জানান, তিনি ১৭ কেয়ার জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। হাওরের জাঙ্গালের বেহাল দশা ও জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার ব্যবহার করতে না পেরে শ্রমিক দিয়ে কষ্ট করে ৫ কেয়ার ধান কেটে খলায় তুলেছেন। কিন্তু রোদ না থাকায় তা শুকাতে পারছেন না। বৃষ্টিতে ধান ভিজে অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

একই হাওরের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৫ কেয়ার জমিতে ধান লাগিয়েছেন। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে পারছেন না। জাঙ্গালের অবস্থা খারাপ থাকায় যন্ত্র দিয়েও ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জমিতেই ধান নষ্ট হচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।

শনি হাওরপাড়ের গৌবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক মিল্লাদ হোসেন জানান, তার ৬০ মণ ধান খলায় পড়ে বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ধানের স্তূপে ইতোমধ্যে অঙ্কুরোদগম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া দুই দিন আগে কাটা ৭ কেয়ার জমির ধান জাঙ্গাল খারাপ থাকায় পরিবহন করতে পারছেন না। আরও কয়েকদিন এমন আবহাওয়া থাকলে ক্ষতি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

একই এলাকার মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কৃষক সালাউদ্দিন মুন বলেন, তার প্রায় ২০ কেয়ার জমির পাকা ধান তিন দিন আগেই কাটার উপযুক্ত হয়েছে। শ্রমিক সংকটের মধ্যে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ধান জমিতেই নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না এলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে সমস্যা হচ্ছে, এতে কিছু ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প উপায়ে ধান শুকানোর বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হালান্ডের তাণ্ডবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজল ব্রাজিলের

হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায়ের অপেক্ষায় ব্রাজিল

হালান্ডের গোলে এগিয়ে গেল নরওয়ে

বিশ্বকাপে ৪০ বছর পর যে ‘লজ্জার’ স্বাক্ষী হলো ব্রাজিল

অবশেষে মাঠে নামলেন নেইমার

ব্যাংক থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার নারী

লাল কার্ড দেখেও খেলবেন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার, স্বাগত জানালেন ট্রাম্প

ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচ জিতে শেষ আটে যাবে কে, জানাল অপটা

পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে পারল না ব্রাজিল

ফেসবুক পোস্টে যুবদল সভাপতির বার্তা

১০

এটাই শেষ বিশ্বকাপ, রোনালদোর ঘোষণা

১১

বিজিবিএ’র ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ৬৬ স্থায়ী কমিটি গঠন

১২

নরওয়ের বিপক্ষে একাদশ ঘোষণা ব্রাজিলের

১৩

একযোগে ৩৮ বিচারককে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি

১৪

জামায়াতের দুই রুকন বহিষ্কার

১৫

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার

১৬

২০ শিশুসহ ১০০ ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার জন্য আশ্রয় দিল স্পেন

১৭

সেন্টমার্টিনে ট্রলার চলাচল বন্ধ, অনিশ্চয়তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা 

১৮

নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামছেন নেইমার?

১৯

পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই স্কুলছাত্রীর

২০
X