

বাবার অসুস্থতায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পেয়ে নিজেই উদ্যোগ নেন এই সেবার। সেখান থেকেই ডা. মেহেদী হাসানের হাতে যাত্রা শুরু ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের’। বিনামূল্যে মরদেহ বহনসহ আর্ত মানবতার সেবায় সর্বদা নিয়োজিত এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় নিজস্ব অর্থায়নে এ সেবা চালু করেন ডা. মেহেদী হাসান। ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে এর যাত্রা শুরু।
এখন পর্যন্ত ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ৩৫ প্রবাসীর মৃতদেহ এবং খুলনা-যশোর-মনিরামপুরের আশপাশের এলাকা থেকে ৭১ মৃতদেহ মোট ১০৬টি মৃতদেহ বহন এবং নামমাত্র মূল্যে সেবা দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫৩০ রোগীকে।
গত ১ জুন মনিরামপুর প্রেসক্লাবে "আমাদের অ্যাম্বুলেন্স" এর তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কেক কাটা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের পরিচালক সাংবাদিক মো. শাহ্ জালাল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনিরামপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম মজনুর রহমান, বিশেষ অতিথি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ লিটন, শিক্ষক সাইফুল আলম, আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের পরিচালনা পরিষদ ও প্রেস ক্লাবের অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মনিরামপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম মজনুর রহমান বলেন, আর্ত মানবতার সেবায় আমাদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মৃতদেহ বহন করে থাকে। ধনসম্পদ তো বহু মানুষের আছে তবে ডাক্তার মেহেদী হাসানের মতো মন কয়জনের আছে।
আমাদের অ্যাম্বুলেন্স সেবার সার্বিক দেখভালের দায়িত্বে থাকা পরিচালক মো. শাহ্ জালাল বলেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে আমরা হিমসিম খেয়ে যাচ্ছি। আমরা যখন ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করি তখন এলপিজির মূল্য ছিল ৫৮ টাকা লিটার। বর্তমানে সেই এলপিজি ৮৯ টাকা লিটার কিনতে হচ্ছে। তবুও আমাদের মনিরামপুর উপজেলার পৌর শহরের আয়তনের মধ্যে রোগী আনা নেওয়ার জন্যে নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র চারশত টাকা। দশ কিলো অতিরিক্ত গিয়ে রোগী আনা- নেওয়া করলে কিলোমিটার হিসাব করে জ্বালানি খরচ হিসাবে ভাড়া নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, মনিরামপুর থেকে যশোরে সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া যেখানে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা সেখানে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় মাত্র এক হাজার টাকা। ঢাকায় নিতে গুণতে হতো ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা। সেখানে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় মাত্র আট হাজার টাকা। আর খুলনার জন্যে নেওয়া হয় তিন হাজার টাকা। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলাদেশের ভেতর আমরাই এই প্রথম মৃতদেহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করে থাকি।
শাহজালাল বলেন, আমরা এই পর্যন্ত বিনামূল্যে মৃতদেহ বহন করেছি ১০৬ জনের। এর ভেতর ঢাকা থেকে মনিরামপুর আনা হয়েছে ৩৫ প্রবাসীর মৃতদেহ। খুলনা, যশোর, কেশবপুরসহ মনিরামপুর থেকে মনিরামপুর বহন করা হয়েছে ৭১ জনের মৃতদেহ। নামমাত্র জ্বালানি খরচে সেবা দিয়েছি ২৫৩০ জনকে।
পারিবারিক অনুপ্রেরণা থেকেই সবসময় মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে আমাদের অ্যাম্বুলেন্স সেবার প্রতিষ্ঠাতা ডা. মেহেদী হাসান বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে যেভাবে সাড়া জেগেছে তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্স’ সেবার বহরে ফ্রিজিংসহ আরও তিনটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আগামীতে।