

আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) প্রকাশিত ‘ওয়ান্টেড পারসনস’ তালিকায় নাম এসেছে বাংলাদেশি নাগরিক সৈয়দ মো. হোসেন ওরফে হোসেনের।তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
ইন্টারপোল প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার পূর্ণ নাম সৈয়দ মো. হোসেন (Syed Md. Hossain @ Hosen)। তিনি ১৯৫১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থান হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মাছিহাতা গ্রামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয়তা বাংলাদেশি। বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে দাড়ি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্টারপোলে প্রকাশিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অভিযুক্ত সৈয়দ মো. হোসেন ওরফে হোসেন নিরস্ত্র বেসামরিক জনগণ, মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার পক্ষের ব্যক্তি এবং বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হত্যা, লুটপাট, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন করেন।
ইন্টারপোলে প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন কিশোরগঞ্জ মহকুমার নিকলী ও কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তত ছয়টি ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ও তার সহযোগীরা ৬৮ জন নিরীহ, নিরস্ত্র ও শান্তিপ্রিয় মানুষকে হত্যা করেন। পাশাপাশি ২৫০টিরও বেশি বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে সেগুলো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যক্তি ও সমর্থকদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানোরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড পারসনস তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রের অনুরোধের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার জন্য প্রকাশিত একটি নোটিশ। অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হয়ে থাকে।