মুফতি দিদার হুসাইন
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইনসাফ নিয়ে কোরআনের যে ২০ আয়াত প্রতিটি মুসলিমের জানা উচিত

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোরআন ন্যায়বিচারকে অপরিহার্য নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে | ছবি: সংগৃহীত
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোরআন ন্যায়বিচারকে অপরিহার্য নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে | ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যার প্রতিটি স্তম্ভ ন্যায়, ভারসাম্য ও কল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর অন্যতম মৌলিক শিক্ষা হলো ইনসাফ (ন্যায়বিচার)। ব্যক্তি থেকে পরিবার, সমাজ থেকে রাষ্ট্র এবং বিচারব্যবস্থা থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য; জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোরআন ন্যায়বিচারকে অপরিহার্য নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এমনকি বন্ধু-শত্রু, আত্মীয়-অনাত্মীয় কিংবা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিও ইনসাফ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কোরআনের ভাষায়, ন্যায়বিচার তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী; আর মানবসমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই নবী-রাসুলদের প্রেরণের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য।

এখানে পবিত্র কোরআনের এমন ২০টি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত তুলে ধরা হলো, যেখানে সরাসরি ইনসাফ করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। এসব আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একজন মুমিনের ঈমান কেবল ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, কথা ও কাজে ইনফাফ বা ন্যায়ের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার মধ্যেই তার প্রকৃত প্রতিফলন।

১. সুরা আল-বাকারা: ২৮২

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ ۚ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌ بِالْعَدْلِ ...

অনুবাদ: হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণ বা লেনদেন করবে, তখন তা লিখে রাখবে। আর তোমাদের মধ্যে একজন লেখক ন্যায়ের সঙ্গে তা লিখবে...।

২. সুরা আন-নিসা: ৩

وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَىٰ فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً...

অনুবাদ: আর যদি তোমরা আশংকা করো যে, ইয়াতিমদের ব্যাপারে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে তোমাদের পছন্দের নারীদের মধ্যে থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে করো। কিন্তু যদি আশংকা করো যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনই...।

৩. সুরা আন-নিসা: ৫৮

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ...

অনুবাদ: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন আমানত তার প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়ের সঙ্গে বিচার করতে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কত উত্তম উপদেশ দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

৪. সুরা আন-নিসা: ১২৭

وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ ... وَأَن تَقُومُوا لِلْيَتَامَىٰ بِالْقِسْطِ...

অনুবাদ: তারা আপনার কাছে নারীদের সম্পর্কে ফতোয়া জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তাদের সম্পর্কে তোমাদেরকে বিধান দিচ্ছেন... এবং (নির্দেশ দিচ্ছেন) ইয়াতিমদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে...।

৫. সুরা আন-নিসা: ১২৯

وَلَن تَسْتَطِيعُوا أَن تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ ۖ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ...

অনুবাদ: তোমরা যতই ইচ্ছা করো না কেন, স্ত্রীদের মধ্যে (হৃদয়ের ভালোবাসায়) পুরোপুরি সমতা রক্ষা করতে কখনো সক্ষম হবে না। তবে এমনভাবে একদিকে ঝুঁকে পড়ো না যে অন্যজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে দাও...।

৬. সুরা আন-নিসা: ১৩৫

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ ۚ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَىٰ بِهِمَا ۖ فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَىٰ أَن تَعْدِلُوا ۚ وَإِن تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا.

অনুবাদ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র; আল্লাহ তাদের উভয়েরই অধিক হিতাকাঙ্ক্ষী। সুতরাং ন্যায়বিচার করতে গিয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা সাক্ষ্য বিকৃত করো বা এড়িয়ে যাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব কাজ সম্পর্কে সম্যক অবগত।

৭. সুরা আল-মায়িদা: ৮

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ.

অনুবাদ: হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর উদ্দেশ্যে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াও এবং ন্যায়ের সঙ্গে সাক্ষ্য দাও। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে। ন্যায়বিচার করো; এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।

৮. সুরা আল-মায়িদা: ৪২

... فَإِن جَاءُوكَ فَاحْكُم بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ... وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ.

অনুবাদ: ...তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে আপনি চাইলে তাদের মধ্যে বিচার করুন অথবা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন... আর যদি বিচার করেন, তবে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে বিচার করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।

৯. সুরা আল-মায়িদা: ৯৫

... يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنكُمْ...

অনুবাদ: ...এর সমমূল্য নির্ধারণ করবে তোমাদের মধ্যকার দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি...।

১০. সুরা আল-আনআম: ১৫২

... وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰ ۖ وَبِعَهْدِ اللَّهِ أَوْفُوا...

অনুবাদ: ...আর যখন কথা বলবে, তখন ন্যায়ের সঙ্গে বলবে, যদিও সে নিকটাত্মীয় হয়। আর আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।

১১. সুরা আল-আরাফ: ২৯

قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ ۖ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ ۚ كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ.

অনুবাদ: বলুন, আমার রব ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তোমরা প্রত্যেক ইবাদতের স্থানে নিজেদেরকে তাঁর দিকে নিবিষ্ট করো এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদত করে তাঁকে ডাকো। যেভাবে তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, সেভাবেই তোমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাবে।

১২. সুরা হুদ: ৮৫

وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ.

অনুবাদ: হে আমার সম্প্রদায়! ন্যায়ের সঙ্গে মাপ ও ওজন পূর্ণ করো। মানুষের জিনিস কম দিও না এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে সীমা অতিক্রম করো না।

১৩. সুরা আন-নাহল: ৯০

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ ۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ.

অনুবাদ: নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন। আর তিনি অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।

১৪. সুরা আল-ইসরা: ৩৫

وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا.

অনুবাদ: তোমরা যখন মাপবে, তখন পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে। এটাই উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকেও সর্বোৎকৃষ্ট।

১৫. সুরা সাদ: ২৬

يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَىٰ فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ.

অনুবাদ: হে দাউদ! আমি আপনাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি। অতএব আপনি মানুষের মধ্যে সত্য ও ন্যায়ের সঙ্গে বিচার করুন এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না; তা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে, কারণ তারা হিসাব দিবসকে ভুলে গেছে।

১৬. সুরা আশ-শুরা: ১৫

فَلِذَٰلِكَ فَادْعُ ۖ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ ۖ وَقُلْ آمَنتُ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ مِن كِتَابٍ ۖ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ ۖ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ ۖ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ.

অনুবাদ: অতএব আপনি (মানুষকে) এ দিকেই আহ্বান করুন এবং যেভাবে আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেভাবে অবিচল থাকুন। তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাজিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি এবং তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করার জন্য আমাকে আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরও রব, তোমাদেরও রব। আমাদের কর্ম আমাদের জন্য এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্য। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একত্র করবেন এবং তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন।

১৭. সুরা আল-হুজুরাত: ৯

وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا ۖ فَإِن بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَىٰ فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّىٰ تَفِيءَ إِلَىٰ أَمْرِ اللَّهِ ۚ فَإِن فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا ۖ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ.

অনুবাদ: যদি মুমিনদের দুটি দল পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি একদল অন্য দলের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তবে যে দল সীমালঙ্ঘন করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। তারপর যদি তারা ফিরে আসে, তবে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে মীমাংসা করো এবং ইনসাফ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।

১৮. সুরা আর-রাহমান: ৭-৯

وَالسَّمَاءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ ۝ أَلَّا تَطْغَوْا فِي الْمِيزَانِ ۝ وَأَقِيمُوا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوا الْمِيزَانَ.

অনুবাদ: আর তিনি আকাশকে সমুন্নত করেছেন এবং স্থাপন করেছেন ন্যায়ের মানদণ্ড; যাতে তোমরা ওজনে সীমালঙ্ঘন না কর। ন্যায়ের সঙ্গে ওজন প্রতিষ্ঠা করো এবং ওজনে কম দিও না।

১৯. সুরা আল-হাদিদ: ২৫

لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ۖ وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ ۚ إِنَّ اللَّهُ قَوِيٌّ عَزِيزٌ.

অনুবাদ: অবশ্যই আমি আমার রাসুলদের সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে কিতাব ও ন্যায়ের মানদণ্ড নাজিল করেছি, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি লোহা সৃষ্টি করেছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহুবিধ উপকার। এর মাধ্যমে আল্লাহ জেনে নেন, কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রাসুলদের সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী।

২০. সুরা আল-মুমতাহিনা: ৮

لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ.

অনুবাদ: যারা দ্বীনের কারণে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে এবং তাদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।

প্রিয় পাঠক! কোরআনের এসব আয়াত গভীরভাবে লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হয়, ইনসাফ কেবল বিচারকের আদালতের বিষয় নয়; বরং একজন মুমিনের প্রতিটি কথা, কাজ, সিদ্ধান্ত ও সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত ন্যায়বিচার। নিজের বিরুদ্ধে হলেও সত্য কথা বলা, আত্মীয়-স্বজনের ক্ষেত্রে পক্ষপাত না করা, শত্রুর প্রতিও অবিচার না করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে মাপ-ওজনে সঠিক থাকা, পরিবারে ন্যায় বজায় রাখা এবং সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা—এসবই কোরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ। ইসলাম এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শক্তিশালী দুর্বলকে শোষণ করবে না, ধনী-গরিবের জন্য বিচারের মানদণ্ড ভিন্ন হবে না, আর ব্যক্তিগত স্বার্থ, বিদ্বেষ বা আবেগ কখনো ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তাই কোরআন বারবার মানুষকে আল্লাহভীতি, সত্যবাদিতা ও ইনসাফের ওপর অটল থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

লেখক: শরিয়াহ কনসালট্যান্ট

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ১

যে ৫ কারণে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিততে পারে স্পেন

কে জিতবে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন? / বিশ্বকাপ ফাইনালের আলোচনায় এবার বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী

পরিবেশবান্ধব রেলের এলিট ক্লাবে ভারত, চালু হলো প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন

যে ৪ সময়ে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে বেশি উপকার মেলে

কখন কোন নফল নামাজ পড়বেন? সঠিক নিয়ম জানুন

বিশ্বকাপে সমান গোল হলে কীভাবে নির্ধারিত হবে গোল্ডেন বুট? জানুন ফিফার নিয়ম

বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে মোটা টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

বিক্রম-১ / ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণ

ইসরায়েলি দখলদারদের হামলায় ফিলিস্তিনি কিশোর ফুটবলারের মৃত্যু

১০

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মগ্ন কালশী বস্তি, আনসারের ‘স্ট্রিট গোল চ্যালেঞ্জে’ মাতল শিশুরা

১১

গাজায় আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে লন্ডনে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

১২

শেষ অনুশীলন ছাড়াই ফাইনালে নামছে স্পেন

১৩

‘এসডিজি-৩: সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের ‘কান্ট্রি উইনার’ সুখী

১৪

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

১৫

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ / প্রসিকিউশনের হাতে হাসিনা-আজিজসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন 

১৬

১৬৭ জনকে নিয়োগ দেবে রেশম উন্নয়ন বোর্ড, আজই আবেদন করুন

১৭

মার্কিন সেনা হত্যায় জড়িত আইআরজিসির সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা

১৮

অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ, বেতন ৩১ হাজার

১৯

সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি

২০
X