ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রাসেল ভাইপার কাণ্ডে হুলুস্থূল, পুরস্কারের ঘোষণা প্রত্যাহার জেলা আ.লীগের

বাঁ থেকে- রাসেল ভাইপার সাপ, রেজাউল। ছবি : কালবেলা
বাঁ থেকে- রাসেল ভাইপার সাপ, রেজাউল। ছবি : কালবেলা

জীবিত হোক বা মৃত, কোনো প্রকার রাসেল ভাইপারের জন্য কোনো পুরস্কার নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

রোববার (২৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে পুরস্কারের বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

প্রথমে রাসেল ভাইপার সাপ মারতে পারলে এবং পরে জীবিত ধরতে পারলে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে; এমন ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে হুলুস্থূল কাণ্ড বেঁধে যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি সভার বিবিধ আলোচনায় শামীম হক ফরিদপুরে রাসেল ভাইপার সাপ মারতে পারলে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

সে সময় সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ এ ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, শুধু কোতোয়ালি থানার মধ্যে কেউ এই সাপ মারতে পারলে তাকে এই টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আমাদের সভাপতি সাহেব এই টাকা দেবেন।

এ ঘোষণার পরে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। পুরস্কার পেতে বিভিন্ন জায়গায় সাপ মারার উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ে। সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের দুর্গম চরের ৩৮ দাগ এলাকায় শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে জমিতে ঘাস কাটার সময় একটি রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে সেটি লাঠি দিয়ে মেরে ফেলেন ওই গ্রামের মুরাদ মোল্লা (৪৩) নামে এক কৃষক। এরপর তিনি সাপটি পদ্মা পাড়ি দিয়ে সিঅ্যান্ডবি ঘাটে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন আবু ফকিরের অফিসে নিয়ে যান। আবু ফকির তখন সাংবাদিকদের জানান, মুরাদ মোল্লাকে সভাপতি ঘোষিত পুরস্কার দেওয়া হবে।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের এই পুরস্কারের ঘোষণার পরে বনবিভাগের পক্ষ থেকে এটি আইনসিদ্ধ নয় বলে সমালোচনা করা হয়। এরপর অবশ্য রাসেল ভাইপার সাপ মেরে ফেললে পুরস্কার দেওয়ার পূর্ব ঘোষণা থেকে সরে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়- মেরে ফেললে নয়, জীবিত অবস্থায় রাসেল ভাইপার ধরতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ আলী আশরাফ পিয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন কেউ যদি নিজেকে রক্ষাকারী পোশাক সম্বলিত হয়ে এবং সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বনপূর্বক জনস্বার্থে রাসেল ভাইপার সাপটি জীবিতাবস্থায় ধরতে পারেন- তবে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কৃত করা হবে। এরপর আবার জীবিত সাপ ধরার উৎসাহ সৃষ্টি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় পরের দিন শনিবার সকালে পদ্মার চর থেকে একটি জীবিত রাসেল ভাইপার সাপ ধরেন রেজাউল নামে এক যুবক। শনিবার সন্ধ্যায় পাতিলের মধ্যে একটি জীবিত সাপ নিয়ে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে হাজির হন সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের কাদেরের বাজার এলাকার জনৈক রেজাউল নামে এক ব্যক্তি।

রেজাউল বলেন, সকালে চর থেকে ধরছি। সাপটা যাইতেছিল। গায়ের গেঞ্জি ছুঁড়ে ওকে ধরছি। রেজাউল বলেন, নেতারা পুরস্কার ঘোষণা করছে। এজন্য রিস্ক নিয়া ধরছি। এখন বনবিভাগে জমা দিতে আইছি। তবে রোববার দুপুরে ফরিদপুরের বনবিভাগের অফিসে সাপটি নিয়ে গেলে তাকে সাপসহ ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম কুদ্দুস ভুঁইয়া বলেন, এ ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করাটাই তো অবৈধ। মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা। আমরা এটা প্রমাণ করতে যাব কেন? ওই কৃষকের উচিত হবে যেখান থেকে সাপটি ধরেছে ওই স্থানে ছেড়ে দেওয়া।

এদিকে রোববার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক পুরস্কারের ঘোষণা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানিয়ে সবাইকে রাসেল ভাইপার সাপ মারা বা ধরার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানান।

যদিও সভাপতির ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার কিছু সময় আগে সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ কালবেলাকে বলেন, আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাই আগামীকাল আমাদের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা পুরস্কার দিব। যদি সত্যিই রাসেল ভাইপার সাপ ধরা পড়ে।

কিন্তু সাফ না জানিয়ে শামীম হক তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, জীবিত বা মৃত কোনো প্রকার রাসেল ভাইপারের জন্য কোনো পুরস্কার নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে রাসেল ভাইপার একটি আলোচিত বিষয়, পাশাপাশি জনগণের জন্য হুমকি স্বরূপ। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিধায় যে কোনো পুরস্কার বা কৌতূহলবশত এ সাপ নিয়ে অতি উৎসাহী হবেন না। জীবিত বা মৃত কোনো প্রকার রাসেল ভাইপারের জন্য কোনো পুরস্কার নেই।

তিনি লিখেন, সাপ দেখলে তা ধরা বা মারার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে কল করুন অথবা নিকটস্থ বন বিভাগের অফিসকে অবহিত করুন।

সভাপতির ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ আলী পীয়ার স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০ জুন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তক্রমে রাসেল ভাইপার সর্প সম্পর্কিত একটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যা প্রকৃতপক্ষে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন পরিপন্থি। বিষয়টি বন ও পরিবেশ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিধায় জেলা আওয়ামী লীগ সর্বসম্মতভাবে রাসেল ভাইপার সংক্রান্ত ঘোষণাটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১০৫০ দিন পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতকে যে লজ্জা দিল আয়ারল্যান্ড

ইতালিতে বাংলাদেশির ১৪ বছরের কারাদণ্ড

রূপায়ণ সিটি উত্তরায় রিহ্যাব নেতাদের পরিদর্শন, মেগা সিটিগুলোতে সরকারের সুদৃষ্টির আহ্বান

ধ্বংসস্তূপের নিচে পাওয়া গেল আর্জেন্টাইন ফুটবলারের স্ত্রী-সন্তানকে

প্রথম ৪ অর্থবছরের কর পরিশোধ করল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি

দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রাণিসম্পদ পণ্য রপ্তানিই সরকারের লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আনসার-ভিডিপি ক্রীড়াঙ্গনের নির্ভরযোগ্য শক্তি : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ পেলেন বিরোধীদলীয় এমপিরা

আর্জেন্টিনার তিনটি ম্যাচের ফলাফলই আগে বলে দেন শান্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই গ্রামের সংঘর্ষ, নিহত ১

১০

বাংলাদেশ বুঝতে পেরেছে, ক্ষতিটা ওদেরই হয়েছে: দিলীপ ঘোষ

১১

হাত বাঁধা, গলায় রশি পেঁচানো নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

১২

হাবিপ্রবিতে তেঁভাগা আন্দোলনের জনক হাজী মোহাম্মদ দানেশের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

১৩

বিশ্বকাপের পরই বিয়ে করবেন রোনালদো

১৪

সিআইডি প্রধান হলেন মোশাররফ

১৫

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা / ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

১৬

ইন্টারনেট বিল দিতে দেরি, দুই নারীকে মারধর

১৭

চীনের সহায়তায় চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন: পানিসম্পদমন্ত্রী

১৮

জুনের আকাশে ‘স্ট্রবেরি মুন’, যখন-যেভাবে দেখা যাবে বাংলাদেশ থেকে 

১৯

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

২০
X