

হোমিওপ্যাথির জনক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের জীবন, সংগ্রাম ও মানবিক দর্শনকে কেন্দ্র করে নতুন নাটক ‘ডা. হ্যানিম্যান’ মঞ্চে আনছে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়। দলের ৪৫তম প্রযোজনা হিসেবে নির্মিত এই নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে। পরদিন ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে নাটকটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রদর্শনী। নাটকটি রচনা করেছেন অপূর্ব কুমার কুন্ডু এবং নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। নাম ভূমিকায় একক অভিনয় করছেন বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব মীর জাহিদ হাসান।
নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাপদ্ধতির প্রবর্তক ডা. হ্যানিম্যানের জীবনের শেষ অধ্যায়কে ঘিরে। জীবনের শেষ আট বছর তিনি ফ্রান্সে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করেন। সেই সময় তার চিকিৎসা গবেষণা, নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক, আদালতের মুখোমুখি হওয়া, নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাচর্চার সংগ্রাম, ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ গ্রন্থের পুনর্লিখন, ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-দুঃখ এবং সন্তান হারানোর বেদনা নাটকে উঠে এসেছে। নাটকের মূল বার্তা—‘মানুষ মরণশীল, কিন্তু রোগের চিকিৎসা আছে।’
পরিচালক শুভাশীষ দত্ত তন্ময় বলেন, ‘মহড়ার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়েছে, এটি মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও মানবিকতার গল্প। নাটকের সংলাপ ও ঘটনাপ্রবাহ দর্শককে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেবে। পাশাপাশি হ্যানিম্যান চরিত্রে মীর জাহিদ হাসানকে দর্শক এক ভিন্ন ও নতুন রূপে আবিষ্কার করবেন।’
মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের দলীয় প্রধান এবং নাটকের একক অভিনেতা মীর জাহিদ হাসান বলেন, “দলের দীর্ঘ পথচলার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হ্যানিম্যানের মতো একটি চরিত্রে অভিনয়ের দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য বড় সম্মানের। পাঁচ দশকের মঞ্চ-অভিজ্ঞতার সবটুকু দিয়ে দর্শকের সামনে নাটকটি উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি। ‘মানুষ মরণশীল, কিন্তু রোগের চিকিৎসা আছে’—এই অমোঘ বাণীকে ধারণ করেই মঞ্চে উঠতে চাই। দর্শকের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ প্রত্যাশা করছি।”
নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুন্ডু বলেন, ‘মানুষ মরণশীল, কিন্তু রোগের চিকিৎসা আছে—এই চিরন্তন সত্যকে কেন্দ্র করেই নাটকটি লিখেছি। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের মতো ঐতিহ্যবাহী দল এই নাটক মঞ্চে আনছে, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।’