আহমেদ সোহেল বাপ্পী
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপের ‘ওমেগা ব্লক’ থেকে বাংলাদেশের দাবদাহ

এল-নিনোর ছায়ায় এক বৈশ্বিক সতর্কবার্তা
ইউরোপের ‘ওমেগা ব্লক’ থেকে বাংলাদেশের দাবদাহ

ইউরোপ এই মুহূর্তে পুড়ছে। শুধু রূপকের ভাষায় নয়, আক্ষরিক অর্থেই। ফ্রান্সের বোর্দো থেকে ব্রিটেনের লন্ডন, স্পেনের মাদ্রিদ থেকে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট, গোটা ইউরোপ মহাদেশ এখন এক ভয়াবহ তাপপ্রবাহের গ্রাসে। মৃত্যু হচ্ছে শিশুর, বৃদ্ধের, সাঁতারুর। স্কুল বন্ধ, বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যস্ত, রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙছে প্রতিদিন। এই ভয়াবহতার কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিশেষ আবহাওয়াগত ঘটনা, যার নাম ‘ওমেগা ব্লক’।

কিন্তু ইউরোপের এই দুর্যোগ কি শুধুই সেই মহাদেশের সমস্যা? না। একই সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনা, যা ‘এল-নিনো’ নামে পরিচিত, বৈশ্বিক আবহাওয়ার ভারসাম্য নষ্ট করছে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক ছন্দপতনের বাইরে নয়। বরং, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই সংকটে অন্যতম মুখ্য শিকার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

ওমেগা ব্লক এমন একটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতি যেখানে একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ অঞ্চল দুটি নিম্নচাপ অঞ্চলের মাঝখানে আটকে যায়। গ্রিক বর্ণমালার বড় হাতের ‘Ω’ অক্ষরের আকৃতির সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় আবহাওয়াবিদরা একে ওমেগা ব্লক বলেন।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ‘চরম আবহাওয়া’ গবেষক ক্লেয়ার বার্নস এই প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করেন এভাবে: উচ্চচাপক্ষেত্রে একটি উঁচু তাপীয় স্তম্ভ তৈরি হয়, যার নিচে গরম বায়ু এবং দুই পাশে অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা বায়ু অবস্থান করে। এই ব্যবস্থা সাহারা মরুভূমি থেকে উত্তপ্ত বায়ু ইউরোপের দিকে টেনে নিয়ে আসছে এবং বায়ুমণ্ডলে কোনো বাতাস বা বিরতি নেই।

এই ওমেগা ব্লক গঠনে উচ্চচাপ অঞ্চলে মেঘ তৈরি বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে আকাশ থাকে পরিষ্কার এবং সূর্যের তাপ অবাধে ভূপৃষ্ঠে এসে পৌঁছায়। ওমেগা ব্লক সাধারণত তিন থেকে দশ দিন স্থায়ী হয়, তবে কখনো কয়েক সপ্তাহও টিকে থাকতে পারে। নিম্নচাপ অঞ্চলে অবস্থিত অঞ্চলগুলো তুলনামূলক শীতল ও বৃষ্টিপ্রবণ থাকে, যেমন এখন ব্রিটেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল।

এই তাপবৃত্ত একটি ঢাকনার মতো কাজ করছে, সাহারার উত্তপ্ত ও শুষ্ক বায়ুকে আটকে রেখে তাকে ক্রমাগত নিচের দিকে চাপ দিচ্ছে। এর ফলে তাপমাত্রা প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলে কোনো প্রাকৃতিক শীতলতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। আবহাওয়াবিদ মার্কো কোরোসেক বলেছেন, বায়ু সংকুচিত হওয়ার কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এক্সপোনেনশিয়াল হারে।

ফ্রান্সে তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে নিষিদ্ধ এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রায় ৪০ জন ডুবে মারা গেছেন। দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের কার্পঁত্রায় গাড়িতে রেখে যাওয়া দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। বোর্দো অঞ্চলে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী তিন বৃদ্ধ তাপজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন।

ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা ৫৪টি জেলায় সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। ব্রিটেনের আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে যে তাপমাত্রা ইংল্যান্ডের কিছু অঞ্চলে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জুনের ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রির রেকর্ড সহজেই ভেঙে দেবে।

মে মাসের শেষ নাগাদ আরেকটি তাপপ্রবাহ স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডে মাসিক তাপমাত্রার রেকর্ড চুরমার করে দিয়েছিল। সেই শুষ্কতার ধাক্কায় মাটি থেকে সব আর্দ্রতা উবে গেছে, ফলে পৃথিবীর স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে শহরগুলো পরিণত হয়েছে ‘কংক্রিটের চুলায়’। প্যারিসে আইফেল টাওয়ারের সামনের ট্রোকাডেরো ফোয়ারায় শত শত মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ছেন শুধু একটু ঠাণ্ডার আশায়। এটাই এখন ইউরোপের বাস্তব চিত্র।

গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহগুলো এখন মানবসৃষ্ট উষ্ণায়ন ছাড়া যা হতো তার চেয়ে দুই থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত হচ্ছে।

ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হওয়া মহাদেশ। তাপ-গম্বুজ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে এই ঘটনাগুলো আরও ভয়াবহ হবে। বিজ্ঞানীরা এখনও একমত হতে পারেননি যে জলবায়ু পরিবর্তন এই ধরনের ‘ব্লকিং ঘটনা’র কতটুকু ঘন ঘন ঘটার জন্য দায়ী। কিন্তু এই বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে, যখনই ব্লকিং ঘটে, তখন উষ্ণায়নের কারণে তার তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

ওমেগা ব্লকের পাশাপাশি বৈশ্বিক আবহাওয়ার আরেকটি বড় শক্তি এই মুহূর্তে সক্রিয় হচ্ছে, এল-নিনো। এটি হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পর্যায়ক্রমিক বৃদ্ধি, যা সাধারণত নয় থেকে বারো মাস স্থায়ী হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, এই উষ্ণ সমুদ্রজল এল-নিনোর বিকাশকে ত্বরান্বিত করছে এবং জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) মহাসচিব সেলেস্ট সাউলো সতর্ক করেছেন, এটি খরা, ভারী বৃষ্টি এবং তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।

এল-নিনো মূলত বৈশ্বিক বায়ুপ্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট করে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমে যে পার্শ্বীয় বায়ু বয়, এল-নিনোর সময় সেটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে উষ্ণ সমুদ্রজল পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর থেকে পূর্বে সরে আসে এবং মেঘ তৈরির কেন্দ্র স্থানান্তরিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষত বাংলাদেশে এর প্রভাব হলো মৌসুমি বৃষ্টি কমে যাওয়া এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া।

এল-নিনো দক্ষিণ এশিয়ায় মেঘ তৈরির প্রক্রিয়াকে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে সরিয়ে দেয়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় আর্দ্রতার প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয়। এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন বাংলাদেশকে উচ্চচাপ ব্যবস্থার নিচে আটকে দেয়, বৃষ্টি কমে যায় এবং মৌসুমের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের জন্য এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আরিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. রাশেদ চৌধুরী বলেছেন, ২০২৬ সালে এল-নিনো বাংলাদেশের বর্ষা মৌসুমে মাঝারি মাত্রার প্রভাব ফেলতে পারে। এল-নিনোর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করে এটি কখন এবং কতটা শক্তিশালীভাবে গড়ে ওঠে তার ওপর। এবারের পূর্বাভাস বলছে, এটি গ্রীষ্মের শেষ ভাগে বা শীতকালে পরিণত হতে পারে, তাই ১৯৮২-৮৩ বা ১৯৯৭-৯৮ সালের মতো ভয়াবহ খরা বা বর্ষা বিপর্যয়ের সম্ভাবনা এবার কম। তবে এই মাঝারি ঝুঁকিকে সামান্য মনে করার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, এল-নিনোর প্রভাবে এই বর্ষায় বাংলাদেশে বৃষ্টি কম হবে এবং তাপমাত্রা বেশি থাকবে। আগামী তিন মাসে দেশে অন্তত আট থেকে দশটি তাপপ্রবাহ আসতে পারে এবং শুধু জুন মাসেই তিন থেকে চারটি তাপপ্রবাহ হতে পারে।

এপ্রিল মাসের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে, এপ্রিলে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ আসতে পারে।

বাংলাদেশের ইতিহাস আরও ভয়াবহ তথ্য দেয়। ২০২৪ সাল বাংলাদেশে ৭৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তপ্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের বছর হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে সাতশোরও বেশি তাপজনিত মৃত্যু হয়েছে। ঢাকায় গত ২০ বছরে তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া অ্যাট্রিবিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাপপ্রবাহ ৪৫ গুণ বেশি সম্ভাবনাসম্পন্ন হয়ে উঠেছে। এছাড়া এল-নিনো পরিস্থিতিতে অনুরূপ তাপপ্রবাহ দ্বিগুণ সম্ভাবনায় আসতে পারে।

২০২৬ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে মাঝারি মাত্রার জলবায়ু পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩২টি অতিরিক্ত অত্যধিক গরমের দিন যোগ হতে পারে। এমনকি সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতিতেও, যেখানে ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য নির্গমন অর্জিত হবে, বাংলাদেশ বছরে অন্তত ২৩টি অতিরিক্ত অত্যন্ত গরমের দিনের মুখোমুখি হবে।

শুধু বৈশ্বিক কারণ নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটও তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে জ্বালানি যোগাচ্ছে। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন-সৃষ্ট তাপপ্রবাহের পাশাপাশি দ্রুত নগরায়ণ তাপ-দ্বীপ প্রভাব তৈরি করছে, বিশেষত ঢাকায়। কংক্রিটের ভবন, রাস্তা ও অবকাঠামো তাপ আটকে রাখে এবং শহরকে আশপাশের গ্রামাঞ্চলের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে গরম করে তোলে। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে ১০৯০৬ হেক্টর বনাঞ্চল হারিয়েছে।

ল্যানসেট কাউন্টডাউনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশে রেকর্ড করা ৮৬টি তাপপ্রবাহের মধ্যে ৫১টির জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী ছিল। অর্থাৎ ৬০ শতাংশ তাপপ্রবাহ জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া ঘটতই না।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মিত্তাল সাউথ এশিয়া ইন্সটিটিউটের গবেষণা সহযোগী কার্তিকেয় ভাটোটিয়া বলেন, অত্যধিক গরম মানুষের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে বিপর্যস্ত করে, যা হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টসহ দীর্ঘস্থায়ী রোগ আরও জটিল করে তোলে।

বাংলাদেশে তীব্র তাপপ্রবাহ ও এল-নিনো মিলিয়ে কৃষি খাতে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বর্ষার বৃষ্টি কমে যাওয়া ব্যাপক ফসল বিপর্যয় ও খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার কারণ হতে পারে। তাপপ্রবাহে চা বাগানে পাতা ঝরছে, হাঁস-মুরগি মরছে, বোরো ধানের উৎপাদন কমছে।

২০২৬ সালের তাপপ্রবাহে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে রেকর্ড চাহিদা তৈরি হয়েছে। সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরেও গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে। এ পরিস্থিতি গরিব মানুষের কষ্ট আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইউরোপের ওমেগা ব্লক এবং বাংলাদেশের এল-নিনোচালিত তাপপ্রবাহ, দুটোর মূল কারণ একটাই: মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। এই সংকট মোকাবিলায় কিছু জরুরি পদক্ষেপ এখনই নেওয়া দরকার।

প্রথমত, বাংলাদেশে তাপ-সহিষ্ণু শহর পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। ঢাকা ও অন্যান্য শহরে সবুজ ছাদ, পার্ক, জলাশয় ও ছায়াপথ সংরক্ষণে কার্যকর নীতিমালা দরকার। দ্বিতীয়ত, দেশব্যাপী ‘কুলিং সেন্টার’ বা শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, বিশেষত শ্রমজীবী, বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য। তৃতীয়ত, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে, কেননা তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর বড় অংশ আগাম সতর্কতায় প্রতিরোধযোগ্য।

ইউরোপের আকাশে আজ যে ওমেগা আঁকা, বাংলাদেশের আকাশে সেই আগুনের আভা দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে। পার্থক্য হলো, ইউরোপ এই দাহের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না, আর বাংলাদেশ প্রতি বছর এই দাহের মধ্যেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রতি বছর মাত্রা বাড়ছে, সীমা ছাড়াচ্ছে।

ইউরোপের এই মহাদাহ ভবিষ্যতের জলবায়ুর একটি পরিষ্কার আভাস। বাংলাদেশের জন্য সেই ভবিষ্যৎ আরও কাছে। তাই এই মুহূর্তে প্রয়োজন সরকার, সুশীল সমাজ ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে যাওয়া, বৃক্ষরোপণ ও জলাশয় রক্ষা করা, এবং তাপ-মোকাবিলায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

প্রকৃতি বারবার সংকেত দিচ্ছে। ইউরোপের পোড়া মাঠ এবং ফ্রান্সের ডুবে মরা মানুষের লাশ, এগুলো আমাদেরও সতর্কবার্তা। এই আগুন নেভাতে হলে এখনই জাগতে হবে।

লেখক: মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক, পর্যবেক্ষক ডেমোক্রেসি উইদাউট বর্ডার্স, প্যারিস।

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মানব পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে জাতীয় বাজেটের ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত

মা-মেয়ে হত্যা / ১০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল

জিগাতলায় দুই নির্মাণাধীন ভবনে এডিসের লার্ভা, ১ লাখ টাকা জরিমানা

জামায়াতের কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় সম্পাদক পরিষদের নিন্দা

বাজেট প্রতিক্রিয়া ২০২৬-২৭ / চূড়ান্ত বাজেটে তামাক করকাঠামো সংস্কারের আহ্বান

জব্দকৃত সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত প্রত্যাখ্যান করল ইরান

মেসির সঙ্গে খেলাটাই আমার সৌভাগ্য: নেইমার

গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগে আপাতত আইনি বাধা নেই, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

নৃত্য পরিচালক জাকিরকে স্মরণ করল আরমান-মুক্তি পরিষদ

১০

জিম্বাবুয়ে সিরিজে বাংলাদেশের ওয়ানডে দল ঘোষণা

১১

বরিশালে হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন

১২

ফাঁকি দিয়ে শহরে বদলি নেওয়া শিক্ষকদের গ্রামে ফিরতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী 

১৩

চট্টগ্রামে সনদহীন কারখানার অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের বিস্তার, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোক্তারা

১৪

তারেক রহমান ইংল্যান্ডের সমর্থক, আর্জেন্টিনার সমর্থন ছাড়লেন নয়ন

১৫

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ / ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেব

১৬

স্বজন হারিয়েও বিচার না পেয়ে বিএনপি ছাড়লেন এক কর্মী  

১৭

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত যুবকের মৃত্যু 

১৮

টসে জিতে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ

১৯

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এক বছরে ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা : টিআইবি

২০
X