কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে নাহিদ ইসলামের আবেগঘন পোস্ট

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদিন ঘর থেকে ঘরে, দোকান থেকে সড়কে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন প্রার্থীরা। এ সময় নানামাত্রিক ভালোবাসায় প্রার্থীদের গ্রহণ করে নিচ্ছেন ভোটার সাধারণ। শুনছেন প্রার্থীদের আশ্বাস। রাখছেন নিজেদের প্রত্যাশা। ভালোবেসে প্রার্থীদের দিচ্ছেন বিভিন্ন উপহারসামগ্রী।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে নির্বাচনী প্রচারণা, প্রার্থীদের প্রতি ভোটারদের প্রত্যাশা এবং জুলাই আন্দোলন নিয়ে কিছু আবেগঘন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নির্বাচন এক নতুন অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন ভোরে বের হই। সারাদিন হাঁটি রোদে, ধুলোয়, ভিড়ে। মানুষের সঙ্গে হাত মেলাই, কথা বলি, কথা শুনি। বক্তৃতা দেই, মসজিদে যাই। রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরি।

এই দীর্ঘদিনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা হচ্ছে- মানুষের ছোট ছোট উপহার। এই উপহারগুলোর ভেতর থাকে দরদ আর মমতা। কেউ চকলেট দেয়, কেউ আতর। কেউ নিজ হাতে শাপলা কলি বানিয়ে দেয়। এক বোন নিজ হাতে চুড়ি বানিয়ে দিয়েছে আমার স্ত্রীর জন্য। কেউ কেউ হাতে বা পকেটে জোর করে কিছু টাকা গুঁজে দেয়। রাতে বাসায় এসে দুই পকেট ঝাড়লে পাওয়া যায় কিছু টাকা, আর নানা রকম উপহার— ভালোবাসার নীরব দলিল।

ওসমান হাদীর প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, তার ভাগীদার আমরাও হয়ে উঠছি। মানুষ আমাদের নিজের সন্তানের মতো দেখে, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়। ওসমান হাদীর শূন্যতা মানুষের মনে আজও পূরণ হয়নি।

মানুষ জুলাইয়ের দিনগুলো ভোলেনি। অনেকে স্মৃতিচারণ করে, বাড্ডা-রামপুরার আন্দোলন কীভাবে হয়েছিল, ব্র্যাক কিংবা কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সামনে কীভাবে ছাত্র-জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। রামপুরা ব্রিজ দখল করে রাখতে ইস্ট ওয়েস্ট ভার্সিটি, ইম্পেরিয়াল কলেজ ও আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা। এই চর্চা শুরু হয়েছিল নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে। ছাত্রদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল দোকানদার, চাওয়ালা, হকাররা। এলাকাবাসী আন্দোলনকারীদের ঘরে আশ্রয় দিয়েছিল, রাস্তায় পানি ও খাবার দিয়েছিল। মেইন রাস্তার পাশে অনেক মসজিদ ও মাদ্রাসার দেয়ালে গুলির দাগ দেখাল সেখানকার লোকজন। মাদ্রাসার ছাত্ররা নেমেছিল বাড্ডা-ভাটারায়।

ঢাকার রাজপথ, অলি-গলি, সবখানেই জুলাই লেখা আছে। কখনো দেখা হয়ে যায় গুলিবিদ্ধ কোনো আহত যোদ্ধার সাথে। কিংবা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। বাড্ডা-রামপুরার অনেক শহীদ পরিবার অভ্যুত্থানের পর ঢাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, রাজনৈতিক হুমকি, মামলা-বাণিজ্য আর অর্থনৈতিক চাপের কারণে। এক পিঠা বিক্রেতা খালার সঙ্গে কথা হলো। ভেবেছিলাম, হয়তো আমাকে চিনবে না। কিন্তু উনি ভালো করেই চিনলেন। বললেন, আমি গুম হওয়ার পর অনেক দোয়া করেছিলেন।

অনেক মা আমাকে দেখে কেঁদেছেন। আন্দোলনের সময় আমাদের জন্য কতটা দোয়া করেছেন-সেই স্মৃতি টেনে এনেছেন। এক আন্টি এসে বললেন, এক দফা ঘোষণার দিন তিনি শহীদ মিনারে আমার ঠিক সামনেই ছিলেন। রামপুরা থেকে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন।

আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই আমি গুলশান-বাড্ডা থেকে পায়ে হেঁটে বনশ্রী বাসায় যাচ্ছিলাম। সেদিন মনে হয়েছিল বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করি। আন্দোলন শুরুর পর একদিনও বাসায় যাইনি। বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই বনশ্রীতে গোলাগুলি শুরু হয়। আমার বাসার সামনেই একজন গুলিতে শহীদ হন সেই রাতেই আমি গুম হই। পরদিন কারফিউ ছিল।

আমার জন্ম, গ্রাম, ভিটে, বড় হওয়া সবকিছু জড়ায় আছে বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রীতে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণায় এই এলাকাকে আমি নতুন করে চিনছি। অলি-গলি আর মানুষের সঙ্গে আরও গভীর আত্মীয়তা তৈরি হচ্ছে। কখনো দেখি ধানের শীষের অনেক সমর্থকরাও চুপ করে রাস্তায় বা বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে থাকেন, আমাকে দেখার জন্য।

প্রতিদিন শুনি মানুষের গল্প- বেঁচে থাকার লড়াই, কষ্ট আর প্রত্যাশা। কেউ ছেলের জন্য চাকরি চায়, কেউ মায়ের অপারেশনের জন্য সাহায্য। কেউ মসজিদের সামনের রাস্তাটা ঠিক করে দিতে বলে। কেউ তার দখলকৃত জমিটা উদ্ধার করে দিতে বলে।

কোথাও তীব্র গ্যাস সংকট। নেই খেলার মাঠ, নেই ভালো ক্লিনিক। কেউ চায় সরকারি স্কুল। বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। প্রচণ্ড ট্রাফিক জ্যাম। আছে নিরাপত্তার শঙ্কা, অকার্যকর আইনশৃঙ্খলা ও ক্ষমতাবানদের দৌরাত্ম্য। ঢাকা শহরের সব সমস্যাই এখানে জড়ো হয়েছে।

‘মানুষ বলে ভোটের সময় রাজনীতিবিদরা আসে, বুকে জড়িয়ে ধরে এবং প্রতিশ্রুতি দেয়, ভোটের পর আর খোঁজ থাকে না। প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং ভাঙাই যেন এ দেশের রাজনীতি। তারপরও মানুষ কথা বলে। প্রত্যাশা রাখে। প্রতিশ্রুতি শুনতে চায়। নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে।

কেউ কেউ আমাকে বলেছেন, আমার ভেতর জড়তা আছে। আমি প্রথম দেখাতে অপরিচিত কারও সঙ্গে ইমোশন এক্সপ্রেস করতে পারি না। আবার অভিনয়ও পারি না। কিন্তু যেই ভালোবাসা মানুষ আমাকে দিচ্ছে একই পরিমাণ দরদ তাদের প্রতিও আমার আছে।

নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, জানি না। কিন্তু রাজনীতি-হার-জিতের ঊর্ধ্বে মানুষের এই ভালোবাসা, নিজের এলাকাকে নতুন করে চেনা- এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।’

কালবেলা/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি কমছে

সরিষাবাড়ী পৌরসভায় তীব্র পানি সংকট, বিপর্যস্ত জনজীবন

সরকারি খালে ৫৮ অবৈধ বাঁধ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে অপসারণ ৯

গায়ানায় ফেরি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

বেলিসিমো রোটনডো নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে কাজী ফুডের ব্যাখ্যা

‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ বলে শিক্ষার্থীকে বলাৎকার মাদ্রাসা শিক্ষকের 

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে দেখতে চান ট্রাম্প

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে রাজশাহীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড়

প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি বাদামি রঙের ডানার প্রজাপতি ‘খৈরি’ 

১০

সাত লাখ কৃষকের ৬০৫ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ

১১

সুষম খাদ্যাভ্যাস ও জাঙ্ক ফুড পরিহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিহার্য

১২

ইরানকে রাশিয়া ও চীন বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে, দাবি পিট হেগসেথের

১৩

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে ১৮৫ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু আজ

১৪

টিভিতে আজকের যত খেলা

১৫

মিনিবাস-ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

১৬

চায়ের গ্লাসে ইস্তাম্বুলের গল্প: প্রতিটি চুমুকে মিশে আছে অটোমান ঐতিহ্য

১৭

স্বর্ণের আজকের বাজারদর

১৮

জর্ডানে হামলায় নিখোঁজ মার্কিন সেনা নিহত বলে ধারণা পেন্টাগনের

১৯

ইতিহাসের এই দিনে স্মরণীয় ঘটনা

২০
X