

‘শেখ মুজিব পাকিস্তান ভাঙতে চাননি, তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি’—স্পিকারের এমন বক্তব্যকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় দলিলের প্রতি অবমাননা এবং ‘ইতিহাস বিকৃতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যারা দাবি করেন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান ভাঙতে চাননি, তাদের ইতিহাস সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা ছিল মূলত পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক আত্মনিয়ন্ত্রণের সনদ।’
রিপন বলেন, ‘এই ছয় দফায় রাজস্ব, মুদ্রা, বৈদেশিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত করার যে দাবি তোলা হয়েছিল, তা ছিল কার্যত একটি স্বশাসিত রাষ্ট্রের ভিত্তি। এ কারণেই তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী একে ‘‘পাকিস্তান ভাঙার সনদ’’ হিসেবে অভিহিত করে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেছিল।’
মাহমুদ হাসান রিপন আরও উল্লেখ করেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি, তখন বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে পরিষ্কারভাবে ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’’ বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা পরবর্তীতে ১০ এপ্রিল ১৯৭১-এর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক ভিত্তি লাভ করে।’
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে এম. এ. হান্নান এবং পরবর্তীতে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছিলেন। ঘোষণাদাতা ও ঘোষণাপত্র পাঠকারী বা প্রচারকারীকে এক করে দেখা সঠিক ইতিহাস নয়, বরং এটি ইতিহাসের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিকৃতি।’
তিনি আন্তর্জাতিক নথির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘১৯৭১ সালে ‘‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’’ (The New York Times), ‘‘দ্য টাইমস’’ (The Times, London) এবং ‘‘নিউজউইক’’ (Newsweek)-সহ বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যমগুলো বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং তার স্বাধীনতার ঘোষণার খবর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে।’
সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘ইতিহাস কারও মনগড়া বক্তব্যে বা ক্ষমতার ভাষণে বদলে যায় না; এটি শহীদের রক্তে লেখা হয়। বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অস্বীকার করা। ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকবে।’