

টকশোতে অনেকে ইনিয়ে বিনিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর তারা আড়ালে চলে গিয়েছিল, এখন আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার আমলে এই-ওই হয়েছে বা বড় একটি রাজনৈতিক দলকে কেন রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না—এ ধরনের বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে। শেখ হাসিনা যদি এতোই বাহাদুর হন, তাহলে পালালেন কেন? খালেদা জিয়া তো পালাননি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মোড়ে ‘যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নানা চাপ ও হুমকি থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ ছাড়েননি। অথচ ওই সময় শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার শাসনামলেও তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে। তবে কোনো অন্যায় চাপের কাছে তিনি মাথানত করেননি।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খানের যে উত্তরাসূরি রাজনীতি তাদের তো আনতে হবে। টিক্কা খান ও ইয়াহিয়া খানকে মানুষ রক্তপিপাসু বলে জানত, শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কি করেছেন? শেখ হাসিনা যে কি নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন হবে কিভাবে? ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। তাদের রক্তের মধ্যে ফ্যাসিবাদ ও ভয়ংকর রক্তপিপাসুতা। তাহলে রাজনীতিতে কিভাবে ফিরে আসা সম্ভব? হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগের প্রতিরোধ ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। শ্রাবণের বৃষ্টির মত যাত্রাবাড়ীতে যখন গোলাগুলি করা হচ্ছিল। সেদিন শুধু বিএনপি-ছাত্রদল নয়, জামায়াত শিবির, মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোও বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এ সময় অভ্যুত্থানের সময়ে নিজের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও কারাজীবনের নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন রিজভী।
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর তারা বলল, শেখ হাসিনাকে মাফ করে দিলাম, ভারতের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেছে। জামায়াত সব সময় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে তারা নিজেরাই পানিতে পড়ে যায়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী ভারতে পালিয়ে ছিল। কিন্তু তাকে ভারত গ্রেপ্তার করেনি এবং ফেরত দেয়নি। আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার টোনে জামায়াত কথা বললে, জনগণ তা মেনে নেবে না। এ সময় গণতন্ত্রের চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।