বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ পিএম
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

১৭ বছর ধরে জুলাই অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে বিএনপি: এ্যানি

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি : কালবেলা
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি : কালবেলা

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে আজকের বিরোধী দল কোথায় ছিল? গত ১৭ বছর কোথায় ছিল? এসব তো প্রশ্নের বিষয়। আমরা তো জোট করেছি, যুগপৎ আন্দোলন করেছি। আজকে ৫ আগস্টের পর তারা বলে যে, বিরোধী দল নাকি একাই আন্দোলন করেছে! এ কথা তো অনস্বীকার্য যে, একটা অভ্যুত্থানের তো ভিত্তি লাগে। সেই ভিত্তি ছিল বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয় ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে আমরা বাংলাদেশি নামের একটি সংগঠন। ‘আমরা বাংলাদেশি’ সংগঠনের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সদস্য তমিজ উদ্দিন টিটুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোাসেন সেলিম, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দি ইকরাম, বিএনপি নেতা মোমিনুল আমিন, ইউনাইটেড লেবার পার্টির আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সব আওয়ামী লীগ তো পালিয়ে যায়নি। সবার মামলা তো একরকম নয়। বিরোধী দল সংসদে বলছে, তারা নাকি ভালো আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নেবে। এটা নিয়ে তো বিভেদের শুরু। নির্বাচনের আগে আমরা শুনেছি, তাদের অনেকে বহু টাকার মালিক হয়েছেন। কারও পিএস বা সহকারীর কাছে টাকা উদ্ধার হয়েছে। যারা বিগত দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজ ’৭১ সালের কথা বাদই দিলাম। কিন্তু ’৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদ থেকে শুরু করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে ছিল? তারা ভেবেছিল যে, এবার ক্ষমতায় আসবে। তবে বাস্তবে দিল্লি বহুদূর। তবে তারা কিছু আসন পেয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু কিছু নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির সমস্যা ছিল। একাধিক প্রার্থী ছিল। সেজন্যই তারা ভালো করেছে। অনেক আসনে প্রবাসী ভোটেও আমাদের দুর্বলতা ছিল। প্রবাসী ভোটকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এগুলো আসনে যাতে ফ্রেশ ইলেকশন হয়, এখন থেকেই খবর রাখতে হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমরা ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছি। মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশা আছে। তারা চায় স্বাভাবিক জীবন। সরকারের মাত্র পাঁচ মাস হলো। এখনো খুব বেশি সমাধান করতে পেরেছি, সেটা বলা যাবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন। তিনি কিছু কর্মসূচি নিয়েছেন। আশা করি, আমরা সকলে তাকে সহযোগিতা করলে দেশে কোনো অভাব থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে চুরি ও লুটপাটের কারণে আমাদের নানামুখী সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। জমি কমছে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ছোট্ট একটি দেশে ২০ কোটির ওপর মানুষ। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অসংখ্য প্রকল্প নিয়েছিলেন। আমরাও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনেক প্রকল্প নিয়েছি। এগুলোর জাগরণ তৈরি করতে চাই।

এসময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর ডিবি পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমরা বিভেদ নয়, ঐক্য চাই।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি তারা আজকে সংসদে বিরোধী দল হয়েছে। এটা দেশের জন্য লজ্জার। আজকে তাদের ১১ দলীয় জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে। আদতে এটি এখন ৯ দলে পরিণত হয়েছে। তারা নাকি আবার বিএনপি সরকারের পতন ঘটাবে। আমি বলব, নিজেদের পতন আগে ঠেকান। জনগণ আপনাদের প্রচারণা বুঝে গেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা তাদের এমপিদের কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে।

রাশেদ খান আরও বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের জাদুতে মুগ্ধ। তিনি যেভাবে চলাফেরা করছেন, ব্যয় সংকোচন করছেন তাই সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বিএনপি ঐক্যে বিশ্বাস করে কিন্তু জামায়াত সেটি করে না। ড. ইউনূসের প্রতি শ্রদ্ধা আছে তবে তার তো মাইনাস ফর্মুলা ছিল। তিনি বিএনপিকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন। জামায়াত এনসিপিকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করেছিল। সেজন্য তারা তো ফেব্রুয়ারি তে নির্বাচন চায়নি। নির্বাচন আদায় করে নেওয়া হয়েছে। আজকে বিরোধী দল অভ্যুত্থানের হুমকি দেন। এটা কী কখনো সম্ভব? গণঅভ্যুত্থানের নায়ক যেই নাহিদ জামায়াতের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিল, সেই নাহিদ আজকে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, আমরা সবার আগে বাংলাদেশ বিনির্মাণ স্লোগান ধারণ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা বাংলাদেশি সংগঠনের সূচনা।

কালবেলা/এআই/এমএইচ/ইএস
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ দলীয় জোট থেকে লেবার পার্টির বহিষ্কার চান দেওনার পীর

কাপ্তাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

শাকিবের সঙ্গে রোমান্সে ছিল না কোনো অস্বস্তি, জানালেন সাবিলা নূর

রাকসু কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, ৬ দফা দাবি

ভারতীয় কারাভোগের পর দেশে ফিরলেন ৫ বাংলাদেশি নারী 

যমুনা নদীর বাঁধে ফের ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

কুলাউড়া পৌর বিএনপির কমিটি স্থগিত

সারা অ্যাডভারটাইজিংয়ের এমডি আনোয়ার হোসেন মিন্টু আর নেই

লক্ষ্মীপুরে ১৬ নেতার পদত্যাগের পর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত 

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নে নতুন নীতিমালা

১০

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

১১

এক অগ্নিকাণ্ডেই ভেঙে গেল ৬ পরিবারের স্বপ্ন

১২

কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে, অভিযোগ হেফাজতের

১৩

স্কুলছাত্র সোহান হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড

১৪

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে শেখ রফিকুল ইসলামের যোগদান

১৫

ডিজিটাল ব্যাংকিং যুগে পদার্পণ করল আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক

১৬

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ৪,৩৩৩

১৭

৮৪ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

১৮

ঢাকা-চট্টগ্রাম ‎মহাসড়কে চলন্ত স্ক্র্যাপবোঝাই লরিতে আগুন

১৯

তৃতীয় লিঙ্গ নিয়োগ পেল বরিশাল সিটি করপোরেশনে 

২০
X