

প্রশ্ন : আমরা জানি যে, রোজা অবস্থায় গড়গড়া করা যাবে না। এখন ফরজ গোসলে গড়াগড়া কুলি করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে রোজা অবস্থায় কারো গোসল ফরজ হলে তিনি কীভাবে তা সম্পন্ন করবেন? গড়গড়া না করলে এবং নাকের নরম অংশে পানি না পৌঁছলে তার গোসল সম্পূর্ণ হবে কি? রমজানে ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম কী?
-মুহিবুর রহমান রাজু, বাহুবল, হবিগঞ্জ
উত্তর- ১ : রোজা অবস্থায় যেহেতু গড়গড়া করে কুলি করলে এবং নাকের গভীরের নরম স্থানে পানি পৌঁছানোতে ভেতরে পানি প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই গড়গড়া ও নাকের নরম স্থানে পানি পৌঁছানোতে বেশি চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে কুলি ও নাকে পানি দেবে। এতে গোসল আদায় হবে যাবে। পেরেশান হবার কোনো কারণ নেই। (তাহতাবি আলা মারাকিল ফালাহ, কিতাবুত তাহারাহ, ‘ফরজে গোসল বর্ণনা’ অধ্যায় : পৃষ্ঠা ১০২)
উত্তর- ২ : রমজানে ফরজ গোসলের আলাদা অন্য কোনো নিয়ম নেই। এটা সারা বছরই সমান (কেবল গড়গড়া ও নাকের গভীরে পানি পৌঁছানোর বিষয়টি রমজানে শিথিল)।
ফরজ গোসলের মাসনুন নিয়ম
গোসলের আগে প্রস্রাব-পায়খানা সেরে নেবে। এতে বীর্য ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে বের হওয়া সহজ হয়। তারপর বিসমিল্লাহ বলে প্রথমে দুই হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করবে। এরপর ডান হাতে পানি নিয়ে বাঁ হাত দিয়ে শরীরের যেসব জায়গায় বীর্য ও নাপাকি লেগে থাকে, তা ধুয়ে পরিষ্কার করবে।
এবার বাঁ হাত ভালো করে ধুয়ে ফেলবে। তারপর অজু করবে (অবশ্য অজুর মধ্যে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া সুন্নত হলেও ফরজ গোসলের পূর্বে যে অজু করা হয়, সেই অজুতে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ফরজ), তবে পা ধৌত করবে না। অতঃপর পুরো শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে তিনবার ডানে, তারপর তিনবার বাঁয়ে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোনো অংশ এমনকি কোনো লোমও শুকনা না থাকে। নাভি, বগল ও অন্যান্য জায়গায় পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে। সব শেষে গোসলের জায়গা থেকে সামান্য সরে গিয়ে দুই পা তিনবার ধুয়ে নেবে। (হেদায়া : ১/৩০)
উত্তরদাতা
মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান
মুহতামিম, জামিয়াতুল কোরআন, ঢাকা