কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যে তিন অভিযোগে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির তখনকার কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আসামি অপর দুই পুলিশের একজনের যাবজ্জীবন ও অপরজনের ২০ বছরের সাজা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুজন হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান। একই থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার যাবজ্জীবন এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগ গঠনের সময় আসামিদের বিরুদ্ধে মোটাদাগে তিনটি অভিযোগ আনা হয়।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশনায় এবং তখনকার ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের আদেশে আসামিরা নিজেদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার বাইরে গিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালান। ওই বছরের ১৯ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে আড়াইটার দিকে বনশ্রী এইচ ব্লকে জামে মসজিদের সামনের গলিতে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তখন মো. নাদিম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি পেটে দুটি গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

দ্বিতীয় অভিযোগে, কার্নিশে ঝুলে থাকা ১৮ বছরের তরুণ আমির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও গুরুতর জখম করার ঘটনা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলি ও ধাওয়া খেয়ে বনশ্রী জামে মসজিদের পাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন। আত্মরক্ষায় তিনি ওই ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের পাইপ ধরে ঝুলে ছিলেন। সেখানে এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার ও এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া উপস্থিত হয়ে তাকে নিচে লাফ দিতে বলেন। ওই তরুণ লাফ না দেওয়ায় পর পর ছয়টি গুলি করা হয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।

মামলার তৃতীয় অভিযোগে, মায়া ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে গুলি করে হত্যা এবং তার ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাকে হত্যাচেষ্টার বিবরণ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে বনশ্রী জি ব্লকে রামপুরা থানার সামনের একটি বাসার নিচতলায় গেইটের ভেতরে দাদি-নাতি অবস্থান করছিলেন। আসামিরা যখন ক্রমাগত গুলি চালাচ্ছিল, তখন পুলিশের একটি বুলেট শিশু মুসার মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং তা সরাসরি তার দাদি মায়া ইসলামের পেটে বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলাম মারা যান।

শুনানি শেষে আজ রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১'র চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রাণহানি ৩ হাজার ৩৪২ / ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে সরকারের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ

সৈয়দপুর পৌরসভা ঘেরাও

গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

চট্টগ্রামের খাবারের প্রশংসায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত

৫ বছরের শিশু আসমা ধর্ষণ-হত্যায় চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: বাবাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করলেন ছেলে

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

গ্রামীণ বাংলার স্বাদ-সংস্কৃতির আয়োজনে ফিরছে ‘বাংলার রসনা বিলাস ২.০’

‘ইরান ছাড়া লেবাননে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়’

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে বাংলা একাডেমিতে শেষ শ্রদ্ধা

১০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ

১১

তরুণ ও গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে বিয়ে

১২

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হলেও সম্ভব: গালিবাফ

১৩

দুদককে বাঁচিয়ে রাখতে হবে: বিদায়ী মহাপরিচালক

১৪

বিশ্বকাপের মধ্যেও জুলাইয়ের হলিউড উন্মাদনা

১৫

নবম পে স্কেল: শতভাগ মূল বেতনসহ সরকারের কাছে দুই প্রস্তাব

১৬

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের

১৭

‘ইসরায়েলের পাওয়া সবচেয়ে বড় বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্প’

১৮

১৫ আগস্ট নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

১৯

যৌন সম্পর্কের ঘটনায় অ্যান্ড্রুর ‘পিৎজা এক্সপ্রেস অ্যালিবাই’ নিয়েও হয়েছে তদন্ত

২০
X