যাকারিয়া মাহমুদ
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

তাকবিরে তাশরিক কার ওপর ওয়াজিব, কখন পড়বেন?

তাকবিরে তাশরিক কার ওপর ওয়াজিব, কখন পড়বেন?
ছবি : সংগৃহীত

তাকবিরে তাশরিক হলো আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ত্বের বর্ণনা। পরিভাষায়, হিজরি বর্ষের সর্বশেষ মাস জিলহজের সুনির্দিষ্ট দিনগুলোতে নির্দিষ্ট বাক্যের মাধ্যমে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করাকে তাকবিরে তাশরিক বলে।

জিলহজ মাসের ১১, ১২ ও ১৩—এই তিনদিনকে বলা হয় আইয়ামে তাশরিক। আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারাহর ২০৩ নম্বর আয়াতে এ-দিনগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো।’ হাদিসে এসেছে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আইয়ামে তাশরিক হলো, পানাহার ও আল্লাহর জিকিরের সময়। (মুসনাদে আহমাদ: ২০৭২২; সহিহ মুসলিম: ১১৪১)

তাকবিরে তাশরিক হলো— اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

কখন পড়তে হয় তাকবিরে তাশরিক?

জিলহজ মাস শুরু হতেই বেশি-বেশি তাকবির পড়া সুন্নত। এ-মাসের প্রথম দশকের দিনগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করতেন, তাকবির উচ্চারণ করতেন। পথ-ঘাটে কিবা হাট-বাজারে—সবখানেই শোনা যেত তাকবিরের সুর-লহরী।

হজরত ইবনে উমর (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর তাকবিরের আওয়াজ শোনে, তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতো বাজারের অন্যরাও। মিনার দিনগুলোতে তাকবিরের সুরে মুখরিত হতো চারপাশ! মহিলারাও বলতো অনুচ্চ স্বরে। (সহিহ বোখারি, ফাতহুল বারি: ২/৫৩০-৫৩৬)

তবে জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ আসর পর্যন্ত—মোট ২৩ ফরজ নামাজের পর প্রত্যেক মুসল্লির জন্য ন্যূনতম একবার বড় আওয়াজে তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। (ফতওয়াতে শামি: ২/১৭৯-৮০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস: ৫৬৭৭, ৫৬৭৮, ৫৬৯২; সুনানে দারাকুতনি, হাদিস: ২৫-২৯)

তাছাড়া ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে তাকবির বলতে বলতে যাওয়া ঈদুল আজহার বিশেষ সুন্নত। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৪/১৯২-১৯৪; সুনানে দারাকুতনি: ২/৪৪-৪৫)

কারা পড়বেন তাকবিরে তাশরিক?

প্রাপ্তবয়সী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমানের ওপর এটি পাঠ করা ওয়াজিব। চাই সে, মুকিম হোক বা মুসাফির, পুরুষ হোক কিবা নারী—অবশ্য নারীরা তাকবির বলবে অনুচ্চ স্বরে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৫২; রদ্দুর মুহতার: ২/১৭৮)

ইমাম আবু হানিফার (রহ.)-এর অভিমত অনুযায়ী, একাকী নামাজ আদায়কারী ও মুসাফির এবং নারীদের ওপর তাকবিরে তাশরিক যদিও ওয়াজিব নয়, তবে সাহেবাইন তথা ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহ.)-এর অভিমত অনুযায়ী সবার ওপরই ‘ওয়াজিব’।

উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে সাহেবাইনের কথার ওপরই ফতওয়া। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৪/২৪০-২৪১, ২৫১, রদ্দুল মুহতার: ২/১৮০)

তবে সুন্নত, নফল, বিতর নামাজ আদায়কারীর জন্য তাকবির ওয়াজিব নয়। (বাদায়েউস সানায়ে: ১/৪৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৫২)

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

কালবেলা/এটিআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাছ লাগানোর চেয়ে রক্ষা করাই কঠিন: ভূমিমন্ত্রী

আর্জেন্টিনায় চুরির শিকার উরুগুইয়ান ফুটবলারের মরদেহ উদ্ধার, নেমে এলো শোকের ছায়া

প্রকাশ্যে সংঘটিত অপরাধ অস্বীকারের বিষয়ে ইসলাম কী বলে?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত: মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি

কিশোরগঞ্জে একদিনে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ৫ জনের

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সংস্কার হলো সেই জলাবদ্ধ সড়ক 

চট্টগ্রামে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

বরিশালে নারী ইউপি সদস্যের আত্মহত্যা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানালেন আইনমন্ত্রী

১০

সমর্থকদের দিপকে বললেন, ‘আমাকে নায়ক বানাবেন না’

১১

পে স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ!

১২

ভারতে কাঁপাতে আসছে ব্রাজিল! আলোচনায় বাংলাদেশও

১৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার

১৪

জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

১৫

খেলাফত মজলিসের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

১৬

বাবার জানাজা শেষ করতেই এলো মেয়ের মৃত্যু সংবাদ

১৭

ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করে যে দলে যোগ দিলেন মেঘমল্লার বসু

১৮

ইসলামি সোশ্যাল মিডিয়া ‘আলফাফা’য় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ

১৯

পদত্যাগের পর যা বললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

২০
X