

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ইসলামের অন্যতম মৌলিক লক্ষ্য। কোরআনুল কারিম বারবার ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং জুলুম, অন্যায়, অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া থেকে সতর্ক করেছে। তাই আপনার সামনে কোনো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর সেটাকে অস্বীকার করা, অপরাধীকে রক্ষা করা, প্রমাণ নষ্ট করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া কিংবা বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করা ইসলামের দৃষ্টিতে বড় গোনাহ।
আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে বলেন, তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো। আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না। (সুরা মায়েদা: ২)
উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পাকিস্তানের মুফতি মোহাম্মদ শফি (রহ.) বলেছেন, মানুষের বোঝা উচিত যে, (প্রকাশ্যে সংগঠিত) অপরাধীর অপরাধ গোপন করা এবং সত্য সাক্ষ্য দানে বিরত থাকা, অপরাধের সহায়তা করার নামান্তর। এটা কোরআনের আইনে হারাম ও কঠোর পাপ। (মাআরেফুল কোরআন: পৃ. ৩০৭)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে দিও না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।’ (সুরা আল বাকারা: ৪২)
অন্য আয়াতে রব্বে কারিম ইরশাদ করেন, ‘তুমি খেয়ানতকারীদের পক্ষ অবলম্বনকারী হইও না।’ (সুরা নিসা: ১০৫)
কোরআনুল কারিমের এই আয়াতটি এমন এক ঘটনার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়, যখন এক অপরাধীকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। ওই মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুলকে পর্যন্ত সতর্ক করে দিয়েছেন, যেন কোনো অপরাধীর পক্ষ না নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য এর নির্দেশ কতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে!
রাসুল (সা.) বলেছেন, সাবধান মিথ্যা কথা ও মিথ্যা সাক্ষ্য (সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহের অন্তর্ভুক্ত)। তিনি কথাটি বারবার পুনরাবৃত্তি করেন। (বোখারি: ২৬৫৪)
অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বা সত্য গোপন করা এই কঠিন হুঁশিয়ারি অন্তর্ভুক্ত।
জালিমকে রক্ষা নয়, জুলুম থেকে ফিরিয়ে আনাই প্রকৃত সাহায্য
হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালিম হোক বা মজলুম। সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, মাজলুমকে সাহায্য করা বুঝলাম, কিন্তু জালিমকে কীভাবে সাহায্য করব? তিনি বললেন, তাকে জুলুম করা থেকে বিরত রাখবে। এটাই তাকে সাহায্য করা। (বোখারি: ৩৪৪)
অতএব অপরাধীকে আড়াল করা বা তাকে আইনের আওতার বাইরে রাখার চেষ্টা করা, ইসলামের শিক্ষা নয়; বরং তাকে অন্যায় থেকে ফিরিয়ে আনাই প্রকৃত সহানুভূতি। অন্যায়ের পক্ষে ওকালতি করার পরিণতির ব্যপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায় বিষয়ে বিতর্ক বা পক্ষপাত করে অথচ জানে যে, সে অন্যায়ের পক্ষে রয়েছে, সে আল্লাহর ক্রোধের মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না সে তা থেকে ফিরে আসে। (আবু দাউদ: ৩৫৯৭)
লেখক: শরিয়াহ কনসালট্যান্ট