আদালত অবমাননা  / ফের পেছাল বিএনপির ৭ আইনজীবীর শুনানি
বিএনপি সমর্থিত সাত আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি ফের পেছাল। বুধবার (২৪ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ শুনানির জন্য আগামী ১২ জুন নির্ধারণ করেন। এদিকে আদালতের অনুমতি ছাড়াই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। পরে শুনানির দিন ৭ আইনজীবীকেই আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিএনপির বাকি ৫ আইনজীবী হলেন- জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহসম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. কামরুল ইসলাম সজল। গত বছরের ১৫ অগাস্ট শোক দিবসের আলোচনা সভায় ‘বিচারপতিরা শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ উল্লেখ করে দুই বিচারকের বক্তব্য ধরে তাদের অপসারণ চেয়ে কর্মসূচি পালন করেন বিএনপির আইনজীবীরা। পরে তারা সুপ্রিম কোর্টে সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিল করেন এবং দুজন বিচারপতির বিরুদ্ধে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলনসহ তাদের বিচারকাজ থেকে বিরত রাখতে কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। পরে গত ২৯ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টে সাত আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে আইনিব্যবস্থা চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথি।
২৪ এপ্রিল, ২০২৪

যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক রিমান্ডে 
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এক শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত-মারিয়ামের সহকারী অধ্যাপক রশি কামালের (৪০) চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।  বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসানের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে অনলাইনে উত্ত্যক্ত ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঢাকার পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী নারী। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলা এজাহারে শিক্ষিকা উল্লেখ করেন ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে আমার একটি গবেষণা ইন্দোনেশিয়ান জার্নাল অব সোশ্যাল রিসার্চ নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়। গত ১৭ মার্চ আমার বর্তমান বাসায় অবস্থানকালে আমার ব্যক্তিগত ইমেইলে আমার প্রকাশিত গবেষণাপত্রটি চেয়ে আসামি রশি কামাল তার মেইল থেকে অনুরোধ করেন। সে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন বলে পরিচয় দেয়। আসামির অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি আমার গবেষণাপত্রটি তার মেইলে পাঠিয়ে দেই। আমার গবেষণাপত্রটি আসামি পড়ে এবং খুব প্রশংসা করে। একটি কনফারেন্সে প্রকাশের জন্য আমার সাথে যৌথভাবে গবেষণা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। আমার কাছে সিভি চাইলে আমি তা প্রদান করি। পরে আমি তার রিসার্চ গেটের লিংক চাইলে সে তার ই-মেইল থেকে আমার ইমেইলে পাঠায়। আমি তার গবেষণাপত্রগুলো পড়ে বুঝতে পারলাম, তার গবেষণাগুলো ইঞ্জিনিয়ারিংসংক্রান্ত যা আমার গবেষণার বিষয় থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিধায় আমি তার সাথে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করিনি। তবুও সে আমার সাথে স্কাইপে ভিডিও কলে কথা বলার জন্য বারবার অনুরোধ করে, কিন্তু আমি তার সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে রাজি হইনি। মামলার এজাহারে তিনি আরও বলেন, গত ২৯ মার্চ রাত ১ আসামি আমাকে ফোন দেয় এবং সেক্সচুয়াল হয়রানিমূলক কথাবার্তা বলে ফোন রেখে দেয়। আসামি আমার হোয়াটসঅ্যাপসহ আমার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে নিজেকে রশি কামাল পরিচয় দিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মার্চ রাত থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হতে আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে অশ্লীল যৌন হয়রানিমূলক কথাবার্তা বলে ধর্ষণ করার হুমকি প্রদান করে। এ সময় হোয়াটসঅ্যাপে পর্নো ছবি পাঠায়। আমি তাকে এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে সে আমাকে গালাগাল করে এবং নোংরা ছবি নেট দুনিয়ায় ছেড়ে দিয়ে আমার মান-সম্মান ও সামাজিক মর্যাদাহানি করবে বলে হুমকি প্রদান করে। 
১৮ এপ্রিল, ২০২৪

সড়ক দুর্ঘটনারোধে প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে শৃঙ্খলা জোরদারে সারাদেশে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার্কেল অফিসের সহকারী পরিচালকরা (ইঞ্জি.) জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। বিআরটিএর বিভাগীয় পরিচালক (ইঞ্জি.) ও উপপরিচালকদের (ইঞ্জি.) এ কার্যক্রম তদারকি করতে বলেছে সংস্থাটি। বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিআরটিএ সদর দপ্তরের পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, উপযুক্ত বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক জানানো যাচ্ছে, অবৈধ নসিমন-করিমন, থ্রি-হুইলার, ফিটনেসবিহীন মোটরযান ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল সড়ক মহাসড়কে চলাচল, মোটরযানের অতিরিক্ত গতি এবং মালবাহী গাড়িতে যাত্রীবহন ইত্যাদি অনিয়মের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং ট্রাফিক পুলিশের অভিযান জোরদার করার মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ করে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বিআরটিএর সার্কেল অফিসের সহকারী পরিচালকরা (ইঞ্জিনিয়ার) জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেন। এ অবস্থায়, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস কল্পে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার্কেল অফিসের সহকারী পরিচালকরা (ইঞ্জিনিয়ার) জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
১৮ এপ্রিল, ২০২৪

সাংবাদিককে কারাদণ্ড / আমি কোনো অন্যায় করিনি, বললেন সেই ইউএনও
তথ্য চাওয়ায় শেরপুরের নকলায় এক সাংবাদিককে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড দেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিন বলেছেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি।  মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকাল সোয়া ১০টায় তিনি তথ্য কমিশনের কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। পরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশনের কার্যালয়ে তিনি শুনানিতে অংশ নেন। দুপুরে তথ্য কমিশন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।  সাদিয়া উম্মুল বানিন বলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি, যা বলার কমিশনে বলেছি। ওনি (সেই সাংবাদিক) অপরাধ করেছিলেন, তাই শাস্তি পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ফাইল ধরে টানাটানি করেছিলেন, নারীকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন। এর আগে গত ৫ মার্চ ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে একটি সরকারি প্রকল্পের তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা। এ সময় আবেদন প্রাপ্তির অনুলিপি চান তিনি। এক পর্যায়ে ইউএনওর নির্দেশনায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাবুল আরিফের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে রানাকে দণ্ডবিধির দুটি ধারায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের স্ত্রী বন্যা আক্তার বলেন, তথ্য চেয়ে ইউএনও কার্যালয়ে আবেদন জমা দেন তার স্বামী। আবেদন করার পর আবেদনের রিসিভ কপি চান তিনি। এ সময় ইউএনওর অনুমতি ছাড়া তা দেওয়া যাবে না বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী (সিএ) শিলা আক্তার। এ নিয়ে তর্কের জেরে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এদিকে গত ৯  মার্চ তথ্য কমিশনের সদস্য, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ শহিদুল আলম শেরপুরে যান। তিনি কারাগারে রানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্নজনদের সঙ্গে কথা বলে কমিশনে প্রতিবেদন দেন। সাজার বিরুদ্ধে আপিল ও জামিনের পর গত ১২ মার্চ রানাকে জামিন দেয় জেলা প্রশাসন। ওই দিন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।  আগামী ১৬ এপ্রিল শেরপুর জেলা প্রশাসনে আপিলের ওপর শুনানির দিন ধার্য আছে।
০২ এপ্রিল, ২০২৪

পিএসসির চেয়ারম্যান-সদস্যসচিবদের আদালত অবমাননার নোটিশ
৪৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে উত্তীর্ণদের তালিকা ৩০ দিনের মধ্যে প্রকাশে হাইকোর্টের নির্দেশ না মানায় চেয়ারম্যান-সদস্যসচিবদের আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  সোমবার (১ এপ্রিল) ৪৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে উত্তীর্ণদের পক্ষে এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মারুফ হোসেন।  তিনি বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ৪৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে উত্তীর্ণদের তালিকা ৩০ দিনের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু পিএসসি বিষয়টি পাত্তা দেয়নি। এ জন্য আজ পিএসসি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, সদস্য সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনন্দ কুমার বিশ্বাসকে অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে তালিকা প্রকাশ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করব। এদিকে নোটিশে বলা হয়, আপনারা সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ পেয়েছেন এবং আদালতের আদেশ সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত আছেন। আদালতের আদেশ মেনে চলতে আপনারা বাধ্য। কিন্তু এখনো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ আমলে নেননি। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন যেটা গুরুতর অবমাননাকর। দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা এবং অবাধ্যতার জন্য আপনাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। নোটিশ পাওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে আদালতের আদেশে আপনাদের বিধিমালা অনুসারে ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় নন-ক্যাডার উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করার জন্য এবং এই মর্মে গৃহীত পদক্ষেপগুলি নিশ্চিত করে নোটিশের উত্তর দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। অন্যথায়, আপনাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমাদের কাছে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের বেঞ্চ ৪৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে উত্তীর্ণদের তালিকা ৩০ দিনের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে জারি করা রুলে ৪৩তম বিসিএস থেকে ৬৪২ জনকে নন-ক্যাডারের বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুপারিশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে ৪৪তম বিসিএসের ফল প্রকাশ না করা পর্যন্ত যত নন-ক্যাডার শূন্যপদ হবে, তার তালিকা করে ৪৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণদের থেকে নিয়োগের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়। ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও ক্যাডার পদে সুপারিশ পাননি এমন ৫০০ জন চাকরিপ্রার্থী গত ২৯ জানুয়ারি এ রিট আবেদন করেন। রিটে পিএসসি চেয়ারম্যান ও জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। তাদের আবেদনে বলা হয়, ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পরে ওই বিসিএসে মোট ৯৮৪১ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পিএসসি ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নন-ক্যাডার পদে চাকরি করতে ইচ্ছুক এমন প্রার্থীদের অনলাইনে পছন্দক্রম আহ্বান করে। গত ২৬ ডিসেম্বর বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিস পদে ২১৬৩ জনকে এবং একই সঙ্গে ৬৪২ জনকে বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়। অথচ নন-ক্যাডার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি। যেটি ‘নন ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা ২০১০, সংশোধিত ‘বিধিমালা ২০১৪’ এর পরিপন্থি।
০১ এপ্রিল, ২০২৪

বনশ্রীতে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান
রাজধানীর বনশ্রী টেকপাড়া এলাকায় সড়কের জায়গা দখল করে র‌্যাম্প নির্মাণ ও নকশা বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এসময় বেশ কয়েকটি নকশা বহির্ভূত ভবনের আংশিক অপসারণ করা হয়। রোববার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন রাজউকের পরিচালক (অডিট ও বাজেট) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, বনশ্রী টেকপাড়া এলাকায় নকশা বহির্ভূত কয়েকটি বহুতল ভবনের আংশিক অপসারণ করা হয়। নকশা বহির্ভূত নির্মাণাধীন ভবনগুলোর সেটব্যাক ও ভয়েড এ ব্যত্যয় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নেওয়া হয় মুচলেকা। এ ছাড়াও কয়েকটি ভবন মালিক রাস্তায় জায়গা দখল করে র‌্যাম্প নির্মাণ করার তাৎক্ষণিকভাবে তা অপসারণ করা হয়। মোবাইল কোর্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন রাজউক জোন-৬ এর পরিচালক সালেহ আহমদ জাকারিয়া, অথরাইজড অফিসার প্রকৌশলী জোটন দেবনাথ, সহকারী অথরাইজড অফিসার প্রকৌশলী সাব্বিরুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় প্রকৌশলী জোটন দেবনাথ বলেন, ভবন নির্মাণে রাজউক অনুমোদিত নকশা মেনে ভবন নির্মাণ করবে এবং রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী রেখে মানুষ চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি যাতে না করে সেই বিষয়ে সবাই সচেতন করা হচ্ছে।
৩১ মার্চ, ২০২৪

কুমিল্লার হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে সেই লিফট সিলগালা
নানা অনিয়মের দায়ে কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালকে ২ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে রোগী নিয়ে বন্ধ হওয়া ভাইরাল সেই লিফটিও সিলগালা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা।  এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহমেদ মনজুরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা রাহাত বিন কাশেম ও মেহেদী হাসান। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা জানান, কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল কুমিল্লা টাওয়ার ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট লিফট দায়সারা মেরামতের কাজ করেই রোগীসহ তাদের আত্মীয়স্বজনদের ওঠানামা করাচ্ছিল বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে অভিযোগ আসে। এ রকম বারবার ঝুঁকি নিয়ে রোগী ওঠানামা করানোর সময় অতি সম্প্রতি দুবার লিফট বন্ধ হয়ে রোগী আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।   ‘আজ পর্যবেক্ষণে এসে দেখা গেছে, সেই লিফ্টটি স্থায়ীভাবে মেরামত না করেই আবার রোগী ওঠানামার কাজ চলছিল। একই লিফট ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় সেটিকে সিলগালা করে দেওয়া হয়। তাদেরকে গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী দিয়ে এই লিফ্ট চলাচলের উপযোগী কিনা প্রত্যয়ন নিয়ে চালু করতে হবে।’ বলেন তিনি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ভবনটির বেজমেন্টে অন্তত ১৩টি ডাক্তারের চেম্বার চালু রেখেছিল, যা নিয়মবহির্ভূত। সেগুলোকেও বন্ধ করে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। নানান অনিয়মের দায়ে এই হাসপাতালটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল যা কুমিল্লা নগরীতে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতাল নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে রোগীসহ অন্তত তিনবার লিফট আটকে পড়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
২৯ মার্চ, ২০২৪

রাজশাহীতে ৩৫ কিশোরকে মুক্তি দিলেন আদালত
সংশোধনের জন্য প্রবেশনে থাকা ৩৫ কিশোর আর কোনো অপরাধে না জড়ানোয় তাদের হাতে ফুল ও জাতীয় পতাকা দিয়ে চূড়ান্ত মুক্তি দিয়েছেন রাজশাহীর শিশু আদালত-২। সোমবার (২৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে আদালতে এই কিশোরদের মামলাগুলোর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রবেশনে থাকার সময় সন্তোষজনক আচরণ থাকায় আদালতের বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান তাদের চূড়ান্ত মুক্তি দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এসব কিশোরের কারও বিরুদ্ধে ছিল মারামারির অভিযোগ, কেউ ঘটিয়েছিল শ্লীলতাহানি। আবার মাদক সেবন কিংবা পরিবহনে চাঁদাবাজিতেও জড়িয়ে পড়েছিল কোনো কোনো কিশোর। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তাদের কারাগারে না পাঠিয়ে প্রবেশনের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছিলেন আদালত। এ জন্য বই পড়া, বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার, অভিযোগকারীর সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বেশকিছু শর্তও দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, শিশু আইন-২০১৩ শিশুদের সর্বোচ্চ স্বার্থ সংরক্ষণ করেছে। এই আইনের ৪৮ ধারায় শিশুদের অপরাধের জন্য তাদের কারাগারে না পাঠিয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আছে। এ আইনের ৩৭ ধারায় অভিযুক্ত শিশু ও অভিযোগকারী পক্ষের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে প্রবেশন কর্মকর্তার। সে আইন অনুযায়ী অভিযোগকারীর সঙ্গে শিশুদের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আদালত এই কিশোরদের কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন মেয়াদে প্রবেশন দিয়েছিলেন। বাড়িতে থেকে তাদের বই পড়া, বাবা-মায়ের সঙ্গে সুন্দর আচরণ, একই অপরাধ আবার না করা কিংবা কোনো অপরাধেই না জড়ানোসহ বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছিল। প্রবেশন কর্মকর্তা দুই মাস পর পর তাদের কার্যক্রমের ওপর আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছেন। এমন তিনটি প্রতিবেদনের পর প্রবেশন কর্মকর্তা একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি করে শিশুদের চূড়ান্ত মুক্তি দেওয়া হয়। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় আদালতের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুন্নাহার মুক্তি ও জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান তাদের হাতে একটি করে গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল তুলে দেন। এ ছাড়া তাদের একটি করে কাগজের জাতীয় পতাকা দেওয়া হয়। আদালতের এমন উপহার পেয়ে তারা খুশিমনে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরে তারা।
২৫ মার্চ, ২০২৪

মৌলভীবাজার আদালত প্রাঙ্গণেই আইনজীবীর মৃত্যু
মৌলভীবাজার আদালত প্রাঙ্গণেই অসুস্থ হয়ে প্রবীণ আইনজীবী অমল কান্তি চৌধুরী (৬৭) মারা গেছেন। রোববার (২৪ মার্চ) সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির বারে কর্মরত অবস্থায় নিজ চেয়ারেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অমল কান্তি চৌধুরীর বন্ধু অধ্যাপক সৈয়দ মুজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার সকালে অমল কান্তি চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বারে যান। সেখানে নিজ চেয়ারে বসা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ বোধ করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে, তার সহকর্মীরা দ্রুত শহরের লাইফ লাইন কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, তিনি ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অ্যাডভোকেট অমল কান্তি চৌধুরী মৌলভীবাজারের পোস্ট অফিস রোডের একটি বাসায় সপরিবার থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদরের মোস্তফাপুর ইউনিয়নের পাগুরিয়া গ্রামে। তিনি স্ত্রীসহ দুই ছেলে-মেয়ে রেখে গেছেন। এদিকে অ্যাড. অমল কান্তি চৌধুরীর মৃত্যুতে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনসহ জেলা বার সমিতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিকেলে নিজ গ্রামের শশ্মানঘাটে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। 
২৪ মার্চ, ২০২৪

এসিল্যান্ডকে দেখে ৫০০ টাকার তরমুজ হয়ে গেল ২০০
কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে এসিল্যান্ডকে দেখেই ৫০০ টাকার তরমুজ ২০০ টাকায় বিক্রি শুরু করে ব্যবসায়ীরা। আর দাম কমার খবরে দোকানে ভিড় জমে ক্রেতাদের। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এ ঘটনা ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তাছবীর হোসেন। জানা যায়, ব্যবসায়ীরা প্রতি পিস তরমুজ ৫০০ টাকায় বিক্রি করছিল। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পরিচালনায়  ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর পেয়েই তরমুজের দাম ৩০০ টাকা কমিয়ে দেয় তারা। আর দাম কমার খবরে দোকানে মুহূর্তেই জমে যায় ক্রেতাদের ভিড়। নিমিষেই বিক্রি হয়ে যায় শত শত তরমুজ। তরমুজ কিনে হাসিমুখে আব্দুস সালাম জানান, রোজার মধ্যে আজ প্রথম তরমুজ কিনেছি। এতদিন ৪০০-৫০০ টাকায় তরমুজ বিক্রি করায় কিনতে পারিনি। কিন্তু আজকে এসিল্যান্ড আসার পর তরমুজের দাম ২০০ টাকা হওয়ায় আমি তরমুজ কিনেছি।  দুইটা তরমুজ ৪০০ টাকায় কিনে মো. কামাল বলেন, এভাবেই যদি প্রশাসন বাজার মনিটরিং করত তাহলে অসাদু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে পারত না। আমরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং এ রকম অভিযান আরও পরিচালনা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।   মহেশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাছবীর হোসেন বলেন, আমরা ক্রয়মূল্য দেখেই ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভে বিক্রি করার জন্য বলে থাকি। যেখানে ক্রয়কৃত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে তাদেরকে জরিমানা করছি। আজ ১৮০ টাকা ধরে ক্রয়কৃত তরমুজ ২০০ টাকায় বিক্রি করেছে ব্যবসায়ীরা। নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালে রাখতে আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। 
১৯ মার্চ, ২০২৪
*/ ?>
X