উপজেলায় প্রার্থী হওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএনপি
বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পরও উপজেলা নির্বাচন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করা নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে প্রার্থীদের কাছে এ নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সবাই নোটিশ পেয়ে যাবেন বলে দলটির দপ্তর সূত্র জানিয়েছে। উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল সোমবার। দলীয় সূত্র জানায়, এ সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি—এমন নেতাদের বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশে বলা হয়েছে, দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। দল থেকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও আপনারা (প্রার্থী) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। তাই আগামী তিন দিনের মধ্যে এর জবাব দেওয়ার অনুরোধ করা হলো। দলের তথ্য মতে, পদধারী অন্তত ১৮ নেতাসহ বিএনপি ঘরানার কম-বেশি ৩৮ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। তারা সবাই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর বাইরে ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদেও দলের অনেকে নির্বাচন করছেন। তাদেরও কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। তথ্য মতে, প্রথম ধাপের নির্বাচনে বিএনপির অন্তত ৪৯ জন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ১১ জন প্রত্যাহার করেছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলার নেতারা গত কয়েকদিন একাধিকবার কথা বলেছেন। তার পরও কিছু নেতা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি।
২৪ এপ্রিল, ২০২৪

দুর্নীতি ও ব্যাংকের দুরবস্থাকে ইস্যু করতে চায় বিএনপি
সরকারকে চাপে ফেলতে এবার দুর্নীতি ও ব্যাংকসহ অর্থনীতির দুরবস্থাকে ইস্যু করতে চায় বিএনপি। সভা-সেমিনারসহ নানা প্রক্রিয়ায় দেশের মানুষের কাছে এসব ক্ষেত্রের বিদ্যমান চিত্র তুলে ধরবে দলটি। গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে ফরিদপুরের মধুখালী মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা, বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে মাহবুব উদ্দিন খোকনের অব্যাহতিসহ বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে স্থায়ী কমিটি কোনো আলোচনা করেনি বলে জানা গেছে। এদিকে ফরিদপুরের মধুখালী মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং পার্শ্ববর্তী প্রাইমারি স্কুলে দুই শ্রমিককে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। গতকাল দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় গত ১৮ এপ্রিল ফরিদপুরের মধুখালীতে একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও পার্শ্ববর্তী প্রাইমারি স্কুলে শৌচাগার নির্মাণের কাজ করার সময়ে সহোদর দুজন শ্রমিককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দলের পক্ষ থেকে এই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হচ্ছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। কমিটির সদস্যরা হলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বিজন কান্তি সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক অমলেন্দু দাশ অপু ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে এখন লুটপাট চলছে। দেশের অর্থনীতিতেও এক ধরনের দুরবস্থা বিরাজ করছে। এজন্য তারা সরকারকে দায়ী করছেন। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশবাসীর কাছে এ খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে চায় বিএনপি। শিগগির সংবাদ সম্মেলন কিংবা বিবৃতির মাধ্যমে এ বিষয়ে দলের বক্তব্য তুলে ধরা হতে পারে। এ ছাড়া সভা-সেমিনারেও বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন দলটির নেতারা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা কোনো মামলাই রাজনৈতিক নয়। অগ্নিসংযোগ, গ্রেনেড হামলা, আগ্নেয়াস্ত্র, চোরা চালান ও দুর্নীতির মতো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তরাই মামলার আসামি হয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার ধরন ও প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে বিএনপি। এ ইস্যুতে দলীয় অবস্থান তুলে ধরে বিবৃতি কিংবা সংবাদ সম্মেলন করা হতে পারে। বিএনপির দাবি, গত ১৫ বছরে সারা দেশে এক লাখের অধিক মামলায় তাদের ৫০ লাখের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। আর এসব মামলাকে গায়েবি, মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে আখ্যায়িত করছে দলটি। বৈঠকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে মাহবুব উদ্দিন খোকনের অব্যাহতি বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। খোকন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অন্তত দুজন সদস্য খোকনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তারা বলেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একটি সংগঠন। সুতরাং খোকন ইস্যুতে বিএনপিকেও নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটি (খোকনকে অব্যাহতি) জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা তাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি নিয়ে এখানে আলোচনার কিছু নেই। এরপর দলের হাইকমান্ডও সে আলোচনা আর বাড়ায়নি। খোকনকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে গুঞ্জন চলছে, দলের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সে ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তবে দলটির জ্যেষ্ঠ এক নেতার অভিমত, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তমূলক আলোচনা না হওয়ায় মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিষয়ে যে কোনো সময় সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কেননা, আলোচনা হলে ওখানেই বিষয়টির একটি মীমাংসা হয়ে যেত। এদিকে ২২ এপ্রিল প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলীয় প্রার্থীদের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে। বিএনপি উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও দলটির অন্তত ৩৮ জন সাবেক-বর্তমান নেতা কিংবা তাদের স্বজন চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন। প্রথম দফার নির্বাচনে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। তাদের মধ্যে ১৮ জন বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের পদধারী নেতা। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা নির্বাচনে থাকছেন, শিগগির তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় গত রোববার পটুয়াখালী ও কক্সবাজারের দুই নেতা এবং গতকাল মুন্সীগঞ্জের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটি উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়া নেতাদের প্রতি একটি বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৪ এপ্রিল, ২০২৪

ব্যাংককে নেওয়া হলো বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুকে
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে নেওয়া হয়েছে।  মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২টার দিকে আবদুল আউয়াল মিন্টুকে নিয়ে থাই এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। তিনি ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে তার স্ত্রী নাসরিন আউয়াল ও ছোট ছেলে তাজওয়ার এম আউয়াল আছেন। গত শুক্রবার রাতে আবদুল আউয়াল মিন্টু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে বাসায় ঘুমাতে যাওয়ার পর বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। একপর্যায়ে অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা হয়। এ সময় দ্রুত তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকেই তাকে ব্যাংককে নেওয়া হয়েছে। আবদুল আউয়াল মিন্টুর বড় ছেলে বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে খুব কম সময়ের মধ্যে আবার আক্রান্ত হওয়ার একটা ঝুঁকি থাকে। সে জন্য তাকে বামরুনগ্রাদে নেওয়া হয়েছে। এখন তার হৃদযন্ত্র কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যাবে। আবদুল আউয়াল মিন্টুর পরিবারের সদস্যরা তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দলের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।  
২৩ এপ্রিল, ২০২৪

বিএনপি নেতাদের মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টনে মিছিল
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহসম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলসহ কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে এক বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিজয়নগর গিয়ে শেষ হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এদিকে দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার প্রধানের ইচ্ছায় এদেশে আইনের প্রয়োগ হয়। প্রচলিত ফৌজদারি, দেওয়ানিসহ সকল আইন শেখ হাসিনার সংস্করণ অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হয়। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ দেশের বিরোধী দলের প্রধান নেতারাসহ লাখ লাখ নেতাকর্মীর ওপর নেমে আসা জেল-জুলুম, অত্যাচার আর অবিচারের প্রকটতা দেখে বিশ্ব সম্প্রদায় বিচলিত হলেও তাতে প্রধানমন্ত্রীর কোনো যায় আসে না। তার সকল অপকর্মের দায় নিয়েছে পাশ্ববর্তী দেশ।   
২৩ এপ্রিল, ২০২৪

বিএনপি ক্যাডার থেকে আ.লীগের বড় পদে
কাশেদুল হক বাবর ছিলেন এক সময়ের বিএনপির দুর্ধর্ষ ক্যাডার। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হন রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। দলীয় মনোনয়নে রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন। গত ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বাবর। বিএনপির আমলে নানা সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতন চালানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাশেদুল হক বাবর ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি দলটিতে যোগ দেন। বাবর বিএনপিতে যোগদানের পরই তার নির্দেশে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাজাপুর ও সিন্দুরপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয় নির্যাতনের স্টিমরোলার। ঘরবাড়ি ছাড়তে হয় অনেক নেতাকর্মীকে। বাবরের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তৎকালীন রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ক্রীড়া ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক, বর্তমান উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো. কামাল হোসেন। কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘আমি রাজাপুর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদে বসে ছিলাম। তখন বাবরের নেতৃত্বে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী আমার ওপর হামলা চালায় এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ভাঙচুর করে। আমি কোনোমতে বেঁচে ফিরি। পরে বাবর আমার বাড়িতে এসে আমাকে বাড়িঘর ছাড়ার হুমকি দিয়ে যায়। তারপর আমার পরিবার রাতের আঁধারে আমাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়। দুঃখের বিষয় হলো যার হাতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের রক্ত লেগে আছে, সেই বাবর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলের পদ ভাগিয়ে নিল এবং নৌকা নিয়ে চেয়ারম্যানও হলো।’ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাবরের হাতে আরও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মুন্সী নুরের জামান, লোকমান, শেখ আহমেদ, কুতুব উদ্দিন, বেলাল, শাহ জালাল, নুর উদ্দিন, নুর আলম, জাহাঙ্গীর, মিয়া, হুমায়ুন, মান্নান, জাহের, মহিউদ্দিন ও প্রয়াত আহছান উল্যাহ। তারা সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাবরের হাতে নির্যাতিত হন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মন্নান (বর্তমানে কুয়েত প্রবাসী)। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমলে একদিন আমি দোকানে চা খাচ্ছিলাম। তখন বাবরের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে এসে আমাকে মারধর করে এবং গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলে।’ আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর (বর্তমান সৌদি প্রবাসী) বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে সমর্থন করার কারণে বিএনপি আমলে বাবরের নেতৃত্ব বিএনপির কিছু নেতাকর্মী আমার চায়ের দোকানে এসে মাঘ মাসের শীতে শত শত মানুষের সামনে আমাকে তিন ঘণ্টা গলা সমান পানিতে দাঁড় করে রেখেছিল। পরে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।’ আওয়ামী লীগ সমর্থক বেলাল হোসেন (বর্তমানে সৌদি প্রবাসী) বলেন, ‘বাবর আমাকে এমন নির্মমভাবে মেরেছে তা কখনো ভুলতে পারব না। আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আমার বাবাকেও মারধর করে বাবর। সেই মাইরের যন্ত্রণা নিয়ে বাবা কবরে চলে গেছেন। আমাকে এখনো মাসে মাসে হাজার হাজার টাকার ওষুধ সেবন করতে হয়।’ নুর উদ্দীন (বর্তমানে সৌদি প্রবাসী) বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ সমর্থন করি, শুধু এ অপরাধে আমাকে বাবর ধরে এনে প্রচণ্ড মারধর শুরু করে। আমার চিৎকারে একজন বয়স্ক নারী ঝাঁপিয়ে পড়ে আমার প্রাণ রক্ষা করেন।’ এতদিন বাবরের অতীতের অত্যাচার-নির্যাতন নিয়ে ভুক্তভোগীরা ভয়ে মুখ খোলেননি। কিন্তু ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে কটূক্তি করার পর আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যরা তার অতীতের লোমহর্ষক কাহিনি সামনে এনেছেন। তারা মনে করেন বাবর কখনোই মুজিবের আদর্শ লালন করে আওয়ামী লীগ করেনি। সে ক্ষমতা ভোগদখলের জন্যই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। এখন দল তাকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন না দেওয়ায় সে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করতে পারে সে কখনোই আওয়ামী লীগের সমর্থক হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তিকারী বাবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা। জানতে চাইলে কাশেদুল হক বাবর বলেন, ‘আমরা পারিবারিকভাবেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে আসছি। আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকেই আজ এ পর্যায়ে এসেছি। কখনোই বিএনপিতে যোগদান করিনি। এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমি দেশের বাইরে চলে যাই। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সব মিথ্যা ও বানোয়াট।’ তবে রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘বাবর ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এটা শতভাগ সত্য। তিনি বিএনপিতে যোগদানের পর অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।’
২২ এপ্রিল, ২০২৪

তিনজনে চলছে আ.লীগ, অভিভাবকহীন বিএনপি
বছর পার হলেও সম্মেলনের সময় ঘোষিত তিন সদস্যের কমিটিতেই চলছে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় সংগঠনটির কার্যক্রম পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দলটির সাবেক ও পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। এদিকে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে অভিভাবকহীন জেলা বিএনপির কার্যক্রম। আর জাতীয় পার্টি (জাপা) আছে নিষ্ক্রিয় অবস্থায়। তাদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবিরকে সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাদের পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা করে কেন্দ্রে জমা দিতে নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু এক বছর পাঁচ মাসেও জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। জেলা কমিটি গঠন না করাই গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জখ্যাত আওয়ামী লীগের এ ঘাঁটিতে বরগুনা-১ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব মৃধা কালবেলাকে বলেন, ‘বরগুনার আওয়ামী পরিবারে চলছে দুর্বিষহ সংকট, সমন্বয়হীনতা ও শৃঙ্খলার অভাব। জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণের পথে। এখনো হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগসহ প্রায় সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। এভাবে চলতে থাকলে বরগুনা আওয়ামী পরিবার চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।’ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন মোবাইল ফোনে কালবেলাকে বলেন, ‘জেলা কমিটি কেন পূর্ণাঙ্গ করছে না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য কেন্দ্র থেকে দুবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে পাঠিয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু মোবাইল ফোনে কালবেলাকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। হয়তো তাদের হাতে কাগজ পৌঁছে গেছে।’ একই কথা জানালেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরও। এদিকে ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলার আংশিক আহ্বায়ক কমিটির কথা জানান। মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লাকে আহ্বায়ক এবং তারিকুজ্জামান টিটুকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টিটু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হলে একই বছরের ১৭ এপ্রিল রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের তদন্ত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা কালবেলাকে বলেন, ‘বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে কোনো তালিকাও জমা দিচ্ছেন না। কেন্দ্র থেকেও কমিটি দেওয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বরগুনা জেলা কমিটি ঘোষণা করা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।’ অন্যদিকে জেলা জাতীয় পার্টি এক প্রকার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় তাদের কার্যক্রম কোনোমতে চলছে বলে জানিয়েছেন পার্টির একাধিক নেতাকর্মী। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জেলার ছয়টি উপজেলায় নিয়ে গঠিত দুটি আসনে মনোনয়ন দেওয়ার পরে দলটির নেতাকর্মীরা কিছুটা সক্রিয় হলেও বর্তমান জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান তলানিতে।
২২ এপ্রিল, ২০২৪

বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উসকানির পাঁয়তারা করছে বিএনপি
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উসকানি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বিএনপি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অভূতপূর্ব উন্নয়ন-অগ্রগতি ও ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশ ও জনগণকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যা দেখে বিএনপির গাত্রদাহ হয়। বিভিন্ন সময় বিএনপি ও তার দোসরদের যৌথ উদ্যোগে প্রযোজিত ও পরিচালিত সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। গতকাল রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘দুরভিসন্ধিমূলক, কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের’ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি তিনি একথা বলেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম জনগণের কাছে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঝাঁকুনি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অথচ বিএনপি নিজেই রাজনৈতিকভাবে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। ব্যর্থ রাজনীতির ধারায় হাঁটায় হোঁচট আর ঝাঁকুনির প্রকোপে পর্যুদস্ত বিএনপি। এই ঝাঁকুনি হলো বারবার পরাজয়ের ঝাঁকুনি। তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুল বলেছেন, তাদের অর্জনগুলো নাকি বর্তমান সরকার ধ্বংস করেছে! অথচ অন্ধকারের অপশক্তি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রতিভূ সন্ত্রাসী দল বিএনপি দেশের অগ্রগতি ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কী ভূমিকা রেখেছে? বরং দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে হত্যা, গুম ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির প্রচলন করেছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান।
২২ এপ্রিল, ২০২৪

মনোনয়ন প্রত্যাহারে তৎপর বিএনপি
বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেও এরই মধ্যে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন দলটির অনেক নেতাকর্মী। কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের পদধারীরাও চেয়ারম্যান কিংবা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। এই তালিকায় আছেন বিভিন্ন কারণে বহিষ্কৃত অনেক নেতাও। প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে শুধু চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দলটির অন্তত ৪৫ নেতাকর্মী। এর পরই অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। সেইসঙ্গে দল সংশ্লিষ্ট সব প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এর পরও ভোটের মাঠে তৎপর রয়েছেন অনেক প্রার্থী। জয়ের সম্ভাবনা থাকায় তারা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই শেষ পর্যন্ত ভোট করতে আগ্রহী। এ অবস্থায় সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে দলীয়ভাবে তৎপরতা বাড়িয়েছে বিএনপি। অবশ্য গতকাল রোববার পর্যন্ত কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি বলে জানা গেছে। আজ সোমবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানা গেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, নীতিগত কারণে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কঠোর অবস্থানে বিএনপির হাইকমান্ড। এজন্য যারা দলীয় পদে থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রার্থীদের দলের চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ভোটে অংশ নিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভোটে গেলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আজীবন বহিষ্কার করা হবে বলে জানানো হয়। গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময়ও ভোটমুখী নেতাদের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকায় সে সময় শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি। এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ কালবেলাকে বলেন, ‘উপজেলাসহ বর্তমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেও বিএনপির যেসব নেতা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। দল যেখানে নির্বাচনে যাবে না, সেখানে তারা যেন নির্বাচন থেকে সরে আসেন এবং দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলেন এমন বার্তা সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, প্রথম ধাপের নির্বাচনে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তা প্রত্যাহার করে নেবেন। অন্যথায় বিএনপির নীতিনির্ধারকরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন।’ জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। সেখানে পরবর্তী ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যাতে দলীয় কোনো নেতা অংশ না নেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজও শুরু করেছেন। একই সঙ্গে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মতোই উপজেলা নির্বাচন হতেও বিরত থাকা এবং বর্জনের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট বিতরণ করবে বিএনপি। ইতোমধ্যে লিফলেট চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে বিএনপি কেন ভোট বর্জন করছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘অবৈধ সরকারের নির্বাচনী প্রহসনের অংশীদার না হওয়ার অবস্থান থেকে বিএনপি উপজেলা নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’ জানা গেছে, বিএনপির সাবেক ও বর্তমান মিলে অন্তত ৪৫ জন নেতা প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, বিএনপি দলীয়ভাবে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না। এ বার্তা এরই মধ্যে সাংগঠনিকভাবে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর পরও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাদের একটি বড় অংশ প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকছেন। তবে অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে এখনো দোটানায় আছেন। আজ সোমবার জানা যাবে চূড়ান্তভাবে বিএনপির কারা কারা ভোটে থাকছেন। কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ভোটে তাদের ভালো করার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। গাজীপুর সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও এবারের প্রার্থী বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলন বলেন, ‘যদি সুস্থ থাকি আর বড় কোনো বিপদ না হয় তাহলে আমার সঙ্গে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদের সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।’ এ কারণে দল যা-ই করুক না কেন—তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবেন বলে আভাস দেন। একই ধরনের কথা বলেছেন আরও কয়েকজন প্রার্থী। এ অবস্থায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, নির্দেশনা ভঙ্গকারীদের কোনো ছাড় না দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলে। পাশাপাশি নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক পদধারী নেতাদের দেওয়া হয়েছে সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে তৃণমূলের কেউ যাতে ক্ষমতাসীন সরকারের ‘পাতানো ফাঁদে’ বা প্রলোভনে পড়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, সেজন্য তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে কিংবা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া কালবেলাকে জানান, তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, কুমিল্লার মেঘনা ও চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় তিনজন নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তারা নির্বাচনে থেকে সরে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কার করা হবে।
২২ এপ্রিল, ২০২৪

বিএনপি রাজনৈতিকভাবে টালমাটাল অবস্থায় : ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নিজেই রাজনৈতিকভাবে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। তারা ব্যর্থ রাজনীতির ধারায় হাঁটায় হোঁচট আর ঝাঁকুনির প্রকোপে পর্যুদস্ত। রোববার (২১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দুরভিসন্ধিমূলক, কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে তিনি এই বিবৃতি দেন।  ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম জনগণের নিকট রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঝাঁকুনি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অথচ বিএনপি নিজেই রাজনৈতিকভাবে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। ব্যর্থ রাজনীতির ধারায় হাঁটায় হোঁচট আর ঝাঁকুনির প্রকোপে পর্যুদস্ত বিএনপি। এই ঝাঁকুনি হলো বারবার পরাজয়ের ঝাঁকুনি। তিনি বলেন, হতাশার গভীরে নিমজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাদের বোধশক্তি লোপ পেয়েছে। দিন দিন তারা দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণকে শত্রুতে পরিণত করে চলেছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের কোনো আগ্রহ নেই বরং বিএনপির প্রতি তাদের এক ধরনের ঘৃণা রয়েছে। যে কারণে জনগণ বারবার তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপির নেতারা তাদের দুঃশাসনের দুর্বিষহ দিনগুলোতে জনগণকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।  তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অভূতপূর্ব উন্নয়ন-অগ্রগতি ও ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশ ও দেশের জনগণকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যা দেখে বিএনপির গাত্রদাহ হয়। বিভিন্ন সময় বিএনপি ও তার দোসরদের যৌথ উদ্যোগে প্রযোজিত ও পরিচালিত সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এবং দেশের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উসকানি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের অর্জনগুলো নাকি বর্তমান সরকার ধ্বংস করেছে! অথচ অন্ধকারের অপশক্তি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রতিভূ সন্ত্রাসী দল বিএনপি দেশের অগ্রগতি ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কী ভূমিকা রেখেছে? বরং দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে হত্যা, গুম ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির প্রচলন করেছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান।  তিনি বলেন, অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে মিলিটারি ডিক্টেটর জিয়াউর রহমান বিরোধী দল ও মত দমনে ইতিহাসে অনন্য নজির স্থাপন করেছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।  ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আমলে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তো ওঠেইনি, বরং তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিয়ে সেগুলোকে যেন বিএনপির কার্যালয় ও হাওয়া ভবনের সঙ্গে অঙ্গীভূত করে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। এগুলোই বিএনপির অর্জন, যা জনগণ বর্জন করে আসছে। জনগণ দ্বারা বর্জিত বিএনপি কখনোই ইতিবাচক কিছু অর্জন করতে পারবে না। তিনি বলেন, দেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে বরাবরের মতো শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও সুদৃঢ় নেতৃত্বে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। জনগণ চেয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে।  ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের স্বার্থ আর জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। আর সরকার যে জনগণের সেবক বাংলাদেশে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করেছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক সংগঠন। তাই যে অপশক্তি দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের প্রবল প্রতিপক্ষ বা শত্রু হিসেবে গণ্য হবে।
২১ এপ্রিল, ২০২৪
*/ ?>
X