ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩১.২৫ শতাংশ
এবারের ঈদে গতবারের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ। চলতি ঈদে ৩৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৩৯৮ জন।  শনিবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৪ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত এ তথ্য উঠে এসেছে। একই সময়ে রেলপথে ১৮টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত, ২১ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ০২ টি দুর্ঘটনায় ০৭ জন নিহত, ০৫ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৪১৯ টি দুর্ঘটনায় জন ৪৩৮ নিহত ও ১৪২৪ জন আহত হয়েছে।  আর বিগত ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরে ৩০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৮ জন নিহত ও ৫৬৫ জন আহত হয়েছিল। বিগত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ, প্রাণহানি ২৪ দশমিক ০৮ শতাংশ, আহত ১৪৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানীর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে আসছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এবারের ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ শতাংশ মানুষের বেশি যাতায়াত হয়েছে। বর্তমান সরকারের বিগত ১৫ বছরে ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে দেশের সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো থাকায় যানবাহনে গতি বেড়েছে। দেশের সবকটি সড়ক-মহাসড়কের পাশাপাশি পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচলের কারণে মোট যাত্রীর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মোটরসাইকেলে যাতায়াত হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও পথে পথে যাত্রী হয়রানি চরমে উঠেছিল। গণপরিবহনগুলোতে ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যর কারণে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে, খোলা ট্রাকে, পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরিদ্র লোকজনদের ঈদে বাড়ি যেতে হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৯৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৫ জন নিহত, ২৪০ জন আহত হয়েছে, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, নিহতের ৪০ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং আহতের ৩০ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রায়। এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৮৭ জন চালক, ৩১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪০ জন পথচারী, ৭৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ২৭ জন শিক্ষার্থী, ০৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ০৪ জন শিক্ষক, ০১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ০১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ০২ জন চিকিৎসকের পরিচয় মিলেছে।
২০ এপ্রিল, ২০২৪

রাজশাহীতে ট্রাকচাপায় নিহত ৩
রাজশাহীর পবায় ট্রাকচাপায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন  আরও দুজন। আহতরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে পবা উপজেলার মুরারীপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত তিনজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে আহতরা হলেন, দামকুড়া এলাকার ইসলাম এবং রিমন হোসেন (৩৫)। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- মহানগরীর দামকুড়া থানার নতুন কশবা এলাকার লাল মোহাম্মদের ছেলে আসিফ ইকবাল (১৯), একই থানার সূত্রাবন এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে সুইট (৩১) এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামের মো. জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. তাজুল ইসলাম (২৫)। আর আহতরা হলেন, দামকুড়া থানার আলীগঞ্জ এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে জুলহাস ইসলাম (৩২) এবং একই থানার নতুন কশবা এলাকার মো. মানিক মিয়ার ছেলে মো. রিমন হোসেন (৩৫)। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মুরারীপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক, দুটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপর মোটরসাইকেলটিতে তিনজন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন মারা যান। বাকি দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দামকুড়া থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে দুজন মারা গেছে। বাকিদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যায়।
১৯ এপ্রিল, ২০২৪

ফরিদপুরে আবারও সড়ক দুর্ঘটনা / মাইক্রোবাস-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে নিহত দুই
ফরিদপুরে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৫ জনের শোক কাটতে না কাটতেই আবারও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এবার মাইক্রোবাস-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে দুজন নিহত ও আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।  বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুর-সালথা আঞ্চলিক সড়কের সমেশপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- জেলার সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের ঘোড়াদহ গ্রামের ইমদাদ হুসাইন (৪৮) এবং সালথা উপজেলা সদরের সিদ্দিক মাতুব্বর (৫২)। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর থেকে সালথাগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ফরিদপুরগামী একটি মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মাহিন্দ্রাতে চালক ও আটজন যাত্রী ছিল। ঘটনাস্থলেই মাহিন্দ্রাচালক সিদ্দিক মাতুব্বর মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমদাদ হুসাইন মারা যান। বাকি আহত ছয় যাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, গতকাল দুর্ঘটনা ঘটেছে মাইক্রোবাস ও মাহিন্দ্রা উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল জেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ ১৫ জন নিহত হন।
১৯ এপ্রিল, ২০২৪

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই : বিএনপি 
ঝালকাঠির গাবখান সেতুর টোল প্লাজায় সিমেন্টবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কায় প্রাইভেট কার এবং ৩টি ইজিবাইকের ১৪ জন যাত্রী নিহত ও আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাতে এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের হতাহতের ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী।  তিনি বলেন,  প্রতিনিয়ত সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষের প্রাণ ঝরে যাচ্ছে, গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করছে, অথচ সরকারের সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। সড়কে চরম অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের খামখেয়ালির কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে-যা গভীর উদ্বেগজনক। তিনি ঝালকাঠিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন। এছাড়া হতাহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
১৭ এপ্রিল, ২০২৪

দুই কারণে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা
সড়ক-মহাসড়কে নজরদারি কমে যাওয়া ও ঈদ সামনে রেখে অতিরিক্ত উপার্জনের মানসিকতার কারণে বেড়ে গেছে সড়ক দুর্ঘটনা। পাশাপাশি অনুমোদনহীন যানবাহন মহাসড়কে চলাচলের কারণেও ঘটছে দুর্ঘটনা। আর সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মোটরসাইকেল আরোহীরা। যাত্রী অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, দেশে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৯ জন মানুষ সড়কে মারা যাচ্ছেন। এর প্রায় ৪০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা রোধে সড়ক-মহাসড়কে নজরদারি কম হচ্ছে। মূলত জনবল সংকটের কারণে রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ সারা দেশে অভিযান চালাতে পারছে না। সেইসঙ্গে চালকদের বেশি আয়ের মানসিকতার কারণে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এজন্য ঈদের আগে দেশের সব সড়ক-মহাসড়কে কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মুহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী কালবেলাকে বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের করণীয় কোনো কিছুই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে আমরা সবাই যদি সচেতন না হই, এই দুর্যোগ মোকাবিলা কষ্টকর হবে।’ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। গতকাল বুধবার গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুরের ছাগলছড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। একই দিন নীলফামারীতে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ১৯ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাকচাপায় দুই বাইকচালকের মৃত্যু হয়। গত সোমবার সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পিকআপ ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হন। অভিযোগ উঠেছে, পিকআপ ও লেগুনা চালকের কোনো লাইসেন্স ছিল না। তেমনি দুটি যানের ফিটনেস সার্টিফিকেট ছিল কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ১৭ মার্চ পিরোজপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৬ মার্চ ঈশ্বরদীতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু হয়। গত ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি। দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে মুখোমুখি সংঘর্ষ। বিশেষ করে এক লেনের পথে এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি দেখা গেছে। জানতে চাইলে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে কালবেলাকে বলেন, ‘পথের দুর্ঘটনা তো নতুন কিছু নয়। কখনো কমে, কখনো বাড়ে। এর পেছনে সড়কে নজরদারি একটা বড় বিষয়। যখন সড়কে কঠোর নজরদারি হয়, তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।’ তিনি মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল বন্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন। প্রতি বছর ঈদের আগে বা পরে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ে। এবার ঈদের আগে দুর্ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘দিনে সড়কে প্রাণ যাচ্ছে ১৯ জনের। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। তরুণদের হাতে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই তুলে দেওয়া হচ্ছে মৃত্যুদানব মোটরসাইকেল। দেখা যায়, একজনের গাড়ি অন্যজন চালাচ্ছেন। কারও লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ কোনোটিই নেই। এসব বিষয়ে সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন।’ মহাসড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএর পাশাপাশি মূলত হাইওয়ে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবার ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশন) শ্যামল কুমার মুখার্জি কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের জনবল স্বল্পতার মধ্যেও ঈদ সামনে রেখে সড়কপথে শৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা রোধে কাজ করব। এ নিয়ে কোনো আপস নেই।’ সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদীউজ্জামান কালবেলাকে বলেন, ‘পথের দুর্ঘটনা রোধে সারা বছর কাজ করে যেতে হবে। তা ছাড়া সড়ক আইন যথাযথ বাস্তবায়ন না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে না।’ ঈদ সামনে রেখে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন যেন রাস্তায় চলতে না পারে—এ বিষয়ে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।
২১ মার্চ, ২০২৪

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় শিশুসহ অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাটিকুমরুল-পাবনা মহাসড়কে উপজেলার মাদলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ২৫ বছর বয়সী এক নারী ও ইছামনি নামে ৫ বছরের এক শিশু। হতাহতদের পুরো পরিচয় জানা যায়নি। তবে তারা একই পরিবারের বলে জানা গেছে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি এম এ ওয়াদুদ বলেন, পাবনা থেকে শাহজাদপুরগামী শাহজাদপুর ট্রাভেলসের একটি বাস মাদলা এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত এক অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নারী যাত্রী নিহত হন। আহত হন অটোরিকশা চালকসহ আরও পাঁচ যাত্রী। স্থানীয়রা তাদের ‍উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশু ইছামনির মৃত্যু হয়।
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অভিযান
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুতে অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, অবৈধ আলো ও হর্ন ব্যবহার, অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক, গাড়ি ও চালকের বৈধ কাগজপত্রাদি না থাকার অপরাধে সাতজনকে ৪ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক ও পরিবহন আইনে আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত। আদালতকে সহযোগিতা করেন ভূমি কার্যালয়ের স্টাফরা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিরুল আরাফাত। তিনি জানান, অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকরা সেতুর ওপরে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে রেস করে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সেজন্য দুর্ঘটনা ও রেস প্রতিরোধে রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালানো হয়। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। ক্যাপশন : কুমারখালীর শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুতে রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল আরাফাত।
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

জামালপুরে বাস-অটোরিকশা-পিকআপের সংঘর্ষে নিহত ২
জামালপুর সদরের তিতপল্লা বাসস্ট্যান্ডে ঢাকাগামী শাদনান এন্টারপ্রাইজের একটি বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যান ও জামালপুরগামী সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের তিতপল্লাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। পিকআপে থাকা টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার সলিম উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও জামালপুর সদরের ছোনটিয়া এলাকার আব্দুস সোবাহানের ছেলে শামসুল হক নিহত হয়েছেন। তারা দুজনই সবজি ব্যবসায়ী। এদিকে আহতরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুহাব্বত কবীর দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।
১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

ইতালিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা
ইতালির ভেনিসে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। পর্যটকবাহী একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে খাদে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেকে আহত হয়েছেন। খবর সিএনএনের। বাসটি ইতালির উত্তরের শহর ভেনিস থেকে মারঘেরার পথে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় ছিল বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরএআইকে জানান ভেনিসের মেয়র লুইগি ব্রুগানারো। তিনি বলেন, বাসটি ফ্লাইওভার থেকে উড়ে গিয়ে পড়ে। আমরা এ দুর্ঘটনায় শোকাহত।  ভেনিস মিউনিসিপ্যালিটির এক পরিচালক জানান, নিহতদের ভেতর শিশুরাও রয়েছে। এ ছাড়া কিছু পর্যটকও ছিলেন বলে জানা যায়। তারা ক্যাম্পিং করে ফিরছিলেন।  নিহতদের পরিচয় উদঘাটনের প্রক্রিয়া চলছে। ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনায় দেশটির রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিওর্জিও মেলোনি বলেন, আমি আমার ও আমার সরকারের পক্ষ থেকে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।  
০৪ অক্টোবর, ২০২৩
*/ ?>
X