কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

আল-ফাশির দখলে নিয়ে যুদ্ধাপরাধ করছে আরএসএফ : জাতিসংঘ

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সুদানের পশ্চিম দারফুরের গুরুত্বপূর্ণ শহর আল-ফাশির দখলের পর শত শত বেসামরিক নাগরিককে হত্যা ও গুমের অভিযোগ উঠেছে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) বিরুদ্ধে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সাহায্যকর্মীদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আরএসএফ যোদ্ধারা শহর দখলের পর পুরুষদের নারী ও শিশুদের থেকে আলাদা করে নিয়ে যায়, এরপরই শোনা যায় গুলির শব্দ। অনেককে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ।

আল-ফাশির ছিল দারফুরে সুদানিজ সেনাবাহিনীর (এসএএফ) সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি। এর পতনে প্রায় আড়াই বছরের সুদানি গৃহযুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শী আলখেয়ার ইসমাইল জানান, আরএসএফ যোদ্ধারা উটে চড়ে কয়েকশ নিরস্ত্র পুরুষকে একটি জলাধারের পাশে নিয়ে গুলি চালায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই হত্যাকাণ্ডগুলো স্পষ্টভাবে জাতিগত বিদ্বেষনির্ভর প্রতিশোধমূলক হামলা।

এদিকে, মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, পালানোর সময় প্রায় ৫০০ বেসামরিক ও সেনা সদস্যকে আরএসএফ হত্যা বা আটক করেছে। মুক্তিপণের বিনিময়ে আটকদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। মুক্তিপণের অঙ্ক ৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন সুদানিজ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

আরএসএফ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘মিডিয়ার বাড়াবাড়ি’ বলে দাবি করেছে। বাহিনীর এক কমান্ডার জানান, বেসামরিক সেজে থাকা সেনাদের জেরা করা হয়েছে, তবে হত্যার অভিযোগ সত্য নয়।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, আল-ফাশির দখলের পর অন্তত ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেকে পাশের তাওয়িলা শহরে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে শরণার্থীরা ধর্ষণ ও সহিংসতার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছে।

আল-ফাশিরের পতনের ফলে সুদান এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত—আরএসএফ দারফুর ও পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে, আর সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুম ও পূর্বাঞ্চলে অবস্থান নিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং কমপক্ষে দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতিমধ্যে দারফুরে আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র বলেন, আল-ফাশিরে যা ঘটছে, তা জেনিনা ও দারফুরে আগের গণহত্যার পুনরাবৃত্তি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সহকারী শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ

বিপুল ইয়াবাসহ মাদক চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ

সন্ধ্যা ৭টায় শপথ নেবেন চট্টগ্রাম-২ আসনের বিজয়ী প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর

মৌলভীবাজারে পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ

ইরানের হরমুজ তীরবর্তী বন্দরে একাধিক বিস্ফোরণ

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যেতে পারেন যারা

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ মৃত্যু, হাইকোর্টে রিট

তিন পার্বত্য জেলায় বন্যা-ভূমিধস মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু

ইরানের ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা, নিহত ১৪

১০

রিভেরি স্কুল চালাবে রিভেরি ফাউন্ডেশন আর ইশতিয়াক সাদেকের এইস

১১

লামায় পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

১২

পর্তুগালের নতুন কোচ হচ্ছেন হোর্হে জেসুস, বেড়ে গেল রোনালদোর খেলার সম্ভাবনা

১৩

দেশের সব মাদ্রাসা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

১৪

৫১ বছরে কনকর্ড: বাংলাদেশের অবকাঠামো ও আধুনিকায়নের গৌরবময় পথচলা

১৫

রেললাইনের পাশ থেকে দিনমজুরের মরদেহ উদ্ধার

১৬

কারানের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে

১৭

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ফরেন ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের উদ্বোধন

১৮

ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিশুর

১৯

দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে ড্যাফোডিলের সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগ

২০
X