

মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেনিশ সাস্যু এনগুয়েসোর শাসন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটিতে চার প্রায় দশকব্যাপী শাসন করে আসছেন তিনি।
রোববার (১৫ মার্চ) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল সাতটা থেকে দেশটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় ভোট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচেনে প্রায় ৩২ লাখের বেশি ভোটার অংশ নেবেন।
বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজ বলছে, দেশটিতে এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ২০২১ সালে রেকর্ড হওয়া প্রায় ৬৮ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। ওই নির্বাচনে সাস্যু ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন।
৮২ বছর বয়সী সাস্যু ১৯৭৯ সালে কঙ্গোর ক্ষমতা দখল করেন এবং ১৯৯০-এর দশকে থেকে প্রায় একটানা শাসন করে আসছেন। এরমধ্যে পাঁচ বছর তিনি ক্ষমতার বাইরে ছিলেন। এবারের নির্বাচনে সাস্যুর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তেমন পরিচিত নন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ব্রাজিভিলের নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ব্যবধান দেখা গেছে। দেশজুড়ে ঘুরে ঘুরে ভোট চাওয়া একমাত্র প্রার্থী ছিলেন সাস্যু। শহরের বিভিন্ন সড়কেও তার পোস্টার ও প্রতিকৃতি দেখা গেছে। দেশটির নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন কনগোলেস লেবার পার্টির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে দুটি বড় বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট করেছে। এছাড়া কয়েকজন সুপরিচিত বিরোধী নেতা কারাগারে রয়েছেন এবং অন্যরা নির্বাসনে আছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিসর আরও সংকুচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংগঠন ফ্রিডম হাউস কঙ্গোকে স্বাধীনতার সূচকে ১০০ এর মধ্যে মাত্র ১৭ স্কোর দিয়েছে।
বেশিররভাগ নাগরিকদের ধারণা, এই নির্বাচন তাদের জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। কঙ্গো সাব-সাহারান আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনও করে। তবে বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে।