

ইউক্রেনের ‘ফ্লেমিঙ্গো এফপি-৫’ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে রাশিয়ার ‘ফেডারেল রিসার্চ অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টার টাইটান-বারিকাদি’ লক্ষ্য করে এ হামলা চালায় ইউক্রেন। প্রতিষ্ঠানটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার জন্য লঞ্চার তৈরি করে। খবর কিয়েভ ইন্টারন্যাশনালের।
জেলেনস্কি বলেন, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর কারখানার ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এটি রাশিয়ার একটি বড় সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স। এখানে কামান ব্যবস্থা, বিশেষায়িত সামরিক সরঞ্জাম এবং ইউক্রেনের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়।
রাশিয়ার অন্যতম প্রধান সামরিক প্রতিষ্ঠান টাইটান-বারিকাদি দেশটির মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের অংশ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ছাড়াও সেখানে ভারী কামান, নৌবাহিনীর কামান এবং জাহাজ ধ্বংস করার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
এদিকে ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই বোচারভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় ক্রাসনোওকতিয়াব্রস্কি জেলার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও তিনি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি, তবে টাইটান-বারিকাদি কারখানাটি ওই এলাকাতেই অবস্থিত।
বোচারভের দাবি, হামলায় ১০ জন আহত হয়েছেন এবং তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার ১০টি অঞ্চল ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার আকাশে ইউক্রেনের ১৭৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ভলগোগ্রাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ দাবি করেছে, একই রাতে অধিকৃত ক্রিমিয়ার ফেওদোসিয়ায় অবস্থিত প্যান্টসির-এস১ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কের্চের কাছে পেত্রোপাভলোভস্ক গাড়িবাহী ফেরিতেও হামলা চালানো হয়েছে।