

অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের ৭ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে আবারও নানা বিতর্কের শুরু হয়েছে। রাম মন্দির ট্রাস্টের হিসাবরক্ষককেও প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত এই মন্দির বর্তমানে ভারতের অন্যতম বৃহৎ তীর্থস্থান। প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি ভক্ত এখানে দর্শনে আসেন। সম্প্রতি নগদ অর্থ, সোনা ও রুপার অলংকারসহ ভক্তদের অনুদান ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় তদন্তের আবেদন জানিয়ে একাধিক আবেদন দাখিল করা হয়েছে। একই সময়ে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে। যদিও মন্দির পরিচালনাকারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রায় ২ দশমিক ৭ একর এলাকাজুড়ে নির্মিত তিনতলা এই মন্দিরে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার দর্শনার্থী আসেন। ছুটির দিন ও ধর্মীয় উৎসবে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ভক্তদের অনুদান গ্রহণের জন্য মন্দির চত্বরে প্রায় ৩৫টি দানবাক্স রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ট্রাস্টের আয় ছিল ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন রুপি। বিপুল আয়ের কারণে এটি দেশের অন্যতম ধনী ধর্মীয় ট্রাস্টে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি অযোধ্যার সাবেক এক স্থানীয় বিধায়ক অভিযোগ করেন, মন্দিরের অনুদানের অন্তত ৭ কোটি রুপি গায়েব হয়ে গেছে। তবে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে অর্থ গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া কঠোর নজরদারি ও নিরীক্ষার আওতায় সম্পন্ন হয়। তাই অনিয়মের সুযোগ নেই।
বিতর্কের সূত্রপাত করেন ট্রাস্টের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মহিপাল সিং। তার দাবি, অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনায় অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রাণনাশের হুমকির আশঙ্কা উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন। একই দাবি তুলেছেন দলের সংসদ সদস্য অবধেশ প্রসাদ। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ভক্তদের অনুদান মন্দিরের উন্নয়ন ও তীর্থযাত্রীদের সেবায় ব্যয় হওয়ার কথা, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। অনেকেই এই অভিযোগকে কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে দেখছেন।
এদিকে বিশেষ তদন্ত দল সরকারের কাছে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আরও সময় চাওয়া হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, যাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে, তারা যেন তা তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দেন। তার ভাষায়, সত্য অবশ্যই সামনে আসবে।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, ভক্তদের অনুদান শুধু অর্থ নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক। তাই এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া জরুরি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস