কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

‘থামাতে হলে আমাকে মেরেই ফেলুন’, মমতার চরম হুঁশিয়ারি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চরম অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ আর ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে এবার রণংদেহী রূপ ধারণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী নেতাদের সরাসরি ‘বেইমান’ বা ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে দমানোর একমাত্র পথ হলো তাকে হত্যা করা।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে অস্থিরতার আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল, তা এখন দাবানলে রূপ নিয়েছে। দলের ৮০ জন বিধায়কের বড় একটি অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করায় কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূল। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার (৪ জুলাই) বড়সড় ধাক্কা খান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করে যোগ দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে।

বিদ্রোহীদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মমতা বলেন, ‘দলের প্রতীক বা সাইন বোর্ড কোথাও যাবে না। যারা আমাকে থামাতে চান, তাদের বলছি—আমাকে মেরেই ফেলুন।’

বিদ্রোহীদের কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে তোমাদের মনোনয়নে সই করেছি, আর মাত্র দুই মাসের মধ্যেই তোমরা বেইমান হয়ে গেলে? সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত’।

তার স্পষ্ট দাবি, এই বিদ্রোহীরা আসলে বিজেপির চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে, তবে তিনি কোনোভাবেই গেরুয়া শিবিরের সামনে মাথা নত করবেন না।

দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বর্তমানে চলছে চরম উত্তেজনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মা, মাটি, মানুষের’ সম্পদ কেউ গায়ের জোরে কেড়ে নিতে পারবে না। বিদ্রোহীরা যে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করেছে, সেটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত লিজ নেওয়া এবং তা একান্তই দলের সম্পত্তি বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে দলের জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে মমতার বাসভবনের অফিসটিকেই প্রধান কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

তৃণমূলের এই আড়াআড়ি বিভক্তি এখন আইনি লড়াইয়ের পথে। জোড়াফুল প্রতীকের আসল মালিক কে, তা নির্ধারণে আসরে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ই জুলাই বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ দাবির সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ডু অর ডাই’ অবস্থান রাজনৈতিকভাবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে গেল ফ্রান্স

‘থামাতে হলে আমাকে মেরেই ফেলুন’, মমতার চরম হুঁশিয়ারি

খামেনির মহাপ্রয়াণ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের মূল শক্তি: পেজেশকিয়ান

৯০০ পিস ইয়াবাসহ আর্জেন্টিনা সমর্থক তরুণ গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ আদর্শ স্কুল চ্যাম্পিয়ন

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ ঘোষণা

কেপ ভার্দেতে কেমন চলছে মুসলিমদের জীবনযাত্রা?

বিশ্বকাপ থেকে ‘এক’ স্বাগতিকের বিদায়

কানাডার স্বপ্ন ভেঙে সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

১০

কেপ ভার্দে যেতে কি বাংলাদেশিদের আগাম ভিসা লাগবে?

১১

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না সরকার : বিজন কান্তি 

১২

নরসিংদীতে মন্দির উন্নয়ন কাজের সরকারি বরাদ্দ বিএনপি নেতার পকেটে!

১৩

সেমিনারে বক্তারা / সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য

১৪

এএফসি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বিমান, রানার্সআপ ইউএস-বাংলা

১৫

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৬

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফিরছে সরাসরি ফ্লাইট, রোববার প্রথম যাত্রা

১৭

জুলাই সনদের প্রতি পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেন জামায়াত আমির

১৮

হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ 

১৯

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব আরও গভীর করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের

২০
X