কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হামলার পরপরই মিসাইল বাংকার সচল করে ফেলছে ইরান

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এসব হামলার মূল লক্ষ্যই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল বাংকার ও সাইলো (মিসাইল সংরক্ষণের ঘাঁটি) খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আবার সচল করে তুলছে ইরান। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাটি খুঁড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো থেকে মিসাইল লঞ্চার উদ্ধার করে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হাতে এখনও বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার রয়েছে। ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন চলতি সপ্তাহে দাবি করেছিল, পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের ১১ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভিন্ন কথা বলছে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে টিকে আছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘ইরানের মিসাইল হামলার সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’ অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার দাবি করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে।’ তবে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ‘ইরান এখনও মিসাইল ছোড়ার সক্ষমতা রাখে, যদিও সেগুলো আকাশেই প্রতিহত করা সম্ভব।’

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ইরানের নৌ সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বড় অংশ ধ্বংস বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আকাশপথেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তবে গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, ইরানের হামলা কমে যাওয়ার পেছনে কৌশলগত কারণ রয়েছে। অনেক মিসাইল লঞ্চার পাহাড়ের গুহা বা ভূগর্ভস্থ বাংকারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলো হামলা থেকে রক্ষা করে সুযোগমতো আবার ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে ইরান।

বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইরান এখনও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০টি মিসাইল ইসরায়েলের দিকে ছুড়ছে। এদিকে, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে ঠিক কত লঞ্চার ছিল, তার সঠিক তথ্যও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। ফলে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংকার বা গুহাগুলোতে কত লঞ্চার অবশিষ্ট রয়েছে, তা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ইরান বুলডোজার ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া লঞ্চারগুলো দ্রুত খুঁড়ে বের করছে এবং সেগুলো পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করছে।

কালবেলা/পিআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফাইনালের হাফটাইম শোতে কত পারিশ্রমিক নিলেন শাকিরা?

এসএসসির ফল প্রকাশে বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্ত

দেশের সব মাদ্রাসায় ফুটবল খেলা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করলেও তাদের প্রেতাত্মারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে: মঞ্জু

জামায়াত নেতার ‘নারী কেলেঙ্কারি’র ঘটনায় মোংলায় কুশপুত্তলিকা দাহ

'গডজিলা' খ্যাত অভিনেত্রী কেলি হটল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

১৯ বছর পর বেতার যন্ত্রপাতি ফেরত পেলেন সাবেক এমপি লালু

নতুন ৬ শিশুসহ হাম-উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াল ৮০০, আক্রান্তে শীর্ষে বাংলাদেশ

ফাইনালে হারার ‘কষ্ট’ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ম্যাক অ্যালিস্টার

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস পেল এটেক

১০

সম্পদের তথ্য গোপন: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ৭ বছরের কারাদণ্ড

১১

স্কুল থেকে অপহৃত ৭ বছরের শিশু পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

১২

ফ্রি খাদ্য কর্মসূচির বাজেট ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমাল ইন্দোনেশিয়া

১৩

কান কামড়ে জখমের মামলার আসামি বিএনপি নেতার প্রকাশ্যে সমাবেশ

১৪

‘বিএনপিকে একচুল ছাড় নয়’, ফেসবুকে কেন বললেন রনি

১৫

ইরানের শান্তি আলোচনার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের

১৬

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৪৬

১৭

কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিনের ওপর হামলা

১৮

‘৩০ শতাংশ না দিলে প্রকল্প নয়’—ঘুড়কা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

১৯

সন্দেহজনক কার্গো জাহাজ জব্দ করল দক্ষিণ কোরিয়া

২০
X