

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফার আলোচনা ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার জানিয়েছে, দুই দেশ চলতি সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
এ ছাড়া চুক্তি বাস্তবায়নের তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির অধীনে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলাদা কর্মদল কাজ করবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল চালু করবে।
একই সঙ্গে লেবাননে সংঘাত বন্ধ করার জন্য একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ বা সমন্বয় ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে সেখানে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনার ফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিতে কিছু ছাড় দেওয়া হবে, বিদেশে আটকে থাকা কিছু সম্পদ ছাড় করা হবে এবং দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য বড় পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের এই ব্যবস্থাই হবে নতুন চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা।
তবে আলোচনা সহজ ছিল না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে তিনি আবার ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারেন এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
এর পর ইরান প্রথমে আলোচনায় ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা আবার এগিয়ে যায়।
গত সপ্তাহে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, অন্তত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখা এবং লেবাননসহ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
তবে ইরান অভিযোগ করেছে, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাদের সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। এ কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ