

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। পার্শ্ববর্তী আসাম ও ত্রিপুরায় এরই মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও এ রাজ্যে এখনো ক্ষমতার দৌড়ে পিছিয়ে রয়েছে দলটি। তবে সম্প্রতি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জোট এনডিএ ভূমিধস জয় পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে তাদের নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাই এ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে এখন রীতিমতো ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নিয়েছে বিজেপির হাইকমান্ড।
দলীয় সূত্রে এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি এরই মধ্যে শুরু করেছে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা—যার নাম ‘মিশন বেঙ্গল’। তারা মূলত তিন কৌশলে এগোচ্ছে বলে খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
প্রথম ধাপ হিসেবে দলটির শীর্ষ প্রভাবশালী নেতানেত্রীদের পশ্চিমবঙ্গের প্রচারে নিয়োগের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। প্রচার মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ পরিকল্পনা মাঠে নামানো হবে। বিজেপির লক্ষ্য ১৬০টি আসনে জয়। দলের দাবি, এই ১৬০ আসনের মধ্যে ১২০টিতে অতীতে কোনো না কোনো সময় তারা শক্ত অবস্থানে ছিল, তাই লক্ষ্য পূরণ ‘কঠিন নয়’। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট ২৯৫টি আসনের মধ্যে ২৯৪টিতে সরাসরি ভোট হয়। সরকার গঠনের জন্য দরকার অন্তত ১৪৮টি আসনে জয়। রাজ্যে মোট ৯১ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭০ হাজারে এরই মধ্যে কমিটি গঠন করেছে বিজেপি। শিগগির বাকি বুথগুলোতেও কমিটি করা হবে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধন ও বিশেষ তদন্তমূলক পুনর্বিবেচনা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি। তৃণমূল সরকারের বাধা থাকায় মাঠপর্যায়ে পুরোপুরি কাজ শুরু না হলেও বিজেপি নেতাদের আশা—খুব দ্রুতই এই বাধা কেটে যাবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে টেক্কা দিতে বিজেপি গ্রহণ করেছে তিন দিকের আক্রমণাত্মক কৌশল—তৃণমূলের পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচার, মুসলিম তোষণবাদের অভিযোগ সামনে এনে তৃণমূলকে চাপে রাখা এবং নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতা ইস্যুতে বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা। বিজেপি নেতা বলেন, বাম আমল হোক বা বর্তমান তৃণমূল আমল—প্রতিটি নির্বাচনে শাসকদল কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হয়েছে। আমরা দেখাতে চাই, কারচুপি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন জেতা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো ঐতিহ্যবাহী ও শিক্ষায় অগ্রসর রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে শক্ত ঘাঁটি গড়তে না পারা বিজেপির জন্য ‘মিশন বেঙ্গল’ এখন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণী এক পরীক্ষাই বলা যায়। পরবর্তী নির্বাচনেই দেখা যাবে এই জোর প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়।