

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ত্যাগের নোটিশ দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংস্থা ছাড়ার কথা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, জাতিসংঘের এ স্বাস্থ্য সংস্থাকে বকেয়া ২৬ কোটি ডলার পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, সংস্থা ত্যাগের আগে এক বছরের নোটিশ দেওয়া এবং সব বকেয়া ফি পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডব্লিউএইচও তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও আদান-প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতাবলে সংস্থাটিকে ভবিষ্যতে সব ধরনের তহবিল, সহায়তা বা সম্পদ দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। মুখপাত্রের ইমেইলে বলা হয়েছে, ‘আমেরিকান জনগণ এই সংস্থাকে অপ্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছে। আর সংস্থার ব্যর্থতার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা আমাদের যে কোনো আর্থিক বকেয়ার চেয়ে অনেক বেশি।’ গত এক বছর ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে এবং ডব্লিউএইচওতে আবার যোগ দেবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি বিশ্বের বাকিদের জন্যও ক্ষতির কারণ হবে।’ ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বকেয়া ফি এখনো পরিশোধ করেনি। সংস্থার এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ফেব্রুয়ারিতে ডব্লিউএইচওর নির্বাহী বোর্ডের সভায় আলোচনা করবে।