

থাইল্যান্ডে জান্তা সরকার প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে নাকি নতুন সংবিধান রচিত হবে—সে বিষয়ে গতকাল রোববার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাররা গণভোটে নিজেদের মতামত জানানোর পাশাপাশি এদিন সাধারণ নির্বাচনেও ভোট দেন। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছিল।
২০১৪ সালে শেষবার সেনা অভ্যুত্থানের পর থাইল্যান্ডে পাঁচ বছর জান্তা শাসন চলে। বর্তমান সংবিধান সে সময়ে রচিত। এ সংবিধানে এমন সব প্রতিষ্ঠানকে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা দেওয়া হয়, যেগুলো পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট দ্বারা মনোনীত।
২০১৯ সালে জান্তা সরকার বিদায় নেওয়ার পর দেশটিতে আর কোনো সরকার নিজেদের মেয়াদ পূরণ করতে পারেনি। ২০২৩ সালে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর গত দুই বছরে দেশটি তিনজন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে। বহুদিন ধরেই থাইল্যান্ডের বর্তমান সংবিধান নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। দেশটিতে সর্বশেষ সেনা অভ্যুত্থানের পর ২০১৭ সালে এই সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। সমালোচকদের দাবি, জান্তা সরকার রচিত সংবিধানটি গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়েছে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল গত ডিসেম্বরে বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দেন এবং আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেন। ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়। একই দিন সংবিধান প্রশ্নে গণভোটের আয়োজনও করা হয়। বলা হয়, একই দিনে গণভোট আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো খরচ কমানো এবং ভোটারদের জন্য ভোটদান আরও সহজ করা।
এদিন ভোটাররা তিনটি করে ব্যালট পেপারে ভোট দেন। এখন যদি ‘না’ বিজয়ী হয়, তাহলে পার্লামেন্ট নতুন সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত শুরু করতে পারবে না, যতক্ষণ না পরবর্তী গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোটে অনুমোদন পাওয়া যায়।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলেই নতুন সংবিধান রচনা করা যাবে, বিষয়টি এমন নয়। বরং এই গণভোট শুধু দীর্ঘ সংবিধান সংশোধন বা প্রণয়ন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।