

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে পাল্টা শুল্কারোপের পদক্ষেপ বাতিল করে দেওয়ার পর ভিন্ন আইনে নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের এ শুল্ক দিতে হবে। ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার ও বাজারে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নতুন শুল্কারোপের ওই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী এ শুল্ক আরোপের জন্য তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যা ‘অবিলম্বে’ (আগামীকাল মঙ্গলবার) কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আদালতের রায় এবং ট্রাম্পের এই নতুন শুল্কারোপের ফলে বিভিন্ন দেশ এখন এর আইনি ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।
দক্ষিণ কোরিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়, সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা করবে এবং জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। ট্রাম্প প্রশাসনের আগের শুল্কারোপের পর গত বছরের নভেম্বরে দেশ দুটি নতুন বাণিজ্যচুক্তি করেছিল। এখন এ চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ কোরিয়ার ৩৫ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের বিনিময়ে দেশটির শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল।
ভারত: চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি প্রাথমিক বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছায়। তখন ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন এবং এর বিনিময়ে পোশাক, ওষুধ, মূল্যবান পাথর, টেক্সটাইলসহ ভারতের শীর্ষ রপ্তানি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। একই সঙ্গে ভারতও সব মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বেশ কিছু কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দেয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ এম কে ভেনু বলেন, ‘সমালোচকরা মনে করেন, এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার আগে নয়াদিল্লির মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত ছিল। এমনকি সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকা বাণিজ্য বিশ্লেষকরাও মনে করেন, আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হতো।’
চীন: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া কিছুটা মৃদু। কারণ, দেশটিতে এখনো চান্দ্র নববর্ষের ছুটি চলছে। বেইজিং থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি রব ম্যাকব্রাইড বলেন, ‘ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যযুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলজনক নয়। ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রধান নিশানা হিসেবে পরিচিত চীনে এ সিদ্ধান্তকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
কানাডা: কানাডা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তার সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছে। আলজাজিরার সংবাদদাতা ইয়ান উড জানান, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের নেতারা এ রায়কে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।