

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত আকাশযুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে চীনা যুদ্ধবিমানের চাহিদা ও বিক্রি অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত চীনা প্রযুক্তির জে-১০সি এবং যৌথভাবে উৎপাদিত জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানের কার্যকর পারফরম্যান্স বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। যুদ্ধের ময়দানে এই বিমানগুলোর সক্ষমতা প্রমাণিত হওয়ার পর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জনের খবর দিয়েছে।
চীনের চেংদু ভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এভিআইসি চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন’-এর আর্থিক বিবৃতির বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে কোম্পানির রাজস্ব ১৫.৮ শতাংশ বেড়ে ৭৫.৪ বিলিয়ন ইউয়ানে (প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার) পৌঁছেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ৬.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৪ বিলিয়ন ইউয়ানে। ব্লুমবার্গের মতে, এই আর্থিক পরিসংখ্যান কোম্পানিটির দীর্ঘ পথচলায় সর্বোচ্চ সাফল্য। বিক্রির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালেও জোরালোভাবে অব্যাহত রয়েছে এবং বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় চীনা সমরাস্ত্রের বাস্তবধর্মী সফল ব্যবহারই এই ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল নিয়ামক। ওই ৮৭ ঘণ্টার যুদ্ধে পাকিস্তান দাবি করেছিল যে, তারা চীনা জে-১০সি এবং জেএফ-১৭ থান্ডারের মাধ্যমে ভারতের ফরাসি নির্মিত ‘রাফালে’ উন্নত যুদ্ধবিমানসহ মোট সাতটি বিমান ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ভারতের এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবিও জানায় ইসলামাবাদ। যদিও ভারত এই ক্ষয়ক্ষতির দাবি অস্বীকার করেছে, তবে গত নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনে ভারতের ওপর পাকিস্তানের ‘সামরিক সাফল্য’ এবং উন্নত চীনা অস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব পরোক্ষভাবে স্বীকার করা হয়েছে।
এই সংঘাতের পর ইন্দোনেশিয়া, ইরাক ও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো পশ্চিমা সমরাস্ত্রের ব্যয়বহুল ব্যবস্থার পরিবর্তে সাশ্রয়ী এবং কার্যকর বিকল্প হিসেবে চীনা যুদ্ধবিমানের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। এভিআইসি চেংদু বর্তমানে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের জে-২০ যুদ্ধবিমানের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা কয়েকগুণ সম্প্রসারণ করছে। অন্যদিকে, জে-৩৫ স্টিলথ ফাইটার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এভিআইসি শেনিয়াং এয়ারক্রাফট করপোরেশন’ও তাদের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির খবর দিয়েছে।