কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৩, ০২:৩৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সাঁতরে চলেছেন তারিক

সাঁতরে চলেছেন তারিক

১৬.১ কিলোমিটার সাঁতরে বাংলা চ্যানেল জয় করা মুছাদ্দেক আহমাদ তারিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সে পড়ছেন। সাঁতার, ম্যারাথন, ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা খেলায় অংশ নিয়ে কুড়িয়েছেন সাফল্য। কাজ করছেন সুবিধাবঞ্চিতদের জন্যও। এবার স্বপ্ন এভারেস্ট জয়ের। তারিকের সঙ্গে কথা বলেছেন মারুফ হোসেন-

সাঁতারে হাতেখড়ি বাবার হাতে। কাপাসিয়ায় তারিকের বাবার অফিসের সামনে বিশাল পুকুর। গোসল করতে বাবার সঙ্গে তারিক যেত পুকুরে। সাঁতার কাটতে কাটতে সাঁতারেই বুনে যায় স্বপ্ন তার। তারিকের মনে হলো পুকুরে তো অনেক হলো, এবার একটু বড় কোথাও সাঁতরানো যায় কি না।

একদিন বন্ধুদের কাছ থেকে প্রস্তাব এলো নদীতে সাঁতরানোর। পরিকল্পনা ছিল সাঁতার কেটে নদীর ওপারে গিয়ে ক্ষেত থেকে তাজা শসা ও টমেটো খাবে। কিন্তু তারিকের মনে সাঁতারের অ্যাডভেঞ্চার। বন্ধুদের সঙ্গে সেবার ঠিকঠাক শীতলক্ষ্যা পাড়ি দেন। বেড়ে যায় আত্মবিশ্বাস। সাঁতারের প্রতি ভালোবাসাও বেড়ে যায় কয়েক কাঠি। অষ্টম শ্রেণিতে এসে ইচ্ছা জাগে এভারেস্ট জয়ের। তারিকের বড় ভাই বুঝালেন, আগে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হও। তখন দেখা যাবে ইচ্ছাপূরণের রাস্তাও পাবে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান ইসলামিক স্টাডিজে। নিশ্চয়ই এবার এভারেস্টে যেতে বাধা নেই। কারণ শর্ত তো পূরণ হয়েছে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তারিক বললেন, ‘ঢাবিতে চান্স পাওয়ার পর ভাইয়ার কাছে গেলাম এবং এ সম্পর্কে বললাম, তখন তিনি বললেন—এভারেস্টের মতো একটা বড় জায়গায় যাওয়ার আগে বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার শেষ করো।’ সেখান থেকেই শুরু হয় বাংলা চ্যানেল জয় করার প্রস্তুতি। অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করে ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার ও এক্সট্রিম বাংলা নামের দুটি দলের সন্ধান পান। যুক্ত হন তাদের সঙ্গে। প্র্যাকটিসও চলতে থাকে। কনকনে শীতে নিয়মিত টানা সাঁতরাতেন তারিক। ২-৩ ঘণ্টা একটানা সাঁতরানোর সক্ষমতা চলে আসে তার। এভাবেই বাংলা চ্যানেল অভিযানে বাছাইপর্বে জায়গা করে নেন।

ছেলে সমুদ্রে সাঁতার কাটবে—এমন দুঃসাহসিক কাজে মা চিন্তিত হয়ে পড়েন। বারণও করে বসেন ছেলেকে। তারিক বললেন, ‘মা আমাকে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে দিতে রাজি ছিলেন না। বাংলা চ্যানেলে যাচ্ছি জানতে পেরে তিনি আমার জামাকাপড় ও ব্যাগ লুকিয়ে ফেলেন। মাকে বলি বান্দরবান বেড়াতে যাচ্ছি। কিন্তু আমি চলে যাই সেন্টমার্টিন।’

অবশেষে ঘনিয়ে এলো মাহেন্দ্রক্ষণ। তারিক বললেন, ‘সাঁতারে নামার আগে এক বন্ধুর সঙ্গে প্ল্যান হলো, দুজনে পাশাপাশি সাঁতার কাটব এবং কাছাকাছি থাকব। কিন্তু সাগরের বিশাল ঢেউয়ে আমরা কে, কখন, কোথায় চলে গেলাম—তা বুঝতেই পারলাম না। সবাই আলাদা। এখানে বিপদ হলে আল্লাহ ছাড়া কেউ সাহায্য করার নেই। এ রকম ঢেউও জীবনে দেখিনি। ঢেউগুলো সজোরে আঘাত করছিল। পানি আমার নাকেমুখে ঢুকে পড়েছিল।’

এ প্রসঙ্গে তারিক জানালেন কিছু টিপসের কথা—‘সাঁতরানোর সময় ঢেউ বড় করে এলে নিজেকে ঢেউয়ের আঘাত থেকে বাঁচিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়—ঢেউ বড় হলে ঢেউয়ের ওপর উঠে যাওয়া, কিংবা বড় শ্বাস নিয়ে সেটাকে ডুব দিয়ে কাটানো।’

বাংলা চ্যানেলের ১৪-১৫ কিলোমিটার সাঁতরানোর পর স্রোতে পড়ে যান তারিক। যেটা যাচ্ছিল ছেঁড়া দ্বীপের দিকে। এ যেন বোঝার ওপর শাকের আঁটি। তখন কীভাবে সামলে নিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছেছেন—এ প্রশ্নে বললেন, ‘যখন স্রোতটা আসছিল, তখন আড়াআড়িভাবে সাঁতার কাটতে শুরু করি। একপর্যায়ে সেন্টমার্টিনে উঠতে সক্ষম হই।’

মহাসাগর জয়

দেশে তো কিছু একটা হলো অর্জন, এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় কিছু ঘটিয়ে দেওয়া যায় কি না, সেটা নিয়ে ভাবতে লাগলেন তারিক। সেই ধারাবাহিকতায় ওশেনম্যান এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বালি ইন্দোনেশিয়া-২০২৩ এ নাম লেখান। গত ৮ জুলাই এ প্রতিযোগিতা হয় ভারত মহাসাগরে হয়। তাতে ১১তম হন তারিক। অনুভূতি প্রকাশ করে বললেন, ‘এ প্রতিযোগিতায় সেরা পনেরোর তিনজনই বাংলাদেশি। সবাই এ আয়োজনের ফাইনাল রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করেছে। থাইল্যান্ডের ফুকেটে যেটি অনুষ্ঠিত হবে এ বছরের ৩ ডিসেম্বর। আপাতত এর জন্য নিয়মিত সাঁতার প্র্যাকটিস চলছে।’

তারিকের অন্য সাঁতার

ক্যাম্পাসে সাঁতারু হিসেবে কদর আছে তারিকের। বন্ধুদের যারা সাঁতার শিখতে চান, তাদের কখনও না করেন না। সাঁতার শেখানো ও এ নিয়ে ভবিষ্যতেও কাজ করার ইচ্ছে আছে তার।

সামাজিক কাজেও ‘সাঁতরাচ্ছেন’ তারিক। বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলা সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস ফর অল’-এর সঙ্গে কাজ করছেন কোমর বেঁধে। সংগঠনের উদ্দেশ্য—পিছিয়ে পড়া মানুষ যেন স্বাবলম্বী হয়ে অন্যদেরও স্বাবলম্বী করতে পারে। এক্ষেত্রে তারিকরা জোর দিচ্ছেন শিক্ষায়। আবার যারা স্বাবলম্বী হতে চান, তাদেরকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা ও নানা ধরনের সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি রক্ত দান ও রক্তদাতা খুঁজে দেওয়ার কাজও করছেন নিয়মিত।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা জানতে চাইলে তারিক বললেন, ‘যদি অর্জন বলি তাহলে সেটি হলো, বিদেশের মাটিতেও যে নিজ দেশকে উপস্থাপন করতে পারছি, এটাই বড় পাওয়া। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই। পুকুর, নদী, সাগর, মহাসাগর তো হলো—এবার লক্ষ্য এভারেস্ট জয়ের।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পর্তুগালের কোচের পদত্যাগ

সেই বালোগানকে নিয়েই বেলজিয়ামের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র

কাভার্ডভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে পরীক্ষার্থী নিহত

বাস কাউন্টার থেকে গলাকাটা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

আপত্তিকর ভিডিও করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা, গ্রেপ্তার নারী

তরুণ উদ্যোক্তা মোস্তাকিমের অনলাইনে বিষমুক্ত আমের সফল গল্প

অবশেষে মার্কিন ফুটবলারের ‘লাল কার্ড’ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ট্রাম্প

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রীর ‘প্রেস কর্মকর্তা’ হলেন মাহফুজ কবির মুক্তা

ভেঙে গেল রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন

বিশ্বকাপ শেষ রোনালদোর, পর্তুগালকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

১০

চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন নুনো মেন্দেস

১১

কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে আর্জেন্টিনার নতুন কৌশল

১২

বিশ্বকাপে লাল কার্ডের আন-লাকি থার্টিন

১৩

সিডনিতে বাংলা হান্ড্রেড লিগে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

১৪

প্রথমার্ধে রোমাঞ্চকর লড়াই, গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে স্পেন-পর্তুগাল

১৫

উদযাপন করতে গিয়ে কবজি ভেঙে বিশ্বকাপ শেষ হেন্ডারসনের

১৬

মহরণে স্পেন-পর্তুগাল, শুরুর একাদশে রয়েছেন যারা

১৭

পদযাত্রায় হামলার জন্য সাভারের এমপিকে সন্দেহ নাহিদের

১৮

ডিজি ছাড়া ইসিতে এনআইডি সেবা বন্ধ, সেবা মিলবে মাঠে

১৯

এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ, ‘প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে’ দাবি নাহিদের

২০
X