

ভোটের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে সারা দেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন—এই তিনটি জোনে ভাগ করা হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সফররত কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বচওয়েকের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে কমনওয়েলথ মহাসচিব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মানুষের আস্থা অর্জনে সিইসিকে পরামর্শ দেন। এ ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কেও তিনি জানতে চেয়েছেন। জবাবে আমরা বলেছি, সারা দেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন—এই তিন জোনে ভাগ করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
কমনওয়েলথ মহাসচিব আগামী সংসদ নির্বাচনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, কী কী সহায়তা লাগবে, সেসব তিনি জানাতে বলেছেন। প্রয়োজন হলে সহায়তা চাওয়া হবে।
ইসি সচিব আরও বলেন, বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, অগ্রগতি, বিদেশে ভোটদান, গণভোটসহ একাধিক বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’-এর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এটি জেনে কমনওয়েলথ মহাসচিব সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গণভোট নিয়ে কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেছেন, একই দিনে রেফারেন্ডাম আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য বাড়তি দায়িত্ব। তবে ইসি যে প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে, তা দেখে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নারী ভোটার অংশগ্রহণ ও ভোটার তালিকা সংশোধন, নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সংখ্যাগত তথ্য জেনে মহাসচিব প্রশংসা করেছেন। এ ছাড়া মৃত ভোটার বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার উদ্যোগকেও তিনি ভালো সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দেন।
এ ছাড়া ভুয়া তথ্য, মিসইনফরমেশন ও ফেক নিউজ নিয়ে কমনওয়েলথ মহাসচিব সতর্ক থাকতে বলেছেন জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেছেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এজন্য প্রচার-প্রচারণা চালানো জরুরি। এ সময় সিইসি তাকে বলেন, প্রয়োজনীয় প্রচার চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোও সহযোগিতা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।
ইসি সচিব জানান, কমনওয়েলথ প্রয়োজন হলে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। এখনো পর্যবেক্ষক দলের সংখ্যা বা পাঠানোর সময় বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট হয়নি। প্রবাসী পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচন পর্যালোচনা করে তাদের অবস্থান জানাবেন।
আখতার আহমেদ বলেন, কমনওয়েলথ মহাসচিব জানতে চেয়েছে আপনারা কী ধরনের সহযোগিতা চান। আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলিনি। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কোথায় সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে কিছু সময় লাগবে।