

মাছ-ভাতের মতো ঝালমুড়িও এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে গেছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে ঝাড়গ্রামে প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝালমুড়ি খাওয়া। কনভয় থামিয়ে ঝাড়গ্রামে রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে ঝাল ও পেঁয়াজ দিয়ে মাখা ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তার পর থেকে এটি রাজ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে টানটান উত্তেজনা। প্রাথমিক কয়েকটি রাউন্ডের পর গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে বিজেপি ১৮৮ আসনে এগিয়ে, আর তৃণমূল এগিয়ে ছিল ৯৮টি আসনে। দিনের শেষে ভোটচিত্র কেমন হয়, সেদিকে সবার নজর। কিন্তু এরই মধ্যে বিজেপি কার্যালয়ে শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। বিবিসির খবরে বলা হয়, সেখানে মিষ্টি বিতরণের পাশাপাশি ঝালমুড়িতেও মেতে ওঠেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামে নির্বাচনি প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদি। নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি পোস্ট করেছিলেন। মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছিল তার সেই ছবি ও ভিডিও। বিরোধীরাও তখন বিজেপি ও মোদিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। সে সময় তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। অবশ্য তার জবাবও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। গতকাল সোমবার সেই ঝালমুড়িই বিতরণ করা হয় বিজেপি কার্যালয়ে।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট গ্রহণের দিন ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে হাজির হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। এসেছিলেন নদীয়ার কৃষ্ণনগরে। কৃষ্ণনগরের বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে মোদি বলেন, এই জনজোয়ার আজ বাংলাকে ইঙ্গিত দিচ্ছে বাংলায় আসছে বিজেপি, চলে যাচ্ছে তৃণমূল। তার কয়েকদিন আগেই রাজ্যের ঝাড়গ্রামে প্রচারসভা সেরে মেদিনীপুরের জনসভায় আসার পথে রাস্তার পাশের একটি ছোট্ট দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন মোদি। প্রথম দফার নির্বাচনে কৃষ্ণনগরে প্রচার মঞ্চ থেকে সে প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, ‘শুনেছি আমার ঝালমুড়ি খাওয়া কিছু লোককে ব্যাপক ঝটকা দিয়েছে। ঝালমুড়ি আমি খেলাম আর ঝাল লাগল তৃণমূলের।’
মোদি সেদিন এ কথাও বলেছিলেন, জিতলে ঝালমুড়ি খাওয়ানো হবে। তাই এখন দেখছি, এই বাংলায় পরিবর্তনের ঝড় শুরু হয়ে গেছে। ৪ মের পর বাংলায় বিজেপির সরকার হবে।
মোদির সে কথাই ফলল। পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার পথে বিজেপি। রাত সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচনে ফল গণনায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে এগিয়ে আছে কেন্দ্র সরকারে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, এ পর্যন্ত বিজেপি ২০৮টি আসনে এগিয়ে আছে। আর গত তিন মেয়াদে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস ৭৯টি আসনে এগিয়ে।
এ ছাড়া সিপিএম ১, কংগ্রেস ২ ও অন্যরা ৩টি আসনে এগিয়ে। দুপুরের দিকে বিজেপি ম্যাজিক ফিগার পার করতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দলটির কর্মী-সমর্থকরা। পাড়ায় পাড়ায় চলে লাড্ডু বিতরণ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের ফলাফলের এই প্রবণতার মধ্যে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে গতকাল বিজেপির কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছেন।
রাজ্যের এই বিপুল জনসমর্থনের জোয়ার দেখে উচ্ছ্বসিত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘বাংলার সব হিন্দু আজ একজোট হয়েছেন। তারা নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপি নিশ্চিতভাবেই বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে।’
ভবানীপুরেও হার মমতার : তিনি ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে। অথচ সেই নিজের ঘরেই হারতে হলো তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েছিলেন মমতা। পরাস্ত হয়েছিলেন। এ বার মমতারই আসনে মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। তাতে পরাস্ত হলেন তৃণমূল নেত্রী। ঘরের মেয়েকে হারতে হলো ঘরেই।
নিজের আসন ভবানীপুরকে ‘বড়বোন’ এবং নন্দীগ্রামকে ‘মেজোবোন’ বলে সম্বোধন করে থাকেন মমতা। ‘মেজোবোনের’ কাছে পাঁচ বছর আগেই হেরেছিলেন। সেবারও হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার ‘বড়বোন’ ভবানীপুরেও হারলেন তিনি। এবারও হারালেন সেই শুভেন্দুই। গতবারের চেয়ে আরও বড় ব্যবধানে। নন্দীগ্রাম আসনে পাঁচ বছর আগে ১৯৫৬ ভোটে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ালেন শুভেন্দু—১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়।
সোমবার রাতে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বেরিয়েই নিজের জয়কে ‘হিন্দুত্বের জয়’ বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাকে মুসলমানরা ভোট দেয়নি। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ সমাজ আমাকে জিতিয়েছে। এই জয় বাংলার মানুষের জয়। এই আসন না জিতলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণ হত না।’
বিজেপির এই জয়ের পেছনে দলীয় কর্মীদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ‘বাংলায় পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ৩০০ বিজেপি কর্মীর আত্মবলিদান। হিন্দু শহিদ হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসসহ যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের এই জয় উৎসর্গ করছি।’
ভবানীপুরের ফল নিয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে উনি হেরেছিলেন। এবারও হারলেন। তার বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীকে মুসলিম ভোটব্যাংক বিপুল সমর্থন দিলেও অন্য সম্প্রদায়ের ভোট তার দিকে এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের গণনা গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনে ভোট হয় ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
মমতার গাড়ি দেখেই ‘চোর চোর’ স্লোগান বিজেপির
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার কিছু পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছান মমতা। সেখানে আগে থেকেই বিজেপি কর্মীদের জটলা ছিল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির সামনে ‘চোর চোর’ স্লোগান তোলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা।
মমতা সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছানোর কিছু আগেই গণনাকেন্দ্রের অদূরে একটি পেট্রোল পাম্পে বসে ছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকশীও সেখানে ছিলেন। পরে জানা যায়, পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলে। যদিও ওই সময়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সেখানে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর কিছু পরই এজেসি বোস রোড ধরে এগিয়ে আসা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় পুলিশের। পরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূলের জমায়েতস্থলে পৌঁছে যান। তৃণমূল কর্মীদের পেতে রাখা চেয়ার ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে গণনাকেন্দ্রের চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
দুই আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ২৯৩ আসনের মধ্যে দুটি আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আনন্দবাজার পত্রিকায় জানায়, মন্তেশ্বর আসনে ১৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সৈকত পাঁজা। আর ভগবানগোলায় ৫৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জিতেছেন তৃণমূল প্রার্থী রেয়াত হোসেন সরকার।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় নিয়ে মোদির বার্তা
প্রায় ১৫ বছর পর এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল সন্ধ্যায় ধুতি-পাঞ্জাবি পরে দিল্লিতে বিজেপির সদর কার্যালয়ে আসেন তিনি। এখানে তিনি দলের কর্মীদের সঙ্গে বিজয় উদযাপন করেন এবং তাদের উদ্দেশে ভাষণও দেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, এবার বদলা নয়, বদল। আজ সারা দেশে ২০টিরও বেশি রাজ্যে বিজেপি-এনডিএ সরকার রয়েছে। আমরা জনগণের সেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং সে কারণেই জনগণ বিজেপির ওপর আরও বেশি করে আস্থা রাখছে। যেখানেই বিজেপি, সেখানেই সুশাসন; যেখানেই বিজেপি, সেখানেই উন্নয়ন। গত দুই বছরের ধারা দেখুন। হরিয়ানায় টানা তৃতীয়বারের মতো বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে, মহারাষ্ট্রে বিজেপি বিজয় লাভ করেছে, দিল্লিতে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করেছে এবং বিহারে আমরা আগের চেয়েও বড় বিজয় পেয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছরের ১৪ নভেম্বর, যখন বিহার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছিল, আমি ঠিক এই জায়গা থেকেই আপনাদের সবাইকে বলেছিলাম যে, গঙ্গা বিহার ছাড়িয়ে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বয়ে গেছে। আজ, বাংলার জয়ে, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পদ্ম ফুটছে। উত্তরাখন্ড, উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং এখন পশ্চিমবঙ্গ। আজ, মা গঙ্গার চারপাশে অবস্থিত এই রাজ্যগুলিতে বিজেপি, এনডিএ সরকার রয়েছে।’
এর আগে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে।’
‘আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রণাম জানাই। জনগণ বিজেপিকে এক অভূতপূর্ব রায় দিয়েছেন এবং আমি তাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব, যা সমাজের সব স্তরের মানুষের সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’
বাংলার মানুষ অনুপ্রবেশকারী ও তাদের স্বার্থরক্ষাকারীদের শিক্ষা দিয়েছে: অমিত শাহ
পশ্চিমবঙ্গের জনগণের উদ্দেশে অনুপ্রবেশকারী ও তাদের স্বার্থরক্ষাকারীদের শিক্ষা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অমিত শাহ।
অমিত শাহ গতকাল সোমবার এক এক্স বার্তায় বলেছেন, বাংলার মানুষ অনুপ্রবেশকারী ও তাদের স্বার্থরক্ষাকারীদের এমন শিক্ষা দিয়েছে, যা তোষণের রাজনীতি করা দলগুলো কোনোদিন তা ভুলতে পারবে না। বাংলা যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের ওপর এই বিশ্বাস রেখেছে, বিজেপি অবশ্যই তা পূরণ করবে।
এক্স বার্তায় অমিত শাহ লিখেছেন, চৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী বিবেকানন্দ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মতো মহাপুরুষদের পবিত্র ভূমি বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বিজেপি দিন-রাত এক করে দেবে।
কাউন্টিং এজেন্টদের ধৈর্য ধরার বার্তা মমতার
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোটগণনার যে প্রবণতা, তাতে বিজেপি ১৮০-র বেশি আসনে এগিয়ে। তৃণমূল এগিয়ে একশর কম আসনে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দলের প্রার্থী এবং নেতাকর্মীদের বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, প্রার্থী কিংবা তার কাউন্টিং এজেন্ট, কেউ যেন ভেঙে না পড়েন। প্রথম দিকে বিজেপি যে এগিয়ে থাকবে, সে কথা তিনি আগেই বলেছেন। তাই সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন দলের সবাইকে। মমতার দাবি, জয় তৃণমূলেরই হবে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সামাজিকমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, ‘দয়া করে কোনো (তৃণমূল) প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে আসবেন না। এটা বিজেপির প্ল্যান (পরিকল্পনা)।’ তিনি বলেন, ‘আমি গতকাল থেকে বলছি, ওদেরগুলো (এগিয়ে থাকা আসন) আগে দেখাবে। আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। অনেক জায়গায় কাউন্টিং বন্ধ করে রেখে দিয়েছে। কল্যাণীতে এমন সাতটি মেশিন ধরা পড়েছে, যেখানে কোনো মিলই নেই। এসআইআরের নামে ভোট লুট করেছে।’
মমতার দাবি, এখনো তৃণমূল ১০০-র বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সেগুলো বলছে না কমিশন। তিনি বলেন, ‘ইলেকশন কমিশন নিজের ইচ্ছামতো খেলছে। সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আমাদের পুলিশরা মাথা নত করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হয়ে কাজ করছে।’ পরিশেষে মমতার বার্তা, নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।
পশ্চিমবঙ্গে বিজয় মিছিলে কড়াকড়ি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মধ্যে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজয় মিছিলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন, ভোট গণনার সময় রাজ্যের কোথাও কোনো বিজয় মিছিল বা রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, জেলা প্রশাসকদেরও প্রতি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আগরওয়াল। বলেছেন, কোথাও যেন বিজয় মিছিলের অনুমতি দেওয়া না হয়। তবে আজ মঙ্গলবার নির্ধারিত নিয়ম মেনে এবং সংশ্লিষ্ট থানা থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়ে মিছিল করা যাবে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এই নির্বাচনি কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার নির্বাচনের সময় এবং আজ গণনার দিন কোনো বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।’