আতাউর রহমান
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৭:১৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বৃত্তেই বন্দি মাদক কারবার

আজ মাদকবিরোধী দিবস
বৃত্তেই বন্দি মাদক কারবার

দেশে মাদকের পাচার ও অবৈধ ব্যবহার ঠেকাতে রয়েছে নানা উদ্যোগ। গত কয়েক বছরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ (ডিএনসি) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতাও বেড়েছে এক্ষেত্রে। বেড়েছে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও। এতসব কার্যক্রম থাকলেও হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। এ পরিস্থিতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব শহরে; শহর ছাড়িয়ে গ্রামগঞ্জেও চলছে মাদকের অবাধ বিক্রি-সেবন।

খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশে মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ মাদকসেবী। এই মাদকসেবীদের ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ মাদকের সহজলভ্যতার কথা জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের তিন বছর আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মাদকের কারণে প্রতি বছর পাচার হয়ে যায় ৪৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ওই সময়ের ডলারের বিনিময় মূল্যে বাংলাদেশি ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতি মধ্যেই আজ ২৬ জুন দেশে পালিত হচ্ছে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’।

মাদকের পাচারবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে মাদকের পাচার, বহন ও কারবারে নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে। তবে সীমান্তকেন্দ্রিক হোতাদের অনেকেই এখনো পুরোনো মুখ রয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে মাদকের পাচারকারী বা কারবারিদের তালিকা হালনাগাদ না হওয়ায় এরা অনেকটা বাধাহীনভাবেই মাদকের পাচার ও কারবার করে আসছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে নজরদারির অভাবে মাদকের পাচার ও কারবার বেড়েছে।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, নানা উদ্যোগ আর কড়াকড়ির পরও সীমান্তের ফাঁকফোকর গলে দেশে মাদক আসা থামছে না। পুরোনো মাদক গাঁজা-হেরোইনের সঙ্গে ইয়াবা-ক্রিস্টাল মেথের (আইস) পর নানা সিনথেটিক মাদকও চোখ রাঙাচ্ছে। সবকিছু ছাপিয়ে মারণঘাতী কোকেনও দেশে ঢুকছে দেদার, যা মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বলছেন মাদক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত কর্মকর্তারা।

গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একটি মাদকের পাচার কমলেও অন্য মাদকের পাচার বেড়ে গেছে বহুগুণ। তবে এই কম-বৃদ্ধি অঙ্কটা বছরের পর বছর ধরে প্রায় কাছাকাছিই থাকছে। আবার মাদকসেবীদের সংখ্যাও বাড়ছে দিনে দিনে।

এতকিছুর পরও প্রাণঘাতী মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল ছাড়াই পুরোনো নিয়মে চলছে উদ্ধার-গ্রেপ্তার অভিযান। বরাবরের মতোই জালের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে মাস্টারমাইন্ডরা, ধরা পড়ছে শুধু বাহকরা। ডিএনসিসহ বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা নির্ভরযোগ্য সূত্রে মিলেছে এসব তথ্য।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. বশির আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ২০২৪ সালের আগে মাদকের অপব্যবহার তুলনামূলক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। তবে বাস্তবতা হলো, ২০২৪ সালের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। যে কারণে ওই সময় সত্যিকার অর্থেই স্বাধীনভাবে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে এই মাদকের পাচার ও কারবার ঠেকাতে বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। ডিএনসি, পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি সব বাহিনীই মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

বৃত্তের মধ্যেই মাদকের চোরাচালান: দেশে মাদক উদ্ধারকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেদের সফলতা হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। যত বেশি মাদক উদ্ধার ও এক্ষেত্রে মামলা হয়, তাতে ধারণা করা হয় ওই পরিমাণ মাদকের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। তবে সেইসঙ্গে মাদকের অপব্যবহারও বোঝা যায় এ উদ্ধার-গ্রেপ্তার চিত্র থেকে। অবশ্য জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইউএনওডিসির গবেষণার তথ্য বলছে, দেশে যত মাদক বিক্রি হয়, ধরা পড়ে তার মাত্র ১০ শতাংশ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২০২৫ সালে প্রকাশিত বার্ষিক ড্রাগ রিপোর্টে দেখা যায়, ২০২৪ সালে দেশে সব সংস্থা মিলে ২ কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এর আগের বছর এই উদ্ধারের সংখ্যা ছিল চার কোটির বেশি। ২০২৫ সালেও ইয়াবা উদ্ধার কম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই দুই বছর উদ্ধার বা জব্দ কম হওয়ার অন্যতম কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। ওই সময়ে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বাভাবিক কাজ করতে পারেনি। এতে মাদক উদ্ধারে বিশেষ নজর ছিল না।

মাদক উদ্ধারের সাত বছরের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে ৫ কোটি ৩০ লাখ পিস, পরের বছর ৩ কোটি ৪৪ লাখ পিস, ২০২০ সালে ৩ কোটি ৬৩ লাখ, ২০২১ সালে ৫ কোটি ৩০ লাখ পিস, পরের বছর ৪ কোটি ৫৮ লাখ পিস এবং ২০২৩ সালে ৪ কোটি ২৯ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেষ তিন বছর ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ কমে এসেছে।

ইয়াবা উদ্ধার কমে এলেও সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার হওয়া মাদক গাঁজা উদ্ধারের পরিমাণ বছর বছর বেড়েই চলছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলে ৬০ দশমিক ২৯৫ টন গাঁজা উদ্ধার করে। পরের বছর উদ্ধারের পরিমাণ কমে ৩২ দশমিক ৬৫৭ টন হলেও ২০২০ সালে তা ৫০ টন হয়। ২০২১ সালে ৮৬ দশমিক ৬৯৬ টন গাঁজা উদ্ধার হলেও পরের তিন বছর তা শত টনের অঙ্কে চলে যায়। ২০২২ সালে ১১৫ দশমিক ৩৬৭ টন, ২০২৩ সালে ১১২ দশমিক ১৬৫ টন এবং ২০২৪ সালে ১১৪ দশমিক ৩৪৫ টন গাঁজা উদ্ধার হয়।

হেরোইন, কোকেন ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইস উদ্ধারও দিন দিন বেড়েই চলছে। দেশে ২০২০ সালে সব সংস্থা মিলে হেরোইন উদ্ধার করেছিল মাত্র ২১০ কেজি ৪৩৮ গ্রাম, পরের বছর এ উদ্ধারের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ৪৪১ কেজি ২২ গ্রামে। ২০২২ সালে তা কিছুটা কমে ৩৩৮ কেজি ২৭৯ গ্রাম হলেও পরের বছর তা কয়েকশ গুণ বেড়ে এ উদ্ধারের পরিমাণ হয় প্রায় ৮০০ কেজি এবং ২০২৪ সালে এ উদ্ধারের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কেজি। তবে উদ্ধার পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ভয়ংকর কোকেনের পাচার বেড়েছে আরও বেশি। ২০২০ সালে সব সংস্থা মিলে ৩ কেজি ৮৯৩ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করলেও ২০২৪ সালে সেই মাদক উদ্ধার করা হয় ১৩০ কেজি! অবশ্য মাঝের তিন বছর এ উদ্ধারের পরিমাণ অনেকটাই কমে আসে। ২০২১ সালে কোকেন উদ্ধার হয় এক কেজি ৫৫ গ্রাম, পরের বছর চার কেজি ৫৭ গ্রাম আর ২০২৩ সালে ১৩ কেজি কোকেন উদ্ধার করে বিভিন্ন সংস্থা।

এদিকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে ‘আইস বা ক্রিস্টাল মেথ’ নামের মাদকের অস্তিত্ব না থাকলেও এর পরের বছরগুলো থেকে এই মাদক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। ইয়াবার সঙ্গে এ মাদকও মিয়ানমার থেকে দেশে পাচার হয়ে আসে বলে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মিলে ২০২১ সালে প্রায় ৩৭ কেজি ক্রিস্টাল মেথ জব্দ করে। পরের বছর এ জব্দের অঙ্ক বড় হয়ে দাঁড়ায় ১১৩ কেজিতে। ২০২৩ সালে দেশে এ ভয়ংকর মাদক উদ্ধার হয় প্রায় ১৮৭ কেজি! যদিও ২০২৪ সালে তা কমে ১১০ কেজি হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন্স) বশির আহমেদ বলেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছরের তথ্য যদি দেখা যায়, আমরা কখনোই এ মাদকের অপব্যবহারের জায়গা থেকে বের হতে পারিনি। তবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ছিল। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় মাদক কারবারিরাও বারবার কৌশল বদলায়। আমাদের প্রথম টার্গেট সীমান্ত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।

চিহ্নিত ১০৪ রুট, তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না মাদক: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সব সময়েই বলা হয়, দেশে কোনো মাদকের উৎপাদন হয় না। সব মাদকই পাচার হয়ে দেশে আসে। যদিও কোন পথে পাচার হয়, সেই তালিকাও রয়েছে মাদক ঠেকাতে কাজ করা সব সংস্থার হাতে। কিন্তু সেই মাদকের পাচার কেন ঠেকানো যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, দেশে সীমান্ত এলাকাগুলোর ১০৪টি রুট দিয়ে মাদক ঢুকছে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলীয় আট জেলার সীমান্তের ৪২ পয়েন্ট দিয়ে দেশে মাদক ঢুকছে। পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের চার জেলার ২১ পয়েন্ট, উত্তরাঞ্চলীয় ৫ জেলায় ২১ পয়েন্ট এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারের টেকনাফের ২০ পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে মাদক।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়া, দেবহাটা, ভোমরা, কাকডাঙ্গা ও পলাশপুর, যশোরের বেনাপোল, পোটখালি, চৌগাছা, নারায়ণপুর, শার্শা ও আশপাশের সীমান্ত এলাকা, চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর, মেহেরপুরের দারিয়াপুর ও বরইপোতা, রাজশাহীর মনিগ্রাম, চারঘাট, সারদা, ইউসুফপুর, কাজলা, বেলপুকুরিয়া, হরিপুর, গোদাগাড়ি, বাঘা ও রাজশাহী সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, শাহবাজপুর, বিনোদপুর, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও কানসাট, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ি, বিরামপুর, হিলি, হাকিমপুর, কামালপুর, বিরল, আকাশখুরপুর, খানপুর, দাইনুর, মালিগ্রাম এবং বানতারা পয়েন্ট দিয়ে দেশে মাদক ঢুকছে।

পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের সিলেট জেলার জকিগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার করিমপুর, কসবা, আখাউড়া, সিঙ্গারবিল, পাহাড়পুর ও বিজয়নগর, কুমিল্লার জগন্নাথ দীঘি, চৌদ্দগ্রাম, গোলাপাশা, কালিকাপুর, জগন্নাথপুর, রাজাপুর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও বিবির বাজার, ফেনীর ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী এবং পশুরাম সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দেশে মাদক ঢুকছে।

উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের মধ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি, রৌমারী, ভুরুঙ্গামারি, নাগেশ্বরী, বাঁশজানি, বালারহাট, বালাবাড়ি, চন্দ্রঘোনা, পাথরডুবি ও নাখারগঞ্জ, লালমনিরহাটের সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম ও বুড়িমারী, শেরপুরের ঝিনাইগাতি ও নালিতাবাড়ি, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া, নেত্রকোনার দুর্গাপুর এবং কলমাকান্দা পয়েন্ট দিয়ে মাদক আসে।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের একমাত্র জেলা কক্সবাজারের জালিয়াপাড়া, সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, সাবরাং দক্ষিণপাড়া, দমদমিয়া, যোতিপাড়া, দক্ষিণ হ্নিলা, লেদাপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নোয়াপাড়া, হোয়াইক্যং, তমব্রু, উখিয়া, কাটাখালী, বালিখালি, ঘুমধুম ও কাটাপাহাড় এলাকা দিয়ে মাদক ঢুকছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা দিয়ে মূলত মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের মতো মাদক পাচার হয়ে দেশে ঢুকে। দেশের অন্যান্য সীমান্ত এলাকা দিয়ে মদ, গাঁজা ও ফেনসিডিলের মতো মাদক পাচার হয়ে আসছে।

মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ ভাগই মাদকসেবী: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ২০২৫ সালের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশে মাদকসেবী বা মাদকের অপব্যবহারকারীর সংখ্যা অন্তত ৮৩ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ ভাগ। গবেষণায় আরও বলা হয়, এ মাদকসেবীদের মধ্যে সর্বাধিক ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ গাঁজাসেবী, ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ ইয়াবায় আসক্ত, ১ দশমিক ১৯ ভাগ অ্যালকোহল এবং কোডিন ফসফেটসেবী শূন্য দশমিক ২০ ভাগ। ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকের অপব্যবহারী শূন্য দশমিক ০২৩ শতাংশ, এলএসডি শূন্য দশমিক ০০৩ শতাংশ, আইস শূন্য দশমিক ০০৭ শতাংশ এবং কোকেন শূন্য দশমিক ০০৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠান দুটি গত বছর দেশের আট বিভাগের ১৩ জেলার ২৬টি উপজেলায় এ গবেষণা চালায়।

গবেষণার তথ্য বলছে, মাদকসেবীদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে। বেশিরভাগ সেবী মাদকের প্রধান উৎস হিসেবে ডিলার এবং পরিচিতদের নেটওয়ার্কের কথা জানিয়েছে এবং ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ মাদকের সহজলভ্যতার কথা জানিয়েছে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক কালবেলাকে বলেন, নানা সময়ে নানা উদ্যোগ, অপারেশনে জোর দেওয়া হলেও মাদকের পাচার, কারবার এবং অপব্যবহার থামানো যাচ্ছে না। এটি থামাতে না পারার অনেক কারণের মধ্যে বড় কারণ রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সংঘবদ্ধ দল মাদকের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এ দলে অতি প্রভাবশালী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র কারবারি পর্যন্ত রয়েছে। তাই সবার আগে মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে।

এ অপরাধ বিজ্ঞানী বলেন, কোন পথে মাদক আসে, কারা পাচারে যুক্ত, কারা বহন করে, কারা বিক্রি করে এবং কারা সেবনকারী—সবার তথ্যই কিন্তু সরকারের কাছে থাকে। এরপরও তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নানা প্রশ্ন আসবে। যেহেতু সব মাদকই বর্ডার ক্রস করে আসে, তাই বর্ডারে দায়িত্বরত বাহিনীকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মা ও তিন মেয়েকে হত্যা: প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় লোমহর্ষক সেই মুহূর্ত

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে বহু হতাহতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

দেশের ৬ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা

বিশ্বকাপে নকআউটের টিকিট কাটল যারা, বাদ পড়ল কারা

সামান্য ভুলেই বাতিল হতে পারে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন

ধর্ম নিয়ে ব্যবসা নয়, সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাই: সংসদে ফজলুর রহমান

পূর্ব শত্রুতার জেরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা

‘হৃদপিণ্ড ধুকধুক করে কাঁপছিল’

আশুরার দিন এশিয়ার দেশে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা

ঐতিহাসিক হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিল শুরু

১০

বিসিবিতে অর্থায়ন স্থগিত চান বুলবুল, আইসিসিতে দিলেন ১৪ পৃষ্ঠার চিঠি

১১

প্যারাগুয়ের জালে কোনো গোল না দিয়েও নকআউটে অস্ট্রেলিয়া

১২

বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবস: টঙ্গীতে ছাত্রশিবিরের সাইকেল র‍্যালি

১৩

প্রথমার্ধে তুরস্কের বিপক্ষে ২-১ গোলে পিছিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

১৪

শেষ মুহূর্তের গোলে তুরস্কের জয়, হেরেও নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র

১৫

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মালদ্বীপে দোয়া-মিলাদ মাহফিল

১৬

ব্রাজিল ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের সেরা বললেন জাপান কোচ

১৭

উন্নয়ন তহবিল থেকে ১০ শতাংশ কমিশন দাবি ইউপি সচিবের

১৮

চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় নিয়ে তারেক রহমানের পোস্ট

১৯

যুদ্ধের আবহে ইরান ও লেবাননে শোক ও প্রার্থনায় পবিত্র আশুরা পালন

২০
X