

আজ হিজরি ১৪৪৮ সনের ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ববহ এবং একই সঙ্গে গভীর শোকের দিন।
৬১ হিজরির (৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ) এ দিনে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) তার পরিবার ও অনুসারীসহ ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করে শাহাদাতবরণ করেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাদের এই মহান আত্মত্যাগ মানব ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করি এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের নিবেদিত করি।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে হোসেনী দালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল, শোকসভা ও বিশেষ মাতম কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিছিলে ব্যবহৃত নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের বেশি না হওয়া; কোনো প্রকার ধারালো ধাতব বস্তু, ছুরি, কাঁচি, লাঠি, তরবারি, বর্শা, দাহ্য পদার্থ বা পটকা বহন না করা; এবং উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী পিএ সিস্টেম বা ঢাক-ঢোল ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। এ ছাড়া সন্দেহজনক কোনো ব্যাগ, স্যুটকেস বা ছাতা নিয়ে মিছিলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার এক বার্তায় জানান, সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুটগুলোতে তীব্র যানজট এড়াতে ট্রাফিক ডাইভারশন দেওয়া থাকবে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মহানগরীর যানবাহন চালক ও সাধারণ জনগণকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।