

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল চেনা ছন্দটা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও ফিরে পায়নি। কিন্তু রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগের প্রদর্শনীতে উন্নতির গ্রাফ ছিল ইতিবাচক। মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করল সেলেসাওরা। ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির কণ্ঠে ছিল স্বস্তি, সন্তুষ্টি আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
‘আমরা এখন একটি দল হিসেবে খেলছি—এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আমরা নিখুঁত নই, উন্নতির জায়গা এখনো আছে। আমি খুশি, কারণ দল অনেকটা এগিয়েছে। এখন আমরা সংহত। নকআউট পর্বে এই সংহতিই সবচেয়ে বড় শক্তি’—ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন ইতালীয় কোচ। প্রথম ম্যাচের তুলনায় ভুলের সংখ্যা কমেছে, ছন্দ বেড়েছে, সামনে থেকে আক্রমণে এসেছে গতি। আনচেলত্তির মতে, বল নিয়ন্ত্রণে থাকলে আরেকটু দ্রুততা আনা গেলে ব্রাজিল আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। যা আছে, তা-ই যথেষ্ট আশাজাগানিয়া।
এই ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় নিঃসন্দেহে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুটি গোল করে তিনি শুধু দলের জয় নিশ্চিত করেননি, নিজেকে স্থাপন করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের কিংবদন্তিদের পাশে। বিশ্বকাপে টানা তিন গ্রুপ ম্যাচে গোল করে তিনি ছুঁয়েছেন রোনালদো, রিভালদো, জাইরজিনহো এবং রোমারিওর কীর্তি। হেডে গোল করাটা তার জন্য বিরল ঘটনা, কিন্তু এদিন সেটাও হয়েছে। তিন ম্যাচে ব্রাজিলের সাত গোলের মধ্যে ভিনির চার, বাকি তিন গোল কুনহার।
ম্যাচের পর আনচেলত্তির কণ্ঠে ছিল ভিনির প্রশংসা, ‘আমি তাকে আবিষ্কার করছি না। ভিনি টপ ক্লাস। সে বিশ্বের সেরাদের একজন—এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ এই বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কীভাবে নিজেকে মেলে ধরবেন, তা নিয়ে আনচেলত্তির সংশয় ছিল না বলে জানান। জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামাটা ভিনির কাছে সম্মানের বিষয় এবং সেই আবেগ তার নৈপুণ্যেই ফুটে উঠছে।
ইনজুরিতে রাফিনহা ছিটকে পড়লে কোচ ভার দেন তরুণ রায়ানের কাঁধে। এই তরুণ হতাশ করেননি। প্রথম গোলের নাটাই ঘোরানো মুভমেন্টে তার ভূমিকা ছিল, নিজেও গোলের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন একবার। রক্ষণে ও আক্রমণে সমান সক্রিয়তা দেখিয়ে মুগ্ধ করেছেন আনচেলত্তিকে, ‘রায়ান রক্ষণ ও আক্রমণ—দুদিক থেকেই পরিপূর্ণ কাজ করেছে। এত অল্প বয়সে এই পরিপক্বতা, এই পরিশ্রমের মানসিকতা এবং মান সত্যি দারুণ। তার মান কতটা উঁচু হতে পারে, সেটা কেউ এখনো জানে না।’
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৩০ মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর বাঁ হাঁটুর গুরুতর আঘাতের পর ৯৮১ দিন কেটেছে হলুদ জার্সি ছাড়া। এবার ডান পায়ের পেশির আঘাত কাটিয়ে, দীর্ঘ পেশাদার পুনর্বাসনের পর নেইমার জুনিয়র ফিরলেন তার চতুর্থ বিশ্বকাপে। এই ইস্যুতে আনচেলত্তি বলেন, ‘সে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছে, কারণ সে সেটা অর্জন করেছে। পেশাদারিত্বের সঙ্গে ট্রেনিং করেছে, রিকভারি করেছে। নেইমারের ব্রাজিলের হয়ে খেলতে কোনো আলাদা অনুপ্রেরণার দরকার নেই। বয়স ৩৪ হলেও তার মধ্যে এখনো সেই একটা ছেলের আবেগ আছে—যে ব্রাজিলের জন্য খেলতে ভালোবাসে।’
‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের বিপক্ষে পরের সোমবার হিউস্টনে মাঠে নামবে ব্রাজিল। নেদারল্যান্ডস, জাপান বা সুইডেন—যে-ই হোক প্রতিপক্ষ, আনচেলত্তির দল এখন প্রস্তুত। সংহতি, তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে যে ব্রাজিল তৈরি হচ্ছে, তা নকআউটের চাপ সামলাতে পারবে কি না—সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।