

দেশের বাজারে অর্থ সরবরাহ, সুদের হার নির্ধারণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছয় মাসের পরবর্তীতে তিন মাস মেয়াদি মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এমন প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবের জবাবে বাংলাদেশের ব্যাংকের পক্ষে বলা হয়- প্রস্তাবটি ভালো, এটা নেওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সুদের হারভিত্তিক মুদ্রানীতি থেকে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি-লক্ষ্যভিত্তিক মুদ্রানীতিতে রূপান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক তার কার্যক্রম ও মুদ্রানীতি সম্পর্কে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দেয়। এতে বর্তমান মুদ্রানীতির কাঠামো, এর বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। উপস্থাপনা শেষে কমিটির সদস্যরা বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং দেশের মুদ্রানীতি ও আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
দেশে বর্তমানে ছয় মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। সভায় একজন সংসদ সদস্য প্রতি তিন মাস পর পর মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তাব করেন। এই বক্তব্যকে ইতিবাচক বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
বৈঠকের বিষয়ে কথা হলে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, `সভায় মনিটারি পলিসি নিয়ে অর্থাৎ দেশের মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আজকে (রোববার) প্রথম দিন একজন সংসদ সদস্য এটা ছয় মাসের জায়গায় তিন মাস করা যায় কি না, সেটি প্রস্তাব করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এটা গ্রহণ করেছেন যে, ছয় মাসের জায়গায় তিন মাসের বিষয়টি রিভিউ করা হবে এবং সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে। সে অনুযায়ী কাজ করতে এবং মূল্যস্ফীতি যাতে কমে তার জন্য কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।'
আরেক সংসদ সদস্য জালাল বলেছেন, একটা হল কমপ্লায়েন্স, আরেকটি হলো ডিউ রিলিজেন্স। এই দুটি বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া। সেটাও অর্থমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন যে এই দুটি কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, `সময়ের অভাবে বৈঠকে সেটি ওভাবে আলোচনা হয়নি। বৈঠকে আংশিক ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে আলোচনা হয়েছে।'
কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মো. জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং মো. আবুল হাসনাত।
এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।