

ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের কারণে বিশ্বের রাজনৈতিক দৃশ্যপট এখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে শক্তির ভারসাম্য ধীরে ধীরে স্থানান্তরিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে ইউরোপভিত্তিক ত্রৈমাসিক সাময়িকী আনচার্টাড টেরিটরিজ। আর সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের জেরে লাভবান হচ্ছে রাশিয়া।
চীন দীর্ঘ সময় রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সমর্থন দেবে: চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ খুবই সুবিধাজনক। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপে মনোনিবেশ করতে হচ্ছে, যার ফলে ইউরোপ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে চীনের দিকে লক্ষ্য করতে বাধা দেয়। এতে দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে রাশিয়ার ক্ষতি হয়, যা দেশটিকে চীনের দিকে আরও নির্ভরশীল করে তোলে।
চীনের লক্ষ্য সাইবেরিয়ায় বিস্তার: রাশিয়ার পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে সাইবেরিয়া, দূরত্ব এবং দুর্বল প্রশাসনিক কারণে চীনের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে। রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল হয়ে গেলে চীনের প্রভাব বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে কিছু অঞ্চল দখল করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
চীন মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বাড়াচ্ছে: তিব্বত দখল, উইঘুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ এবং আফগানিস্তানে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির মাধ্যমে চীন মধ্য এশিয়ায় স্থায়ী প্রভাব তৈরি করতে চাইছে।
চীনের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা: চীনের সরকারি নিয়ন্ত্রণের কারণে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের কার্যকারিতা সীমিত। চীনের অর্থনীতি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বাজারের স্বাধীনতা প্রয়োজন; কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টি এটি দিতে চায় না।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ চলছে: চীনের এই বিশ্বব্যাপী অবকাঠামো ও বাণিজ্য উদ্যোগ ক্রমবর্ধমান। এর মাধ্যমে চীন বিশ্বে অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বাড়াচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ এড়াচ্ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকে বৈচিত্র্যময় করছে।
আফ্রিকায় প্রতিযোগিতা: চীনা বিনিয়োগ ও অবকাঠামো আফ্রিকায় বাড়ছে। তবে এটি রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক এবং মানবিক দিক থেকে সমস্যার সৃষ্টি করছে। আফ্রিকার জনগণ প্রায়ই পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন ভালো প্রতিযোগিতা: ইতিহাস থেকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সময় অনেক উন্নতি করেছে। এখন চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় শিল্পায়ন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক নেতৃত্বে উদ্যমী করছে।
ইউরোপের পরিস্থিতি: ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ এবং মার্কিন নেতৃত্বের মনোভাব ইউরোপের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
লাভবান হচ্ছে রাশিয়া: সিএনএন বলছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীল সম্পর্কের পথে ইউরোপকে একটি অগণতান্ত্রিক বাধা হিসেবে দেখাতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর তা রাশিয়ার কর্মকর্তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির ভাষা কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে— তা স্পষ্ট। ক্রেমলিন চাচ্ছে ইউরোপীয়রা আতঙ্কিত হোক। কারণ, এসব কথা তাদের ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ককে নড়বড় করে দিচ্ছে।