

সুভাষ দত্ত প্রখ্যাত বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতা, সিনেমা চিত্রশিল্পী ও অভিনেতা। তিনি ষাটের দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। সুভাষ দত্তর জন্ম ১৯৩০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মামার বাড়িতে, দিনাজপুরের মুন্সিপাড়া নামক স্থানে। তার পৈতৃক বাসস্থান বগুড়া জেলার চকরতি গ্রামে। প্রথমে অভিনেতা হিসেবে, তারপর পরিচালক। দুই জায়গায় তিনি এমন কিছু কাজ করেছেন, যা কোনোদিনই ভোলার নয়। সুচন্দা, উজ্জ্বল, শর্মিলী আহমেদ, ইলিয়াস কাঞ্চন, কবরী, আহমেদ শরীফের মতো অভিনয়শিল্পীরা এসেছিলেন তার হাত ধরে। আজ সুভাষ দত্তের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের ১৬ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। সুভাষ দত্ত ১৯৫৫ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ দেখে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হন। এহতেশামের ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। এ দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশের পোস্টার ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৪ সালের ২৩ এপ্রিল মুক্তি পায় সুভাষ দত্ত নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘সুতরাং’। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফলতা পায়। এ ছবি দিয়েই অভিনেত্রী হিসেবে যাত্রা কবরীর। সুভাষ দত্তের সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘আবির্ভাব’, ‘বসুন্ধরা’, ‘আগমন’ অন্যতম। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ প্রযোজক-পরিচালকের পুরস্কারে ভূষিত করে। এ ছাড়া তাকে ১৯৯৯ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।