

১১ রানে ২ উইকেট। ২৪ বলের মধ্যে ১৬টিই ডট। এমন স্পিন ঘূর্ণিতেই আবুধাবিতে আফগানিস্তানকে বধের নায়ক নাসুম আহমেদ। ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন বাঁহাতি এ স্পিনার। এশিয়া কাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই দলকে জেতান তিনি। একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও যখনই সময় আসে, নিজের সর্বোচ্চটা দেন বলে জানিয়েছেন নাসুম। আফগান ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
টি-টোয়েন্টিতে একটা সময় দলের নিয়মিত বোলার ছিলেন নাসুম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কম্বিনেশন কিংবা নানা কারণেই একাদশে এখন সুযোগ পেতে বেশ অপেক্ষায়ই থাকতে হয় তার। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি সিরিজ খেললেও নাসুমের একাদশে সুযোগ মিলেছে মোটে চার ম্যাচে; এর মধ্যে দুটিই আবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। সর্বশেষ যে ম্যাচে একাদশে ছিলেন, তখনো ছিলেন ম্যাচসেরা; কিন্তু এশিয়া কাপে পরপর দুই ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল তার। ফেরার পর দাপুটে পারফরম্যান্সে আবারও ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি। দলের প্রয়োজনে সব সময় সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফিরে এসে ম্যান অব দ্য ম্যাচ, এরকম কিছু না। আমি কিন্তু শেষ ম্যাচেও ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলাম। আর আমার দলের যখন যাকে প্রয়োজন—এটা হতে পারে আমাদের দলের পরিকল্পনা বা টেকনিক, ট্যাকটিক্সও হতে পারে বিপক্ষ দল নিয়ে। ওইটার কারণে (একাদশে ছিলাম না)। ওগুলো নিয়ে আমরা কোনো আপ অ্যান্ড ডাউনে নেই। আমরা মানসিকভাবে সবসময় প্রস্তুত থাকি। যে যখন খেলবে, তখন ভালো খেলারই চেষ্টা করবে।’
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নিজের সর্বশেষ ম্যাচেও ৩ উইকেট নেন নাসুম। সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, আমি সবসময় প্রস্তুত থাকি খেলার জন্য। যখনই সুযোগ আসে, চেষ্টা করি নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার এবং আলহামদুলিল্লাহ, অনেক সময় হয়, অনেক সময় হয় না; কিন্তু এটার জন্য আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া, আমি এভাবে পারফর্ম করতে পারি।’ জিতলেও এখনো সুপার ফোরে খেলার নিশ্চয়তা মিলছে না নাসুমদের। অপেক্ষা করতে হচ্ছে আফগান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের দিকেও। লঙ্কানরা জিতে গেলে কোনো হিসাব ছাড়াই বাংলাদেশ খেলবে সুপার ফোরে। তবে এসব নিয়ে ভাবতে চান না নাসুমরা, ‘এইটা তো একটু আগেই বললাম, যারা ভালো খেলবে ওরাই জিতবে। নির্দিষ্ট করে কাউকে সাপোর্ট করা বা কারও জন্য দোয়া করা—এটা প্রয়োজন আমি মনে করছি না, কপালে যেটা লেখা আছে ওইটাই হবে। আমরা এটা নিয়ে এত ভাবছি না, যা হওয়ার তাই হবে।’