

ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগার সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন; পরবর্তী সময়ে ভারতের ট্রফি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। মাঠের ঘটনা গড়িয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করেছেন, রিটুইট করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি। এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ঘটনাচক্র মনে করিয়ে দিয়েছে যে, খেলাধুলা ও রাজনীতি একটি অন্যটির চেয়ে আলাদা নয়। আরব আমিরাতে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের আগে ক্রীড়াবিশ্ব এমন অনেক ঘটনাই দেখেছে, যা রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত ছিল। এমন কিছু ঘটনাই তুলে ধরা হচ্ছে কালবেলা পাঠকদের জন্য
রক্তাক্ত পানি
১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিকে হাঙ্গেরি-সোভিয়েত ওয়াটার পোলো ম্যাচের এক মাস আগে সোভিয়েতরা হাঙ্গেরিতে গণবিদ্রোহ দমন করেছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলায়নি হাঙ্গেরিয়ানরা। ম্যাচে সোভিয়েত খেলোয়াড় ভ্যালেন্তিন প্রোকোপভের ঘুষিতে রক্তাক্ত হন হাঙ্গেরির আরভিন জ্যাডর। ওই ঘটনা ‘ব্লাড ইন ওয়াটার’ নামে পরিচিত।
চিলিতে খেলতে অস্বীকৃতি
১৯৭৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাই প্লে-অফে মুখোমুখি সোভিয়েত ইউনিয়ন-চিলি। প্রথম লেগ গোলশূন্য ছিল। ফিরতি লেগ সান্তিয়াগোর জাতীয় স্টেডিয়ামে। সামরিক অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে স্টেডিয়ামে মানুষকে বন্দি অবস্থায় নির্যাতনের পর হত্যা করার অভিযোগে সোভিয়েতরা ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, চিলি ওয়াক ওভার পেয়ে বিশ্বকাপে যায়।
অলিম্পিক বর্জন
আফগানিস্তানে পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক বয়কট করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নেতৃত্বে ৬৫ দেশ অলিম্পিক বয়কট করেছিল, যে কারণে গেমসের আকৃতি ছোট হয়ে আসে। ১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন গেমসের পর সবচেয়ে ছোট অলিম্পিক ছিল ওটা, অংশগ্রহণ করেছিল ৮০ দেশ।
উত্তাপের ম্যাচে সৌহার্দ্য
রাজনীতির ম্যাচ বরাবরই আলোচনা, সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে। তেমনই এক ম্যাচ ছিল ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে দ্বৈরথ ছিল আলোচিত। ২১ জুন লিঁও শহরে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। রাজনৈতিক কারণে ম্যাচ ঘিরে উত্তাপ, কৌতূহলী দৃষ্টি ছিল সবার—কী ঘটতে যাচ্ছে! ম্যাচের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলারদের হাতে সাদা গোলাপ তুলে দিয়েছিলেন ইরানি খেলোয়াড়রা। দুই দলের সদস্যরা তুলেছেন গ্রুপ ছবি। ম্যাচে ইরান ২-১ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে দেয়। এ লড়াইয়ের মাধ্যমে দুই দল দিয়েছে সৌহার্দ্যের বার্তা। ‘মাদার অব ম্যাচেস’ নাম পাওয়া লড়াই হয়ে উঠল বন্ধুত্বের প্রতীক। যাকে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা (ফিফা) ও জাতিসংঘ ‘স্পোর্টস ফর পিস’ আন্দোলনে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
সোভিয়েতের পাল্টা বর্জন
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮০ সালের মস্কো গেমস বর্জন করেছিল, জবাব দিতে চার বছর পর লস এঞ্জেলস গেমস বর্জন করেছিল সোভিয়েতরা। সোভিয়েত ইউনিয়নকে অনুসরণ করেছিল আরও বেশ কয়েকটি দেশ। তার পরও গেমস অবশ্য সফল হয়েছিল। ১৪০ দেশ অংশগ্রহণ করে, যা ছিল ওই সময়ের রেকর্ড।
হ্যান্ড অব গড
ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড যুদ্ধ জন্ম দিয়েছিল ‘হ্যান্ড অব গড’।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাতে গোল করা ম্যারাডোনা যাকে আত্মজীবনীতে ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। আলোচিত ম্যাচ নিয়ে ফুটবল ঈশ্বর খ্যাত ম্যারাডোনার উক্তি ছিল, ‘আমরা শুধু একটা ম্যাচ জিতিনি, একটা
দেশকে হারিয়েছি।’
কাতালান আন্দোলন
বার্সেলোনার বিভিন্ন ম্যাচে কাতালান স্বাধীনতা আন্দোলনের ব্যানার, প্লে-কার্ড দেখা যায়। এ ইস্যুতে আলোচিত ছিল ২০১৯ সালের এল ক্লাসিকো। ন্যু ক্যাম্পে হাজার হাজার দর্শক ব্যানার, প্লে-কার্ড হাতে স্প্যানিশ সরকারের প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। স্টেডিয়ামের বাইরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষও হয়েছিল।