

ফিফার আইন, নীতিমালা সুস্পষ্ট। লঙ্ঘন করলে শাস্তি অবধারিত। এ আইনের কারণে জাতীয় দল এবং ক্লাব দলগুলোকে চলতে হয় কঠিন বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে। এ অবস্থার মধ্যেও নানা শাস্তি ও নিষেধাজ্ঞার খবরও আসছে। বাংলাদেশের ক্লাবগুলো সম্প্রতি শাস্তির কারণে শিরোনামে আসছে।
ফিফা কিন্তু শুধু শাস্তি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেই বসে থাকে না। বরং কর্মপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবগত করতে বড় বিনিয়োগও করে থাকে। যার মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় সংস্থা ও ক্লাবগুলো সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে পারে, কমাতে পারে শাস্তির ঝুঁকিও। দেশের ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিদের নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করতে নানা কার্যক্রম হাতে নিয়ে থাকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এসব কার্যক্রমে ক্লাবগুলোর অনাগ্রহ স্পষ্ট। এটিই হয়তো পারিশ্রমিক ইস্যুতে বিভিন্ন ক্লাবের ধারাবাহিক জটিলতার অন্যতম কারণ।
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবের ওপর দশটি নিষেধাজ্ঞার খড়্গ ঝুলছে। চার ক্লাবের ওপর দশটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ফিফা। তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। গত বুধবার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির ওপর খেলোয়াড় নিবন্ধনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা। ২০২২-২৩ মৌসুমে সাদা-কালো জার্সিধারীদের হয়ে খেলে গেছেন ইরানের ফুটবলার মাইসেম শাহ জাদেহ। তিনি ফিফার কাছে নালিশ করেছেন যে, ‘আমাকে পারিশ্রমিকের অর্থ বুঝিয়ে দেয়নি মোহামেডান।’ সে অভিযোগ আমলে নিয়ে ফিফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের ওপর। এ খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিবাদ মীমাংসা করতে প্রাথমিকভাবে তিন মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে না পারলে বড় জটিলতা আসন্ন।
মোহামেডান ছাড়া বাকি যে ক্লাবগুলো জটিলতার খড়্গে পড়েছে, তাদের অন্যতম সকার ক্লাব ফেনী। ২০২২ সালের ২ আগস্ট ক্লাবটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এ নিষেধাজ্ঞার ধরনটা জটিল—ফিফা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে না প্রিমিয়ার লিগের সাবেক ক্লাবটি। ২৩ অক্টোবর বসুন্ধরা কিংসের ওপরও এমন একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা হলে প্রিমিয়ার লিগের মধ্যবর্তী দলবদলে কোনো ফুটবলারকে নতুন করে নিবন্ধন করতে পারবে না হালের পরাশক্তিরা। এ ছাড়া বসুন্ধরা কিংসের ওপর চারটি আলাদা নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে, যার মেয়াদ ৩ মাস।
তার বাইরে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ওপর দুটি পৃথক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ৬ জানুয়ারি আরেকটি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা। তিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৩ মাসের। ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা অনেকটা প্রাথমিক সতর্কতার মতো। অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যা মিটিয়ে নিতে সাধারণত এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়ে থাকে। সমস্যা সমাধান না করা হলে দীর্ঘমেয়াদে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। যে চার ক্লাব বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে, তার দুটি—মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংস প্রিমিয়ার লিগে খেলছে। বাকি দুটি ক্লাব ঘরোয়া শীর্ষ লিগে নেই।