

ঢাকা মহানগরীর ৭৬ ক্লাবের ৪৩ আর বিসিবির নতুন পর্ষদ। মুখোমুখি দুই পক্ষ। মাঠের বাইরে নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া দুপক্ষের লড়াইয়ের শুরু আজ নির্ধারিত প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের দলবদল কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। লিগ বর্জন করা ৪৩ ক্লাবের দাবি, প্রথম বিভাগ পিছিয়ে নিতে হবে জানুয়ারিতে। বিসিবি নির্বাহী পর্ষদের কঠোর সিদ্ধান্ত, যে কটি দলই হোক না কেন, প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ শুরু হবে ১৮ নভেম্বর, আর দলবদল করতে হবে নভেম্বরের ৫-৬ দুই দিন। সেই হিসেবে আজ সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে দলবদল। সব প্রস্তুতিও শেষ করে নিয়েছে আয়োজক সিসিডিএম—জানালেন বোর্ড পরিচালক ও সিসিডিএর চেয়ারম্যান আদনান রহমান দীপন।
এদিকে প্রথম বিভাগে খেলা ২০ ক্লাবের মধ্যে ৮টি সোমবার লিগ বর্জনের কথা জানিয়ে বিসিবিতে পত্র দিয়েছে। সিসিডিএম সূত্র জানিয়েছে, বর্জনের ঘোষণা দেওয়া চারটি ক্লাব আজ থেকে শুরু হওয়া দলবদলে অংশ নেবে। অন্য চারটি ক্লাবকে দলবদলে অংশ নিতে নানাভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সিসিডিএম। সিসিডিএম চেয়ারম্যানের দাবি, দলবদলে অংশ নেওয়া ক্লাবের সংখ্যা ১২ থাকবে না। এই সংখ্যা বাড়বেই।
তবে ৪৩ ক্লাবের লিগ বর্জনের হুমকিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছে বিসিবি। লিগ বর্জনের পত্র প্রাপ্তির জবাবে বিসিবির পক্ষ থেকে সমঝোতা প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে কঠোর হুঁশিয়ারি। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বিসিবির নির্বাহী কমিটির সভাতেই পরিবর্তন আনা হয়েছে ঢাকার লিগগুলোর জন্য প্রণীত প্লেয়িং কন্ডিশনে। বিসিবির সভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক, আসন্ন মৌসুমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে কোনো দল লিগে অংশ না নিলে বা লিগ চলাকালে মাঝপথে সরে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দলটিকে লিগে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে এবং অবনমিত করা হবে। লিগে বহিষ্কৃত ক্লাবগুলোর আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।
সিসিডিএম চেয়ারম্যান আদনান রহমান দীপন আরও জানান, নানা কারণে তাদের দাবীকৃত সময়ে প্রথম বিভাগ লিগ চালানো সম্ভব নয়। আর এসময় না হলে নির্বাচন, বৃষ্টি, অন্য লিগসহ আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার কারণে এ মৌসুমে লিগ আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে। সেসবের সঙ্গে ক্রিকেটারদের অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই আমরা এসময়টি প্রথা মেনে নির্ধারণ করেছি। লিগের জন্য তাদের দাবি করা সময় আর বিসিবির বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ব্যবধান মাত্র এক মাস। ক্রিকেটারদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে তাদের উচিত বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা। যে কাজটি করেছে বর্জনের পক্ষে থাকা খালেদ মাহমুদ সুজন ও তামিম ইকবালদের ক্লাব শাইনপুকুর ও ওল্ড ডিওএইচএস। এ ছাড়াও প্রথম বিভাগ লিগে অংশ নেওয়া অন্য ক্লাবগুলো হলো উত্তরা সিসি, বাংলাদেশ পুলিশ সিসি, শেখ জামাল ক্রিকেটার্স, লালমাটিয়া ক্লাব, বসুন্ধরা রাইডার্স, প্রাইম দোলেশ্বর এসসি, ঢাকা স্পার্টানস ক্রিকেট ক্লাব, ব্লুজ ক্রিকেটার্স, বারিধারা ডেজলার্স ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)।
সিসিডিএম চেয়ারম্যান আদনান রহমান দীপন জানান, ক্লাবগুলোর অনুরোধের ভিত্তিতে চলতি মৌসুমে সব লিগে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য অনুদান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। যে কারণে প্রথম বিভাগের একটি ক্লাব শুধু অংশগ্রহণের জন্য পাবে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এর সঙ্গে অন্যসব আর্থিক সুবিধা মিলিয়ে একেকটি ক্লাবের অ্যাকাউন্টে যাবে ১৭ থেকে ১৮ লাখ টাকা।
ঢাকার লিগগুলোর জন্য এত বড় বাজেট! বিপরীতে সারা দেশের ক্রিকেটের জন্য বিসিবির বরাদ্দ কত? সাথে বোনাস ঢাকার ক্লাবগুলোর জন্য পরিচালকদের ১২টি পদ। পাশাপাশি সারা দেশের জন্য বরাদ্দ ১১টি পদ। তবুও ঢাকার ক্লাবগুলোর লিগ বর্জনের এই হুমকি—বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জেলা-বিভাগীয় সংগঠকদের পক্ষ থেকে এমন পুরোনো প্রশ্ন আবারও জোরালো হয়ে উঠছে বলে জানালেন সিসিডিএম চেয়ারম্যান।