

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এনইইটি প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে কংগ্রেসের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দিনজুড়ে বিক্ষোভ, অবস্থান ও আটকের ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর এনডিটিভির।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় করছে এবং তাদের স্বার্থকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। আটকের পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন।
আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে ৫টি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো
১. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
২. শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার।
৩. শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনে সরকারের পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা।
৪. বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা।
৫. দ্রুত শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? কেন শিক্ষা এত ব্যয়বহুল? কেন সন্তানদের পড়াতে গিয়ে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে? এগুলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক প্রশ্ন এবং এগুলো করা কোনোভাবেই ভুল নয়।’
তিনি জানান, বিরোধী জোটের সব দলই বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় এ বিষয়ে আলোচনা চায়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাহুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যারা লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিক্ষোভস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তার দাবিগুলো শোনেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদে আলোচনা চাওয়ার আগের অবস্থান থেকে সরে এসে এখন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন।
অন্যদিকে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও রাতে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আলোচনায় প্রস্তুত থাকার পরও কংগ্রেস রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ করেছে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘তাদের লক্ষ্য কখনোই শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান ছিল না। বরং রাজনৈতিক প্রচারের জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি করা।’