

প্রাথমিক পর্বের খেলা এক ভেন্যু, ভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজন করা হয় পদক নির্ধারণী ম্যাচ—বিশ্ব আরচারিতে এটা জনপ্রিয় মডেল; কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ মডেল কতটা কার্যকরী—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আসন্ন এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ দুই ভেন্যুতে আয়োজন করতে গিয়ে জটিলতা হবে না তো!
আশঙ্কটা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ আরচারি ইভেন্ট আয়োজনের জন্য বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়। এ সরঞ্জাম এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে স্থানান্তর একদিকে বড় ঝামেলার কাজ, অন্যদিকে বাড়ছে খরচও। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা ব্র্যান্ডিংয়ের। বাংলাদেশ আরচারির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ব্র্যান্ডিংয়ের বিপুল সরঞ্জাম সরবরাহে গলদঘর্ম অবস্থা তৈরি হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে নাকি পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানটি সিটি গ্রুপ অপারগতাও জানিয়েছে!
এশিয়ান আরচারির সর্বোচ্চ আসরের প্রাথমিক পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচের জন্য এ ভেন্যু ছেড়ে দিতে হবে ফুটবলকে। এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের বাকি অংশ আয়োজিত হবে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে। স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল মালপত্র স্থানান্তর করা একদিকে ঝুঁকির, অন্যদিকে বড় ঝামেলারও কাজ। এই ঝুঁকি ও ঝামেলা এড়াতে বাংলাদেশ-নেপাল ফিফা প্রীতি ম্যাচ ভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজন করা যেত। কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কর্মকর্তারা ম্যাচ ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামেই আয়োজন করার জন্য গোঁ ধরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনড় অবস্থানের কারণে বিকল্প ভেন্যুতে আসরের একাংশ ভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজনের ঝুঁকির পথটাই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশন।
‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরচারির ইভেন্টগুলো একাধিক ভেন্যুতে আয়োজিত হয়ে থাকে। প্রাথমিক পর্বের খেলা হয় এক ভেন্যুতে। পদক নির্ধারণী ম্যাচ হয় আরেক ভেন্যুতে। আমরা সে মডেলটাই অনুসরণ করছি। এক ভেন্যু থেকে সবকিছু আরেক ভেন্যুতে স্থানান্তর করা জটিলতা ও ঝুঁকির কাজ। কিন্তু আমরা সেটা করতে প্রস্তুত’—কালবেলাকে বলছিলেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ। বাংলাদেশ যখন এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের বিডিংয়ে অংশ নিয়েছিল, তখন কিন্তু ভেন্যু হিসেবে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামকে দেখানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাধ্য হয়ে আর্মি স্টেডিয়ামকেও যুক্ত করেছেন স্থানীয় আয়োজকরা।
আসরের চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকির দিকটা তুলে ধরতে গিয়ে বাংলাদেশ আরচারির এক টেকনিক্যাল অফিসিয়াল কালবেলাকে বলছিলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মডেল আমরা তখনই অনুসরণ করতে পারি, যখন তাদের মতো সক্ষমতা অর্জন করব। আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা আছে, সীমাবদ্ধতা আছে ক্রীড়া সামগ্রীরও। ক্রীড়া সামগ্রী পর্যাপ্ত থাকলে দুই ভেন্যুতে ভিন্ন সেটআপ তৈরি করা যেত। এখন একই সেটআপ দুই ভেন্যুতে ব্যবহারের ফলে খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
৮ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে ২৪তম এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ। ৮ থেকে ১২ নভেম্বর খেলা হবে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে। পরে আসরটি স্থানান্তরিত হবে বনানীতে, ১৩ ও ১৪ নভেম্বর বাকি অংশের খেলা হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। আসরের প্রাথমিক পর্বের খেলা ম্যাচগুলো জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ব্যক্তিগত, গলগত ও মিশ্র দলগত ইভেন্টের খেলা অনুষ্ঠিত হবে আর্মি স্টেডিয়ামে।