

কে সেরা—লিওনেল মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো! এই তর্কের হয়তো মীমাংসা হবেও না। মেসির বিশ্বকাপ জেতা কিংবা রোনালদোর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স; দুজনের ঈর্ষণীয় সব অর্জন নিয়ে কম তো মাতামাতি নেই। বিশ্বকাপ মঞ্চে যা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় ভক্তদের মনে। এত এত তর্কবিতর্কের পরও কখনোই দুই তারকার দ্বৈরথ দেখা যায়নি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে। এবার হয়তো সেরকম কিছুই ঘটতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হতে যাওয়া আসন্ন বিশ্বকাপে। শুধু তাই নয়, সমীকরণ ধরে এগোতে পারলে ফাইনালের আগেই দেখা মিলতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনারও। সেক্ষেত্রে অন্তত একটি লাতিন দলের ফাইনাল খেলাটাও নিশ্চিত হবে।
ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি ওভালে শুক্রবার রাতে হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপের ড্র। গ্রুপ পর্বে ভাগ্যকে সঙ্গী করতে পেরেছে মেসি ও রোনালদোর দল। তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষই পেয়েছে তারা। গ্রুপ ‘জে’তে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। গ্রুপ ‘কে’তে থাকা পর্তুগালের প্রথম দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। বাকি একটি দল হতে পারে প্লে-অফ থেকে উঠে আসবে। সম্ভাব্য দলের মধ্যে আছে ডিআর কঙ্গো, জ্যামাইকা, নিউ ক্যালিদোনিয়ার। এখানে জয়ী দলটিই হবে পর্তুগিজদের সঙ্গী। এবার গ্রুপগুলোর নকআউট পর্ব থেকে শুরু করে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দেখলে মেসির সঙ্গে দেখা মিলতে পারে রোনালদোর দ্বৈরথের।
কাতার বিশ্বকাপের একটি ছবি নিশ্চয়ই আপনার মনে থাকার কথা। একটি দাবার কোর্টের দুই পাশে মেসি ও রোনালদোর লড়াই। ছবিটিতে একই সময় দুজন না থাকলেও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দুজনকে একই ফ্রেমে এনেছিল একটি প্রতিষ্ঠান। বাণিজ্যিক কারণেই সে ছবি প্রকাশ করেছিল তারা, রীতিমতো ভাইরালও হতে দেখা গেছে। যদি বিশ্বকাপ মঞ্চেই ৯০ মিনিট দুজনের দ্বৈরথ দেখা যায়, সেটা কেমন হতে পারে চিন্তা করছেন! বিশ্বকাপ ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে সেই ম্যাচটির সম্প্রচার। আয়ের কথাও আপাতত বাদই থাকল। আগে জানা যাক, কীভাবে দেখা মিলতে পারে দুই মহা তারকার।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের হিসাব বলছে, কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা মিলতে পারে মেসি ও রোনালদোর। তবে কিছু হিসাব নিকাশও আছে। প্রথমেই দুই দলকে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থাকতে হবে। শক্তি, সামর্থ্য কিংবা পরিসংখ্যান বলছে, ‘জে’ ও ‘কে’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের। আর্জেন্টিনার জন্য খুব কঠিন হওয়ার কথাও নয়। তবে পর্তুগালকে গ্রুপসেরা হতে হলে কলম্বিয়ার বাধা টপকাতে হবে। আর সেটা সম্ভব হওয়ার পর নকআউট পর্বে জিতে আসতে হবে তাদের। সেখান থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেরা নিজেদের মুখোমুখি হবে। এ দুই দলের সমীকরণ মতো এগোতে পারলে কোয়ার্টারে ইংল্যান্ডকে পাবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল থেকে জেতা দুই দল খেলবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। অর্থাৎ দুই ইউরোপিয়ান কিংবা দুই লাতিন দলের দেখা মিলতে পারে সেমিফাইনালে। আবার এক ইউরোপিয়ান ও এক লাতিনকেও দেখা যেতে পারে শিরোপার মঞ্চের দৌড়ে। সবকিছুর হিসাব মিলবে দলগুলোর সেরা পারফরম্যান্সের পরই।