

২০২৪ সালের ফুটবল বর্ণময় করে তুলেছে স্পেন আর আর্জেন্টিনা। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সাড়া ফেলেছিলেন রদ্রি এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন রদ্রি। আর ফিফা দ্য বেস্ট হয়েছিলেন ভিনি। ২০২৫ সালে অবশ্য ব্যালন ডি’অর এবং ফিফা দ্য বেস্ট উঠেছে উসমান দেম্বেলের হাতে। এবং ফরাসি তারকার দাপটেই ইতিহাস গড়েছে পিএসজি। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে দলটি। ফুরিয়ে যেতে থাকা বছরে ক্লাব বিশ্বকাপ উঠেছে চেলসির হাতে। জায়ান্ট কিলার হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে এফএ কাপ জিতেছে ক্রিস্টাল প্যালেস। মেয়েদের ইউরোতে দর্শক উপস্থিতি তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে ফুটবল স্কাউটিংয়ের বিপ্লবটাও কারও চোখ এড়ায়নি। এসব নিয়েই কালবেলার এ বছরের ফুটবল সালতামামি...
পিএসজির ইতিহাস
প্রায় ৩২ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে ফ্রান্সের ক্লাব। মার্সেইয়ের পর ফ্রান্সের দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে পিএসজি। জার্মানির মাঠে ইতালির ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে ইতিহাস গড়ে তারা। লুইস এনরিকের হাতে পড়ার পরই বদলে যায় ক্লাবটি। সামান্য অর্থ ঢেলে সঠিক পরিকল্পনায় ইউরোপের সেরা ক্লাব হয়েছে তারা। ১৯৯৩ সালে ফরাসি ক্লাব মার্সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল। সেটা ছিল প্রথম। মার্সেই হারিয়েছিল এসি মিলানকে। সেটাও মিউনিখের মাঠেই। ৩২ বছর পর মিউনিখের মাঠের ইন্টার মিলানকে হারিয়ে আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে পিএসজি। রিয়াল মাদ্রিদকে হারানো আর্সেনালকে সেমিফাইনালের দুই পর্বে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল তারা। এরপর ফাইনালে বাজিমাত। ফ্রান্সের সেরা ক্লাব হলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে না পারার হতাশা ছিল। ২০২০ সালে ফাইনালে উঠে হারতে হয়েছিল পিএসজিকে। এবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে থেমেছে তারা।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চেলসি
বিশ্ব ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে পিএসজিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চেলসি। ১ জুন মিউনিখের মাঠে ইন্টার মিলানকে ৫ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা পিএসজি ১৪ জুলাই ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি। আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে চেলসির কাছে ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর মেজাজ হারিয়েছিলেন এনরিকে। ফাইনালের আগে পিএসজিকেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ধরেছিল সবাই। ফাইনালে বিবাদ হয় দুই দলের মধ্যেও। চেলসির গোলদাতা জোয়াও পেদ্রোকে চড় মেরেছিলেন এনরিকে। সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪ গোলে হারিয়েছিল পিএসজি। তার আগে তাদের হাতে বিদায় নিয়েছিল লিয়োনেল মেসির ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে চেলসি নকআউটে বেনফিকা, পালমেইরাস ও ফ্লুমিনেন্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল।
ব্যালন ডি’অর হাতে দেম্বেলে
উসমান দেম্বেলে যে ব্যালন ডি’অর জিততে যাচ্ছেন তা ঘোষণার আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন রদ্রি। তিনি অবশ্য পিএসজির কারও জেতা উচিত বলে দুজনের নাম করেন। একজন উসমান দেম্বেলে, অন্যজন ভিতিনিয়া। পুরস্কার ঘোষণার আগে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা তালিকা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে দেম্বেলেকে পেছনে ফেলেছিলেন লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু প্যারিসের বিখ্যাত থিয়েটার দ্যু শাতলে-তে ব্যালন ডি’অরের নতুন বিজয়ী হিসেবে ইতিহাস গড়েন দেম্বেলে। আগস্টে সম্ভাব্য সেরাদের যে সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হয়েছিল সেই তালিকায় ছিল লামিনে ইয়ামাল, উসমান দেম্বেলে ও ভিতিনিয়ার নাম। সেখান থেকে ইয়ামালেকে হারিয়ে বাজিমাত করেন দেম্বেলে। গত মৌসুমে পিএসজির হয়ে সব মিলিয়ে ৩৫ গোল করেন তিনি। তার দাপটেই পিএসজি জিতেছিল ঘরোয়া ট্রেবল আর চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা।
প্রত্যাশামতোই ফিফা দ্য বেস্ট হন উসমান দেম্বেলে। সেরা নারী ফুটবলার হন আইতানা বোনমাতি। সেরা নারী কোচের পুরস্কার জেতেন সারিনা ভিগমান। সেরা পুরুষ কোচ লুইস এনরিকে। ফিফা ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন ডা. আন্দ্রেয়াস হারলাস-নয়কিং।
এ ছাড়া জায়ান্ট কিলার হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে এফএ কাপ জিতেছে ক্রিস্টাল প্যালেস। মেয়েদের ইউরোতে দর্শক উপস্থিতি তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে ফুটবল স্কাউটিংয়ের বিপ্লবটাও ছিল গত বছর চোখ পড়ার মতো।