

২০০৬ সালের জার্মানির মাটিতে সার্বিয়ার জালে বল জড়িয়ে শুরু হয়েছিল এক অনন্য যাত্রা। দুই দশক পরও সেই গল্পের আলো ম্লান হয়নি। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ গোলযাত্রা শুধু পরিসংখ্যান নয়, ফুটবল ইতিহাসের এক মহাকাব্য।
প্রথম বিশ্বকাপে একটি গোল দিয়ে যাত্রা শুরু করা মেসি ২০১০ সালে গোলশূন্য ছিলেন। সেটা থাকলেও ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন। গ্রুপ পর্বেই চার গোল করে তিনি আবারও প্রমাণ করেন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা বাড়ান আরও এক ধাপ। এরপর আসে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ—যা নিঃসন্দেহে মেসির ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি অধ্যায়। সৌদি আরব, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে তিনি আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দেন ফাইনালে। সেখানে ফ্রান্সের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জোড়া গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে সাত গোল করে অবশেষে ছুঁয়ে ফেলেন সেই স্বপ্ন, যার জন্য অপেক্ষা ছিল সারা জীবনের। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা জয় করে বহুল কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফি।
আর ২০২৬ বিশ্বকাপেও থামেননি তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ১৮-তে। বিশ্বকাপের প্রতিটি মঞ্চে ছড়িয়ে থাকা এসব গোলই মেসির নামকে ফুটবল ইতিহাসে চিরভাস্বর করে রেখেছে। তবে কোথায় গিয়ে থামবেন তিনি সেটা হয়তো নিজেও জানেন না। কারণ, অবসর ভেঙেও তো মাঠে ফিরেছিলেন জাদুকর।